TMC Municipality Chairman

জনমতকে মান্যতা: ভদ্রেশ্বরে পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ আট কাউন্সিলরের ইস্তফা, বিজেপি বলল, ‘অন্তরাত্মা জেগে উঠেছে’

বিজেপি কর্মীদের একাংশের দাবি, নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে নাম জড়ানোর আশঙ্কায় সরে যাচ্ছেন প্রলয়। এই দাবি শুনে প্রলয় বলেন, ‘‘আমার পরিবারের কেউ বা দূরসম্পর্কের কোনও আত্মীয়ও পুরসভায় চাকরি করেন না।’’

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ১৯:০৮
ভদ্রেশ্বর পুরসভা।

ভদ্রেশ্বর পুরসভা। — নিজস্ব চিত্র।

এ বার হুগলির ভদ্রেশ্বর। পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ আট জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করলেন। চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তীর দাবি, জনমতকে মান্যতা দিয়েই তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। বিধানসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থীর হারের দায়ও নিয়েছেন তিনি।

Advertisement

তৃণমূলের একটি সূত্রের বক্তব্য, রাজনৈতিক পালাবদলের পরে অনুদান পেতে সমস্যা হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে কাউন্সিলরেরা আর কাজ চালাতে চাইছেন না। বিজেপির একাংশের আবার কটাক্ষ, নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে নাম জড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করেই পদ ছাড়লেন ওই কাউন্সিলরেরা। বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পরে হুগলি জেলায় কোনও পুরসভায় এই প্রথম এত জন পদত্যাগ করলেন।

চন্দননগর বিধানসভার অন্তর্গত ভদ্রেশ্বর পুরসভায় ২২টি ওয়ার্ড রয়েছে। গত পুর নির্বাচনে ২০টিতে জিতেছিল তৃণমূল। একটি আসনে বিজেপি এবং অন্যটিতে নির্দল প্রার্থী জিতেছিলেন। পরে তাঁরা দু’জন তৃণমূলে যোগ দেন। বিরোধীশূন্য এই পুরসভার প্রায় ১৪টি ওয়ার্ডেই বিধানসভা নির্বাচনে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। দলের প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেন চন্দননগর বিধানসভায় পরাজিত হয়েছেন মোট ১৩ হাজার ভোটে। দলের বিপর্যয়ের নৈতিক দায় নিয়েছেন প্রলয়। বৃহস্পতিবার ভদ্রেশ্বর পুরসভার এগ‌্জিকিউটিভ অফিসারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। প্রলয়ের দাবি, পরে তিনি জানতে পেরেছেন, আরও কয়েক জন ইস্তফা দিয়েছেন।

ভদ্রেশ্বর পুরসভার আট তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করায় অবশ্য পুর বোর্ড চালাতে অসুবিধা হবে না বলে খবর। তৃণমূল সূত্রে খবর, ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ খানের নেতৃত্বে চলবে বোর্ড।

প্রলয় ইস্তফা দেওয়ার পরে বলেন, ‘‘ব্যক্তিগত কারণে ইস্তফা দিয়েছি। মনে হয়েছিল কয়েক দিন ধরে, মানুষ যখন সমর্থন করেছিল, কাজ করেছি। এখন মানুষ যাদের সমর্থন করছে, তাদের কাজ করতে দেওয়া উচিত।’’ তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁকে এই বিষয়ে তৃণমূল কোনও নির্দেশ দেয়নি। বিজেপি বা বিজেপির চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহও কিছু বলেননি কখনও। তাঁর কথায়, ‘‘ভয়ের পরিবেশ এখানে কেউ তৈরি করেনি। আগামী দিনেও হবে না।’’

তবে বিজেপি কর্মীদের একাংশের দাবি, নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে নাম জড়ানোর আশঙ্কায় সরে যাচ্ছেন প্রলয়। এই দাবি শুনে প্রলয় বলেন, ‘‘আমার পরিবারের কেউ বা দূরসম্পর্কের কোনও আত্মীয়ও পুরসভায় চাকরি করেন না।’’ উল্টে তিনি বলেন, ‘‘কাগজেকলমে দেখা যাবে, আগের চেয়ারম্যানের সময় নিয়োগ হয়েছিল। আমি চেয়ারম্যান হই ২০১৮ সালে।’’ তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘‘জনমতকে মান্যতা দিয়ে সরছি।’’

বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন যদিও বলেন, ‘‘এ বিষয়ে কথা হয়নি। পদত্যাগ করে থাকলে ভাল, ওদের অন্তরাত্মা জেগে উঠেছে। দুষ্টু লোকদের সঙ্গে ছিলেন। মানুষ পরিষেবা পাচ্ছে না। বিজেপি সরকার সব সময় চাইবে, মানুষ যাতে পরিষেবা পায়।’’ প্রসঙ্গত, বিভিন্ন পুরসভায় বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট পুরসভায় তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

দুর্নীতি, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ-সহ নানা অভিযোগ করে ইস্তফা দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবার পুরসভার আট তৃণমূল কাউন্সিলর। আরও দুই কাউন্সিলরের পদত্যাগ নিয়ে চাপানউতর চলছেই। অচিরেই তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিদ্রোহী কাউন্সিলরেরা খোঁচা দিয়েছেন অভিষেকের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’কে।

Advertisement
আরও পড়ুন