(বাঁ দিক থেকে) নরেন্দ্র মোদী, ভ্লাদিমির পুতিন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
রাশিয়া ভারতের কাছে কী অশোধিত তেল রফতানি করছে, সে সংক্রান্ত কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আনা হবে না। শুক্রবার ক্রেমলিনের তরফে সরাসরি এ কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দফতরের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের শ্লেষাত্মক মন্তব্য, ‘‘ আমরা অতি অশুভাকাঙ্ক্ষীদের থেকে তা (তেল রফতানির তথ্য) গোপন রাখব।’’
শুক্রবার সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতকে ৩০ দিনের ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল। মার্কিন অর্থ সচিব স্কট বেসেন্ট সেই ঘোষণা করে বলেছিলেন, ‘‘তবে আমাদের একটি শর্ত রয়েছে— এই ছাড় কেবল সমুদ্রপথে আটকে থাকা তেলের ট্যাঙ্কার বা জাহাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।’’ বেসেন্টের ওই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্রেমলিনের মুখপাত্র পেসকভ ভারতে তেল রফতানির হিসাব না দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন।
মস্কো এক সপ্তাহে ২ কোটি ২০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করতে সক্ষম বলে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে বৃহস্পতিবার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সাংবাদিক বৈঠকে সে সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে ওই মন্তব্য করেন পেসকভ। বৃহস্পতিবার, রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত টিভি চ্যানেলে একটি উপগ্রহচিত্রও প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখানে দেখা যায় আরব সাগর থেকে বঙ্গোপসাগরের দিকে ভারতের পূর্ব উপকূলের তেল শোধনাগারগুলির অভিমুখে একাধিক ট্যাঙ্কার চলাচল করছে। তার পরেই রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক বলেন, ‘‘আমরা ভারত ও চিনে অশোধিত তেলের সরবরাহ বাড়াতে প্রস্তুত। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের হুমকির কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিকারক দেশগুলি। তাই রাশিয়া ভারতকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চায় বলে জানিয়েছিলেন তিনি। কারণ ভারত প্রায় ৪০ শতাংশ থেকে আমদানি করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে।
প্রসঙ্গত, আমেরিকা মনে করে তেল বিক্রির অর্থ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে রাশিয়া। তাই রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে মস্কো থেকে তেল আমদানি বৃদ্ধি করায় ভারতের উপর চাপ তৈরি করে হোয়াইট হাউস। এই কারণে ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, রাশিয়ার কাছ থেকে খনিজ তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। এই যুক্তিতে ভারতের উপর যে বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা-ও প্রত্যাহার করে নেন তিনি। যদিও এই বিষয়ে নয়াদিল্লি আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি। বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের তরফে এই বিষয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করে আগেই বলা হয়েছে, জাতীয় স্বার্থই ভারতের বাণিজ্যনীতির প্রধান নির্ধারক। তেল কেনার ক্ষেত্রে একাধিক উৎস বজায় রাখা হবে। কোনও একটি দেশের কাছ থেকে তেল কেনার বাধ্যবাধকতা নেই নয়াদিল্লির।