ফিল্ডিংয়ের সময় হতাশ কোহলি। ছবি: পিটিআই।
ছ’দিন আগে গুজরাতের বিরুদ্ধে ২০০-র উপর রান তাড়া করে ঘরের মাঠে জিতেছিল বেঙ্গালুরু। সেই ম্যাচে ৮১ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা হয়েছিলেন বিরাট কোহলি। বৃহস্পতিবার অহমদাবাদে ফিরতি পর্বের ম্যাচে বড় রান পেলেন না কোহলি। হেরে গেল তাঁর দলও। তবে সহজ ম্যাচও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে জিততে হল গুজরাতকে। প্রথম পর্বে হারের প্রতিশোধও নিল তারা। ম্যাচে বিতর্ক তৈরি হল জেসন হোল্ডারের একটি ক্যাচ নিয়ে। প্রথমে ব্যাট করে ১৫৫ রানে শেষ হয়ে গিয়েছিল বেঙ্গালুরু। গুজরাতের সামনে জয়ের জন্য ছিল ১৫৬ রান। তারা জিতল ৪ উইকেটে।
বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে আগের ম্যাচে যিনি শতরান করেছিলেন সেই সাই সুদর্শন মাত্র ৬ রানে ফিরে যান। তবে আগ্রাসী খেলেন শুভমন গিল। গুজরাত অধিনায়ক দ্রুত ম্যাচ শেষ করতে চাইছিলেন। ভুবনেশ্বর কুমার থেকে জশ হেজ়লউড, আরসিবি-র বোলারদের আক্রমণ করে রান তুলছিলেন তিনি। তবে বেশি ক্ষণ টানতে পারেননি। চারটি চার এবং তিনটি ছয়ের সাহায্যে ১৮ বলে ৪৩ করে ফিরে যান। শুভমনের পর আগ্রাসী খেলেন জস বাটলারও। তিনি দু’টি চার এবং চারটি ছয়ের সাহায্যে ১৯ বলে ৩৯ রান করে ফিরে যান।
গুজরাতের ব্যাটিংয়ের স্তম্ভ প্রথম তিন ব্যাটার। তিন জনেই ফিরে যাওয়ায় চাপে পড়ে গুজরাত। ওয়াশিংটন সুন্দর (১২), শাহরুখ খান (৮) দ্রুত ফিরে যান। ১১১ রানে ৫ উইকেট হারায় গুজরাত। সেখান থেকে ম্যাচ ঘুরে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তা হতে দেননি রাহুল তেওটিয়া এবং হোল্ডার।
চলতি আইপিএলে বেঙ্গালুরুর অন্যতম শক্তি তাদের ব্যাটিং। অথচ বৃহস্পতিবার অহমদাবাদে সেই ব্যাটিংই ডুবিয়েছে বেঙ্গালুরুকে। এই নিয়ে দ্বিতীয় বার এতটা খারাপ ব্যাট করেছে তারা। রান পাননি কোহলি-সহ প্রায় সব ব্যাটারই। দেবদত্ত পডিক্কল ৪০ রান না করলে আরও কম রানে অলআউট হয়ে যেত বেঙ্গালুরু। ১৯.১ ওভারে তারা শেষ হয়ে যায় ১৫৫ রানে। ১২ ম্যাচ পর আইপিএলে অলআউট হয় বেঙ্গালুরু।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খারাপ হয়নি। দ্বিতীয় ওভারে কাগিসো রাবাডাকে টানা পাঁচটি চার মারেন কোহলি। পরের ওভারে মহম্মদ সিরাজের বল মাঠের বাইরে ফেলে দেন। অন্য ম্যাচে তাঁকে ধরে রাখার ভূমিকা নিতে দেখা গেলেও এ দিন শুরু থেকেই আগ্রাসী খেলছিলেন। অথচ কোহলির আগ্রাসন টেকেনি বেশি ক্ষণ।
তৃতীয় ওভারে সিরাজ ফিরিয়ে দেন জেকব বেথেলকে (৫)। পরের ওভারেই আউট হয়ে যান কোহলি। স্টাম্প লক্ষ্য করে রাবাডার করা বল কোহলির ব্যাটে লেগে মিড উইকেটে যায়। ক্যাচ ধরেন রশিদ খান। পর পর দুই ওভারে দু’টি উইকেট হারানোর পর বেঙ্গালুরুর হাল ধরার চেষ্টা করেন পডিক্কল এবং রজত পাটীদার। সিরাজকে একটি ছয় এবং দু’টি চার মেরে রান রেট বাড়িয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন পডিক্কল।
তুলনায় পাটীদার (১৯) একটু ধরে খেলছিলেন। তিনি ফিরতেই বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং ভেঙে পড়ে। তবে যে ক্যাচটি হোল্ডার নেন তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পাটীদারের মারা বলের পিছনে দৌড়চ্ছিলেন রাবাডা এবং হোল্ডার। শেষ পর্যন্ত হোল্ডার ক্যাচটি ধরেন। তবে মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর তাঁর হাতে ধরা বল মাটি ছোঁয়। ক্যাচের বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানায় বেঙ্গালুরু। খোদ কোহলি এগিয়ে এসে চতুর্থ আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। এগিয়ে আসেন কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারও। কিন্তু আম্পায়ারেরা আবেদনে কর্ণপাত করেননি। তাঁরা পাটীদারকে আউট দেন। প্রকাশ্যেই বিরক্তি প্রকাশ করেন কোহলি।
পাটীদারের পর ফিরে যান জিতেশ শর্মা (১), টিম ডেভিড (৯), ক্রুণাল পাণ্ড্যরা (৪)। পডিক্কল ফিরতেই বেঙ্গালুরুর বড় রান তোলার আশা শেষ হয়ে যায়। রোমারিয়ো শেফার্ড (১৭), বেঙ্কটেশ আয়ার (১২) এবং ভুবনেশ্বর কুমার (১৫) কিছুটা রান বাড়িয়ে দেন। তবে লড়াই করার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। গুজরাতের হয়ে তিনটি উইকেট আরশাদ খানের। দু’টি করে উইকেট নিয়েছেন জেসন হোল্ডার এবং রশিদ খান।