‘আইআরআইএস লাভান’। —ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফ্রিগেট (ছোট যুদ্ধজাহাজ) ‘আইআরআইএস ডেনা’কে টর্পেডো ছুড়ে ডুবিয়ে দেওয়ার কয়েক দিন আগে আরেকটি ইরানি রণতরীকে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কোচিতে নোঙর করার অনুমোদন দিয়েছিল ভারত। প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণেই ওই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে শুক্রবার এ কথা জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই।
প্রকাশিত খবরে দাবি, ইরানের উপর আমেরিকার এবং ইজ়রায়েলের হামলা চলাকালীন ১৮৩ জন ক্রু সদস্য (জাহাজের আধিকারিক এবং নাবিক)-সহ ‘আইআরআইএস লাভান’। জাহাজটি ৪ মার্চ কোচিতে নোঙর করে এবং মানবিক কারণে তাদের ভারতীয় নৌবাহিনীর স্থাপনায় রাখা হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানায়। ১ মার্চ তেহরানের তরফে এ সংক্রান্ত অনুরোধ পাঠানো হয়েছিল নয়াদিল্লিতে। রাত আগের দিনই ইরানে শুরু হয়েছিল যৌথবাহিনীর হামলা।
বুধবার ভোরে ভারত মহাসাগরের বুকে ইরানি রণতরী ‘ডেনা’-র উপরে হামলা চালায় মার্কিন ডুবোজাহাজ। টর্পেডো ছুড়ে ইরানের যুদ্ধজাহাজকে ধ্বংস করে দেয় তারা। ভারতীয় নৌবাহিনীর আমন্ত্রণে বিশাখাপত্তনমে একটি মহড়ায় অংশ নিতে নিরস্ত্র অবস্থায় গিয়েছিল ডেনা। মার্কিন টর্পেডোর হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত নিহত ৮৭ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গিয়েছে ৩২ জনকে। কিন্তু এখনও প্রায় ৬০ জনের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। বুধবারের ওই হামলাটি হয়েছিল শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে। শ্রীলঙ্কার নৌসেনাই ওই যুদ্ধজাহাজে উদ্ধারকাজ শুরু করে। যে ৩২ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁরা এখন ভর্তি রয়েছেন শ্রীলঙ্কার দক্ষিণে বন্দর শহর গলের এক হাসপাতালে। বুধবারের ওই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার ফের শ্রীলঙ্কার উপকূলের দিকে ইরানের আরও এক যুদ্ধজাহাজ এগোচ্ছে বলে খবর এসেছে।