—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার বিধানসভায় পূর্বতন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ফিকিকে ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা পাইয়ে দেওয়ার যে অভিযোগ তুলেছিলেন, তা সরাসরি অস্বীকার করল বণিকসভাটি। বুধবার ফিকির সদর দফতর দিল্লি থেকে জানানো হয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত সাতটি শিল্প সম্মেলন থেকে বিভিন্ন খাতে তাদের আয় হয়েছে মাত্র ১৭.৬৪ কোটি টাকা। তার বিস্তারিত হিসেবও দিয়েছে তারা। যেখানে দেখা যাচ্ছে একমাত্র ২০১৯-এ বণিকসভাটি পেয়েছিল ৩.২৩ কোটি। বাকি বছরগুলিতে ২.৩১ থেকে ২.৪৯ কোটি টাকার মধ্যে। যদিও কেন এতটা ফারাক, তার সদুত্তর দিতে পারেনি তারা।
ফিকির দাবি, দেশের একাধিক রাজ্যে শিল্প সম্মেলনের সহযোগী হয়েও মেলে আর্থিক সহায়তা। পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগম থেকে এই টাকা তারা সহযোগী বণিকসভা হিসেবে অন্যদের মতোই পেয়েছে। তবে শিল্পমহলের একাংশের অভিযোগ, ফিকি যে সকলের চেয়ে বেশি সুবিধা ও টাকা পেয়েছে, তা ছিল দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। এর কতটা ঘুরপথে, খতিয়ে দেখা জরুরি।
রাজ্যের একাধিক বণিকসভার শীর্ষকর্তাদের দাবি, বিশ্ব বঙ্গ শিল্প সম্মেলনে (বিজিবিএস) একাধিক অনুষ্ঠান এবং সভা পরিচালনা করলেও তাঁরা সাম্মানিক পাননি। সর্বভারতীয় বণিকসভা সিআইআই-ও এই সম্মেলনের কয়েকটিতে রাজ্যের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু কত পেয়েছে খোলসা করেনি। তবে প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সম্মেলনের নামে রাজ্যের থেকে অনেক অতিরিক্ত সুবিধা পেয়েছে ফিকি। যা শীঘ্রই প্রকাশ্যে আনা হবে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রাক্তন সরকারি আধিকারিক জানান, মূলত সম্মেলনগুলি কী ভাবে হবে, কী কী বিষয়ে ছোট সভা হবে, কোন ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দিতে হবে তা পূর্বতন সরকারের সঙ্গে বসে ঠিক করতেন ফিকির প্রতিনিধিরা। যা হয়েছিল তৎকালীন এক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর ছাড়পত্রে। এমনকি ২০২৩ এবং ২০২৫-এ ফিকির জাতীয় কর্মসমিতির বিশেষ বৈঠকও হয় বিজিবিএসের মঞ্চে। ২০১৪ এবং ২০২২ সালে কর্মসমিতির বৈঠক বসে কলকাতায়। সিংহভাগ ক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। যদিও ফিকি কলকাতার ‘সর্বময় কর্ত্রী’ তথা বণিকসভার ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল মৌসুমী ঘোষের মন্তব্য মেলেনি। শিল্পকর্তাদের কথায়, ‘‘ফিকির সঙ্গে পূর্বতন রাজ্য সরকারের যে গাঁটছড়া, তাতে ১০-১১ বছর ধরে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন মৌসুমী। শিল্প সম্মেলনগুলিতে তাঁর দাপট ছিল সকলের চোখেপড়ার মতো।’’