—প্রতীকী ছবি।
নতুন বাড়ি বা ফ্ল্যাট বহু ভারতীয়েরই স্বপ্ন। মাথা গোঁজার সেই আস্তানা পেতে গৃহঋণ নিতে পিছপা হন না তাঁদের অধিকাংশ। তবে স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের সময় বেশ কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা উচিত। নইলে রিয়্যাল এস্টেটের নিয়ম-কানুনের জটিলতায় পড়ে আর্থিক ভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন গ্রাহক। বাড়তে পারে মানসিক চাপও। কোনটা করা উচিত, আর কী করবেন না? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল তার বিস্তারিত বিবরণ।
প্রথম বার বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহককে আকস্মিকতা বা কন্টিনজেন্সির উপর নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন আর্থিক বিশ্লেষকেরা। এটা প্রকৃতপক্ষে বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার চুক্তিতে লিখিত একটি শর্ত। বিক্রি প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ করার আগে রিয়্যাল এস্টেট সংস্থাকে তা অবশ্যই পূরণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট শর্তগুলি পূরণ না হলে চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন গ্রাহক, যেটা লেনদেনের ক্ষেত্রে তাঁকে বাড়তি সুরক্ষা দেবে।
বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার চুক্তিতে আকস্মিকতা বা কন্টিনজেন্সি হিসাবে সাধারণ ভাবে গ্রাহক গৃহঋণ, যখন-তখন নির্মীয়মাণ সাইট পরিদর্শন-সহ অন্য কিছু শর্ত রাখতে পারেন। কিন্তু চুক্তিপত্রে সংশ্লিষ্ট শর্ত না থাকলে অতিরিক্ত দাম নিয়ে ওই বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনতে গ্রাহককে বাধ্য করতে পারে নির্মাণকারী সংস্থা।
স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল প্রাক অনুমোদনপত্র। গৃহঋণের আবেদনকারীকে তা দিয়ে থাকে ব্যাঙ্ক বা ব্যাঙ্ক-বহির্ভূত আর্থিক সংস্থা (নন-ব্যাঙ্কিং ফিন্যান্সশিয়াল কোম্পানি)। ঋণবাবদ কত টাকা তিনি পাবেন, সেখানে মেলে তার বিস্তারিত বিবরণ। এটা অবশ্য নির্ভর করবে আবেদনকারীর আয়, ক্রেডিট স্কোর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথির উপর।
বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার চুক্তির সময় প্রাক্-অনুমোদনপত্রে চোখ রাখতে পারে রিয়্যাল এস্টেট সংস্থা। সংশ্লিষ্ট নথি থেকে গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতার একটা আন্দাজ পাবে তারা। বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে সম্পত্তির মূল দামের বাইরে কিছু অতিরিক্ত খরচ হয়ে থাকে। চুক্তির সময়ে গ্রাহককে সেটাও ভাল করে বুঝে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন আর্থিক বিশ্লেষকেরা।
স্থাবর সম্পত্তির অতিরিক্ত ব্যয়ের পোশাকি নাম সমাপনী খরচ। নিয়ম অনুযায়ী, লেনদেনের চূড়ান্ত পর্যায়ে তা দিতে পারবেন গ্রাহক। তবে সেটা মোট মূল্যের ২-৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে হবে। সমাপনী খরচের তালিকায় স্ট্যাম্প শুল্ক চার্জ, আইনি নথির ফি এবং গৃহঋণ প্রক্রিয়াকরণের ফি সংযুক্ত করার অধিকার রয়েছে রিয়্যাল এস্টেট সংস্থার।
বিশেষজ্ঞদের কথায়, বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার সময় স্থাবর সম্পত্তির প্রকৃত বাজারমূল্য গ্রাহকের মূল্যায়ন করা উচিত। তা ছাড়া, ক্রেতা এবং বিক্রেতা কোনও পক্ষই যাতে প্রতারিত না হয়, তার জন্য সংশ্লিষ্ট লেনদেন নিরপেক্ষ তৃতীয় কেউ থাকতে পারেন। তাঁর অ্যাকাউন্টে বাড়ি বা ফ্ল্যাট বুকিংয়ের টোকেন টাকা রাখা গ্রাহকের জন্য নিরাপদ, বলছেন বিশ্লেষকেরা।