‘কনফ্লুয়েন্স ২০২৭’ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সান হোসেতে
বিশ্বজুড়ে ব্যবসা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের নতুন দিশা নিয়ে আলোচনা করতে আগামী ৯ থেকে ১১ এপ্রিল, ২০২৭, সান হোসের ম্যাকএনারি কনভেনশন সেন্টারে বসতে চলেছে ‘কনফ্লুয়েন্স ২০২৭’-এর প্রথম সমাবেশ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবসা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কেন্দ্রিক এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ঘোষণা করা হয়েছে। প্রযুক্তি, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্টার্টআপের অন্যতম বড় কেন্দ্র হওয়ায় সান হোসেকেই এই সম্মেলনের উপযুক্ত স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যোগ দেবেন বিভিন্ন স্টার্টআপের প্রতিষ্ঠাতারা, বিনিয়োগকারী, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থা, এআই বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্য প্রযুক্তি উদ্ভাবক, ব্যবসায়ী, গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং প্রবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।
আয়োজকদের মতে, ‘কনফ্লুয়েন্স ২০২৭’ শুধু একটি সাধারণ নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক ও উদ্ভাবন-কেন্দ্রিক সম্মেলন, যার মূল উদ্দেশ্য হল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এবং সংস্থার মধ্যে নতুন অংশীদারিত্ব তৈরি করা, বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ান, স্টার্টআপদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করা এবং নতুন প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবার উদ্ভাবনকে সামনে নিয়ে আসা।
এই সম্মেলনের আরেকটি বড় লক্ষ্য হল সিলিকন ভ্যালি, ভারত এবং বিশ্বের উদীয়মান বাজারগুলির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক ও সহযোগিতার পথ তৈরি করা।
সম্মেলনে থাকছে তিনটি বিশেষ ফোরামঃ
ক্যাপিটাল ফোরাম - ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, স্টার্টআপ ফান্ডিং, প্রাইভেট ইক্যুইটি, ফ্যামিলি অফিস, ফাউন্ডার-ইনভেস্টর সংযোগ, গ্রোথ-স্টেজ ফাইন্যান্সিং এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগ-পরিকাঠামো নিয়ে আলোচনা।
ভার্টিকাল ফোরাম - এই ফোরামের মূল বিষয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নতুন প্রযুক্তি, রোবোটিক্স, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক পরিকাঠামো, এন্টারপ্রাইজ ইনোভেশন, এজেন্টিক সিস্টেম এবং উদীয়মান প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম।
ভাইটাল ফোরাম - এই ফোরামে গুরুত্ব দেওয়া হবে স্বাস্থ্যসেবায় নতুন উদ্ভাবনকে। আলোচনা হবে রিজেনারেটিভ মেডিসিন, দীর্ঘায়ু, নিখুঁত স্বাস্থ্য পরিষেবা, মেডটেক, ক্লিনিক্যাল এআই, সার্জিক্যাল প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে।
‘বিল্ড বেঙ্গল x সিলিকন ভ্যালি’
‘কনফ্লুয়েন্স ২০২৭’-এর সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হল ‘বিল্ড বেঙ্গল x সিলিকন ভ্যালি’। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল সিলিকন ভ্যালি ও বাংলার মধ্যে আরও শক্তিশালী যোগাযোগ তৈরি করা। এর মাধ্যমে বাঙালি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা, প্রযুক্তিবিদ, বিনিয়োগকারী, গবেষক এবং শিল্পক্ষেত্রের নেতৃত্বদের একসঙ্গে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
‘কনফ্লুয়েন্স ২০২৭’-এর প্রতিষ্ঠাতা রাহুল রায় এই সম্মেলনের মূল পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। তাঁর কথায়, “এই সম্মেলনকে শুধু প্রবাসীদের মিলনমেলা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে দেখা হচ্ছে না। আমাদের লক্ষ্য হল উদ্যোক্তা, উদ্ভাবন, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে একটি সত্যিকারের আন্তর্জানিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।”
