— প্রতীকী চিত্র।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘোরালো হচ্ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিশ্ব বাজারে দাম বাড়ছে অশোধিত তেলের। বৃহস্পতিবার এক সময় ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেল ১২৬ ডলার পেরিয়ে যায়। সূত্রের দাবি, এর জেরে শীঘ্রই পেট্রল-ডিজ়েলের পাশাপাশি ফের গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের দাম বাড়তে পারে। তবে এ দিন রাতে বাণিজ্যিক এলপিজির দাম বাড়ানো হলেও, বাকিগুলি অপরিবর্তিত।
একাধিক সূত্রের খবর, আগামী দিনে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস দামি হতে পারে ৫০-১৫০ টাকা। একাংশের দাবি, দাম বৃদ্ধি হতে পারে কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত। কলকাতায় এই সিলিন্ডার এখন ৯৩৯ টাকা। সূত্র বলছে, ১০০ টাকা বাড়লে দাম ১০৩৯ টাকা হয়ে যাবে। যা সাধারণ রোজগেরে মধ্যবিত্তের ভোগান্তি বাড়াবে। এ দিন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি হোটেল-রেস্তরাঁর গ্যাস কেনার খরচ বাড়িয়ে ৩২০২ টাকায় নিয়ে যাওয়ার পরে আমজনতার দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। এলপিজির পাশাপাশি কাঁপুনি বাড়াচ্ছে পেট্রল-ডিজ়েলও। সংশ্লিষ্ট সব মহলেরই বক্তব্য, জ্বালানির আন্তর্জাতিক দাম যে ভাবে বাড়ছে, তাতে এই দফায় দেশে তেলের দাম না বাড়লেও নিশ্চিন্ত থাকা যাচ্ছে না। তবে সূত্রের দাবি, পেট্রলের দামের থেকেও আগামী দিনে ডিজ়েলের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশি।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য এ দিনও স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বৃদ্ধির কোনও পরিকল্পনা নেই। পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মার কথায়, ‘‘এই সব জ্বালানির দাম পরিবর্তন করার কথা ভাবছি না আমরা।’’ তবে বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, বিশ্ব বাজারে যে ভাবে অশোধিত তেলের দাম বাড়ছে, তাতে দেশের বাজারে এই দাম বৃদ্ধি এড়ানো সম্ভব নয়।
যদিও উদ্বেগজনক ভাবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পরেই এ রাজ্যে গৃহস্থালির গ্যাসের জোগান কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিক্রেতাদের একাংশের। তাঁদের অভিযোগ, এতদিন মোট চাহিদার পুরো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু সম্প্রতি এক মৌখিক নির্দেশিকায় তেল সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে এই ‘কোটা’ ৩০-৩২ শতাংশ কমানো হচ্ছে। মে মাস থেকে এই হারে বিক্রেতাদের কাছে সিলিন্ডার আসবে। তেল সংস্থার তরফে এই দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। সংস্থা সূত্রের খবর, গরম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গোটা দেশ জুড়ে সিলিন্ডারের চাহিদা কমেছে। তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তা পাঠানো হচ্ছে। কোটা কমানোর কোনও সিদ্ধান্ত বা নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি।পেট্রল-ডিজ়েলের ক্ষেত্রেও এ রকম সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি বলেই তেল সংস্থা সূত্রে দাবি।
একটি অংশের দাবি, এখনই তেলের দাম পরিবর্তন চাইছে না কেন্দ্র। সবে ভোট শেষ হয়েছে। এখন এগুলির দাম বাড়ালে সাধারণের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে। গৃহস্থের এলপিজি-ও আবার বাড়ানো একই কারণে কঠিন। ফলে আপাতত আরও সপ্তাহখানেক অপেক্ষা করার কথা ভাবেছেন মন্ত্রকের কর্তারা। তবে তার পরে কী হবে, সেই প্রশ্নে বাড়ছে উদ্বেগ।
বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছুঁয়েছে ব্যারেল পিছু ১২৬ ডলার।
এ দিন রাতেই দেশে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম ৯৯৪ টাকা বাড়িয়ে ৩২০২ টাকা করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি।
অটো এলপিজি-ও লিটার পিছু ৬.৪৪ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮৯.৪০ টাকা।
তবে বাড়িতে রান্নার গ্যাসের দাম বাড়েনি। গত ৭ মার্চ তা ৬০ টাকা বাড়িয়ে ৯৩৯ টাকা করা হয়েছিল।
পেট্রল-ডিজ়েলের দামও অপরিবর্তিত। কলকাতায় পেট্রল এখন লিটারে ১০৫.৪১ টাকা, আর ডিজ়েল ৯২.০২ টাকা।
সূত্রের অবশ্য দাবি, শীঘ্রই বাড়তে পারে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের দামও। বৃদ্ধির পরিমাণ হতে পারে ৫০-১৫০ টাকা।
আপাতত দেশে ৪৩ হাজারের বেশি গ্রাহক এলপিজি ছেড়ে পাইপবাহিত গ্যাসের সংযোগ নিয়েছেন। আরও বেশি মানুষকে তাতে সরানোর চেষ্টা চলছে।
আপাতত দাম না বাড়লেও চিন্তা ক্রমশ বাড়ছে পেট্রল-ডিজ়েল নিয়েও।