প্রোটিন খাওয়ার সঠিক সময় কোনটা? ছবি: সংগৃহীত।
ওজন কমানো হোক কিংবা রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তোলা— শরীর চাঙ্গা রাখতে প্রোটিনের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। কী ধরনের খাবার খাচ্ছেন, তার উপর নির্ভর করে শরীর সব ধরনের জরুরি উপাদান পাচ্ছে কি না। সুস্থ থাকতে হলে শরীরে প্রোটিন চাই পর্যাপ্ত পরিমাণে। তবে প্রোটিন খাওয়ারও নিয়ম আছে। খেতে বসে এক বারে অনেকটা প্রোটিন খেয়ে ফেলা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। সারা দিন ধরে পরিমিত মাত্রায় প্রোটিন খেলে তবেই পেশির শক্তি বাড়বে।
শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি মেটানোর জন্য অনেকেই বেশির ভাগ প্রোটিন খান দুপুরে খাওয়ার সময়। খানিকটা সকালের জলখাবারের জন্য বরাদ্দ থাকে। আর বাকিটা রাতে খেয়ে নেন। তবে এটা কিন্তু প্রোটিন খাওয়ার সঠিক নিয়ম নয়। শরীরে ফ্যাট মজুত থাকতে পারে কিন্তু প্রোটিন মজুত রাখার জন্য শরীরে কোনও স্টোরেজ ট্যাঙ্ক থাকে না। শরীরে এক বার প্রোটিন গেলে তার থেকে মাত্র ২০-৪০ গ্রাম প্রোটিন নানা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পেশির গঠনে সাহায্য করে।
যদি এক জন ব্যক্তি একটি খাবারে ৭০ গ্রাম প্রোটিন খান, তা হলে শরীর পেশির টিস্যুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন ব্যবহার করে এবং বাকিটা শক্তির জন্য পুড়িয়ে ফেলে। শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হলে, পেশিগুলি ‘ব্রেকডাউন পর্যায়’-এ পৌঁছে যায়। পেশির মেরামত প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
পেশি তৈরির জন্য, শরীরের মাস্ল প্রোটিন সিন্থেসিস (এমপিএস) নামক একটি প্রক্রিয়া শুরু করে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পেশির টিস্যু মেরামত করে শরীর আর নতুন টিস্যুও তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াটি ভালভাবে তখনই কাজ করবে, যখন এক জন ব্যক্তি তাঁর ওজনের উপর ভিত্তি করে সারা দিন ধরে সঠিক সময় এবং সঠিক মাত্রায় প্রোটিন খাবেন।
কখন কতটা প্রোটিন খাবেন?
প্রাতরাশে: রাতে ঘুমোনোর সময় শরীরের পেশিতন্তুগুলি শক্তির জোগান দিতে থাকে। প্রাতরাশে ৩০ গ্রাম প্রোটিন খেলে পেশির ‘ব্রেক ডাউন’ প্রক্রিয়াটি বন্ধ হবে এবং পেশির মেরামত প্রক্রিয়া শুরু হবে।
শরীরচর্চার পর: শরীরচর্চা করার পরেও শরীরে প্রোটিনের প্রয়োজন হয়। তাই ব্যায়াম করার অন্তত ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই পর্যাপ্ত মাত্রায় প্রোটিন খেতে হবে। এই সময় পেশিগুলির সবচেয়ে বেশি পুষ্টির প্রয়োজন হয়।
ঘুমোনোর আগে: ঘুমোনোর সময়ও পেশির মেরামতের প্রক্রিয়া চলতে থাকে। তাই ঘুমোনোর আগে হজমে সুবিধা হবে এমন প্রোটিন যেমন ছানা, গ্রিক ইয়োগার্ট খাওয়া যেতে পারে।