তিনি আরও জানান, বাংলার সঙ্গে পূর্ব ভারতের একটি শক্তিশালী স্টার্টআপ ও বিনিয়োগের পরিবেশ গড়ে তোলাই এই সম্মেলনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক স্তরে একসঙ্গে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরে ‘টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ’-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও চিফ ইনোভেশন অফিসার এবং ‘মেক ক্যালকাটা রেলিভ্যান্ট এগেইন’-এর প্রতিষ্ঠাতা মেঘদূত রায়চৌধুরী বলেন, “ভবিষ্যতের উদ্ভাবন গড়ে উঠবে একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে, যেখানে শিল্প, প্রযুক্তি বা দেশের সীমারেখা বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, বিনিয়োগ, গবেষণা, উদ্যোক্তা এবং শিল্পোন্নয়ন, এগুলি আর বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করবে না। সম্মেলনের মতো জায়গা সেই ক্ষেত্রটি তৈরি করে যেখানে অর্থবহ সহযোগিতা সম্ভব হয় এবং যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রভাব তৈরি করতে পারে।”
‘কনফ্লুয়েন্স ২০২৭’-এ আরও যা থাকছে
ইনোভেশন হাব - এখানে প্রদর্শিত হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্টার্টআপ, রোবোটিক্স, এন্টারপ্রাইজ় সফটওয়্যার, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি, মেডটেক, ওয়্যারেবল ডিভাইস এবং ভবিষ্যতের নানা নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন। এটি হবে নতুন ভাবনা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের একটি বড় প্রদর্শনীর মঞ্চ।
বেঙ্গল স্টার্টআপস শোকেস-এ কলকাতা ও পূর্ব ভারতের উল্লেখযোগ্য স্টার্টআপগুলিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরা হবে। এখানে নতুন উদ্যোক্তারা সরাসরি সিলিকন ভ্যালির বিনিয়োগকারী, বড় সংস্থা, অ্যাক্সিলারেটর এবং ইনোভেশন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলার দ্রুত বেড়ে ওঠা স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তাদেরকেও বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে। এই উদ্যোগে সহযোগিতা করছে ‘টেকনো ইন্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অটল ইনকিউবেশন সেন্টার’, যা পশ্চিমবঙ্গের প্রথম এবং একমাত্র ভারত সরকারের নীতি আয়োগ স্বীকৃত স্টার্টআপ ইনকিউবেটর।
ফাউন্ডার–ইনভেস্টর ম্যাচরুম - এখানে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতারা সরাসরি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থা, ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী, ফ্যামিলি অফিস এবং সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে দেখা ও আলোচনা করার সুযোগ পাবেন।
লাইভ হ্যাকাথন ও স্টার্টআপ শোডাউন - অ্যাপ্লায়েড এআই, নতুন প্রযুক্তি এবং বাস্তব সমস্যার নতুন সমাধানকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হবে লাইভ হ্যাকাথন ও স্টার্টআপ প্রতিযোগিতা।
ক্লোজড-ডোর লিডারশিপ আলোচনা - বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়িক নেতৃত্ব, চিকিৎসক এবং নীতিনির্ধারকেরা বিশেষ আলোচনায় অংশ নেবেন, যেখানে ভবিষ্যতের ব্যবসা, প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে মতবিনিময় হবে।
আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিং ও পার্টনারশিপ ফোরাম - অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ও সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন।
‘কনফ্লুয়েন্স ২০২৭’-এ থাকবে ‘ডাব্লিউআইআরএম ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস’ পার্টনারশিপ। এর মূল লক্ষ্য থাকবে রিজেনারেটিভ মেডিসিন, লংজেভিটি সায়েন্স, অর্থোবায়োলজিক্স, ক্লিনিক্যাল এআই এবং নিখুঁত স্বাস্থ্যসেবার মতো ভবিষ্যতমুখী স্বাস্থ্য প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল নেটওয়ার্ক, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম, প্রযুক্তি সংস্থা, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা কেন্দ্র এবং প্রবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে ইতিমধ্যেই সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছে।
সম্মেলনের প্রধান বক্তা, অংশীদার সংস্থা, স্টার্টআপ অংশগ্রহণ, বিনিয়োগকারী সংযোগ, ইনোভেশন প্রোগ্রাম এবং রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত তথ্য আগামী কয়েক মাসে জানানো হবে।
মিডিয়া ও পার্টনারশিপ সংক্রান্ত যোগাযোগের জন্য নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুনঃ
এই প্রতিবেদনটি ‘টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ’—এর সঙ্গে এবিপি ডিজিটাল ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো দ্বারা যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত।