BCCL IPO

বাজারে এ বার ‘কালো হিরের’ চমক! নতুন বছরে স্টকের দুনিয়ায় ‘ঝোড়ো ব্যাটিং’ করবে কোল ইন্ডিয়ার সহযোগী সংস্থা?

শেয়ার বাজারে ‘মেগা এন্ট্রি’ নিতে আইপিও আনছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা কোল ইন্ডিয়ার সহযোগী সংস্থা ভারত কোকিং কোল লিমিটেড। কবে থেকে তাতে করা যাবে আবেদন? স্টক প্রতি মূল্যসীমা থেকে লটের আকারের হদিস রইল এই প্রতিবেদনে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪৩
Representative Picture

আইপিও আনল কোল ইন্ডিয়ার সহযোগী সংস্থা বিসিসিএল। —প্রতীকী ছবি (এআই সহায়তায় প্রণীত)।

নতুন বছরে শেয়ার বাজারে ‘কালো হিরে’র চমক? তালিকাভুক্তিতেই বাম্পার রিটার্ন দেবে সরকারি সংস্থা? স্টকের দুনিয়ায় কোল ইন্ডিয়ার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ভারত কোকিং কোল লিমিটেড (বিসিসিএল) পা রাখতে চলায় তুঙ্গে উঠেছে সেই জল্পনা। ইতিমধ্যেই নিয়ম মেনে ‘ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং’ বা আইপিও এনেছে তারা। আগামী ৯ জানুয়ারি, শুক্রবার থেকে ১৩ জানুয়ারি, মঙ্গলবার পর্যন্ত তাতে করা যাবে আবেদন। সংশ্লিষ্ট আইপিওর মূল্যসীমা (প্রাইস ব্যান্ড) এবং লটের আকার ঘোষণা করেছে বিসিসিএল। অন্য দিকে, মোটা লাভের আশায় এতে আবেদনের ব্যাপারে লগ্নিকারীদের মধ্যে বাড়ছে উৎসাহ।

Advertisement

জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে আসতে চলা এই আইপিওর প্রতি শেয়ারের মূল্যসীমা (প্রাইস ব্যান্ড) ২১-২৩ টাকা ধার্য করেছে বিসিসিএল। এর মাধ্যমে বাজার থেকে ১,০৭১ কোটি টাকা তোলার পরিকল্পনা রয়েছে কোল ইন্ডিয়ার সহযোগী প্রতিষ্ঠানের। অ্যাঙ্কার বুকিংয়ের জন্য আইপিওটির উইন্ডো খুলবে ৮ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার। এর প্রতি লটে ন্যূনতম থাকছে ৬০০টি স্টক। অর্থাৎ কমপক্ষে ১৩ হাজার ৮০০ টাকা দিয়ে আবেদন করতে হবে বিনিয়োগকারীদের।

বিসিসিএলের অন্যতম প্রোমোটার কোল ইন্ডিয়া। এই আইপিওর মাধ্যমে ‘অফার ফর সেলে’ ৪৬.৫৭ কোটি শেয়ার তুলতে চলেছে ওই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। সেখান থেকে প্রাপ্ত অর্থের পুরোটাই যাবে কোল ইন্ডিয়ার কোষাগারে। সংশ্লিষ্ট আইপিওতে আবেদনের ৫০ শতাংশের বেশি স্টক যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতা বা কিউআইবিদের (কোয়ালিফায়েড ইন্সস্টিটিউশনাল বাইয়ার্স) জন্য সংরক্ষিত রাখছে বিসিসিএল।

এ ছাড়া ১৫ শতাংশের কম শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারবেন অ-প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বা এনআইআইরা (নন-ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টরস)। বাকি ৩৫ শতাংশে আবেদন করতে পারবেন খুচরো লগ্নিকারীরা। পাশাপাশি কিছু স্টক সংস্থার কর্মচারী এবং বর্তমান বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

বিসিসিএলের আইপিওর মূল্যসীমা ঘোষণার পর থেকেই ধূসর মার্কেটে (গ্রে মার্কেট) এর স্টকের দাম চড়তে শুরু করেছে। ব্রোকারেজ ফার্মগুলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ইতিমধ্যেই ৭০ শতাংশ বেশিতে চলছে এর লেনদেন। ফলে তালিকাভুক্তিতে আরও দাম চড়তে পারে বলে মনে করছেন আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

উল্লেখ্য, ২০২৫-’২৬ আর্থিক বছরে কোকিং কয়লা উৎপাদনের দিক থেকে বিসিসিএলকে দেশের বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান বলা যেতে পারে। চলতি অর্থবর্ষে দেশের মোট উৎপাদিত কোকিং কয়লার ৫৮.৫০ শতাংশ সরবরাহ করেছে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। ১৯৭২ সালে কোল ইন্ডিয়ার সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে ভারত কোকিং কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড। ২০২২ সালের তাদের মোট কয়লা উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩.০৫ কোটি টন। গত বছর সেটাই বেড়ে ৪.০৫ কোটি টনে পৌঁছে গিয়েছে। অর্থাৎ ওই চার বছরে ৩২.৭৪ শতাংশ বেড়েছে উৎপাদন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ার বাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকি সাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)

Advertisement
আরও পড়ুন