—প্রতীকী ছবি।
এসআইপিতে ছোট ছোট মূল্যের বিনিয়োগ কি সত্যিই দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গড়তে পারে? বিনিয়োগের সময় ঠিক কোথায় বা কতটা বিনিয়োগ করা উচিত সে সম্পর্কে বহু প্রশ্নই আমাদের মনে উঁকি দেয়। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, শিক্ষার খরচ, স্বাস্থ্যপরিষেবা খাতে ব্যয় এবং অবসরকালীন পরিকল্পনা সামাল দেওয়ার জন্য শুধুমাত্র ব্যাঙ্কে প্রথাগত সঞ্চয়ই যথেষ্ট বলে মনে না-ও হতে পারে। তাই ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দিন দিন মিউচুয়াল ফান্ডে বাড়ছে লগ্নির পরিমাণ। এই তহবিলে দৈনিক এবং মাসিক দু’ভাবে অর্থ স়ঞ্চয়ের রয়েছে সুযোগ। বহু বিনিয়োগকারীর মনেই দোলাচল রয়েছে, মিউচুয়াল ফান্ড কী ভাবে কাজ করে এবং এটি মধ্যবিত্ত পরিবারে সঞ্চয়ের জন্য উপযুক্ত কি না?
এসআইপি বা সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান, মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করার অন্যতম সহজ পন্থা। বিনিয়োগকারীরা প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা করতে পারেন। কখনও কখনও মাত্র ৫০০ টাকা দিয়েও এসআইপি শুরু করা যেতে পারে। যেহেতু বাজারের অবস্থা অনুযায়ী বিনিয়োগ নিয়মিত ভাবে চলতে থাকে, তাই বিনিয়োগকারীদের বাজারের গতিবিধি বোঝার জন্য চিন্তা করতে হয় না। এসআইপিতে চক্রবৃদ্ধি সুদ পাওয়ার সুবিধাও বাড়তি পাওনা। যেখানে বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত রিটার্ন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত রিটার্ন এনে দেয়। তাই যদি কোনও বিনিয়োগকারী ২৫ বছর বয়স থেকে প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা বিনিয়োগ করতে শুরু করেন এবং বছরে গড়ে ১২ শতাংশ রিটার্ন পেলে ৪০ বছরে তা প্রায় ১ কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে।
একটি মিউচুয়াল ফান্ড হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে এবং তা স্টক, বন্ড, সরকারি সিকিউরিটিজ় ও সোনার মতো সম্পদে বিনিয়োগ করে। স্বতন্ত্র ভাবে স্টক বাছাই করার পরিবর্তে, পেশাদার ফান্ড ম্যানেজারেরা বাজার গতিবিধি নিয়ে গবেষণা করেন। সেই তথ্য যাচাই করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ বাজারে খাটানো হয়। তবে এ ক্ষেত্রে বলে রাখা ভাল মিউচুয়াল ফান্ডে বার্ষিক সুদের হার স্বতঃসিদ্ধ নয়। আর তাই সূচক বছরে ১২ শতাংশের বেশি থাকলে সুদেমূলে আরও বেশি টাকা পাবেন সংশ্লিষ্ট লগ্নিকারী। আবার সুদের হার নিম্নমুখী হলে হাতে আসবে কম টাকা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সূচক ১২ শতাংশের নীচে নামবে বলে মনে করছেন না আর্থিক বিশ্লেষকেরা।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকি সাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই এই তহবিলে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)