নির্মলা সীতারামন। — ফাইল চিত্র।
রাজকোষ ঘাটতিতে লাগাম পরাতে গিয়ে সামাজিক উন্নয়নে কোপ!
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন রবিবার তৃতীয় মোদী সরকারের তৃতীয় বাজেট পেশ করার পরে দেখা হল, চলতি অর্থ বছর বা ২০২৫-২৬-এ সামাজিক ক্ষেত্রে বাজেটে যত বরাদ্দ হয়েছিল, তার বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচই করা হয়নি। যেমন, মোদী সরকারের জল জীবন মিশনে এ বছরের বাজেটে ৬৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু সংশোধিত হিসেবে দেখা যাচ্ছে, মাত্র ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। অর্থাৎ, ৫০ হাজার কোটি টাকা খরচই হয়নি। কংগ্রেস নেতা, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমের অভিযোগ, ‘‘নির্মলা সীতারামন আবার জল জীবন মিশনে আগামী বছর ৬৭,৬৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি চলতি বছরে প্রাথমিক বরাদ্দের তুলনায় খরচ ছেঁটে আবার আগামী বছরের বরাদ্দ বাড়িয়েছেন। এর বিশ্বাসযোগ্যতা কী?”
বাজেটের পরিসংখ্যান বলছে, পিএম-আবাস যোজনা (শহর)-এ প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা, গ্রামোন্নয়নে ৫৩ হাজার কোটি টাকা, নগরোন্নয়নে ৩৯,৫০০ কোটি টাকা, সমাজকল্যাণে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা, কৃষিতে ৭ হাজার কোটি টাকা, শিক্ষায় ৬,৭০০ কোটি টাকা, স্বাস্থ্যে প্রায় ৩,৬০০ কোটি টাকা খরচ ছাঁটাই হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে বাজেটের মোট খরচের ১৯ শতাংশ অর্থ সামাজিক উন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা ও মনরেগা বা একশো দিনের কাজের প্রকল্পে বরাদ্দের তুলনায় বেশি খরচ হয়েছে।
মনরেগা তুলে দিয়ে মোদী সরকার এ বার রোজগার গ্যারান্টি দিতে ভিবি-জিরামজি আইন চালু করতে চলেছে। নতুন প্রকল্পে আগামী অর্থ বছরে ৯৫,৬৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। যদিও এই প্রকল্পে মোট খরচের প্রায় ৪০% ব্যয় এখন রাজ্যগুলিকে বহন করতে হবে। পুরনো মনরেগা প্রকল্পের জন্যও বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। অর্থ মন্ত্রকের বক্তব্য, পুরনো বকেয়া পাওয়া খতিয়ে দেখে, তা মেটাতে এই টাকা রাখা হয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, ‘‘তরুণদের হাতে চাকরি নেই। গৃহস্থের সঞ্চয় কমছে। চাষিরা সঙ্কটে। এই বাজেট ভুল সংশোধন না করে দেশের আসল সমস্যা থেকে চোখ বুজে রয়েছে।’’