India-US Trade Deal

আমেরিকায় হিরে, দামি পাথর রফতানিতে শুল্ক শূন্য! মন্দের ভাল, বলছে অলঙ্কারশিল্প

মূল আমদানি শুল্কের উপর তা যোগ করে হয়েছে ২৪%। তাদের বক্তব্য, অতীতের সুবিধা আর না ফিরলেও এই হার মন্দের ভাল। অন্তত কিছুটা রফতানি বাজার ফিরবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:১৯
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো নিয়ে ভারত-আমেরিকা যৌথ বিবৃতি জারির পরে কিছুটা স্বস্তি ফিরল ভারতের রত্ন-অলঙ্কার শিল্পে। যে ২০০টি পণ্যে আমেরিকায় শুল্কের হার শূন্য, তার মধ্যে রয়েছে কাটা এবং পালিশ করা হিরে, রঙিন দামি পাথর। তবে সোনা, হিরে বা রত্নখচিত গয়নায় তা ২৪%। রত্নালঙ্কার শিল্পের একাংশের দাবি, ট্রাম্পের চড়া শুল্ক নীতির আগে দিতে হত ৬%। পরে চাপে মোট ৫০% শুল্ক। এখন আমেরিকা শাস্তিমূলক ২৫% শুল্ক তুলে নিয়েছে। আর পাল্টা ২৫% শুল্ক নেমেছে ১৮ শতাংশে। মূল আমদানি শুল্কের উপর তা যোগ করে হয়েছে ২৪%। তাদের বক্তব্য, অতীতের সুবিধা আর না ফিরলেও এই হার মন্দের ভাল। অন্তত কিছুটা রফতানি বাজার ফিরবে।

শনিবার বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেছেন, ‘‘রত্ন-অলঙ্কার রফতানিতে পশ্চিমবঙ্গ বিরাট লাভবান হবে।’’ তবে এ ক্ষেত্রে রফতানিকারীদের সংগঠন জিজেইপিসি-র পূর্বাঞ্চলের চেয়ারম্যান পঙ্কজ পারেখের দাবি, কলকাতা থেকে হিরে বা দামি পাথর রফতানি হয় না। শুধু সোনা এবং হিরে-জহরতের গয়না হয় বছরে ১২ হাজার কোটি টাকার। এর মধ্যে আমেরিকায় যেত ২০০০ কোটি টাকার গয়না। শুল্ক ৫০% হওয়ার পরে তা প্রায় ৩০০ কোটিতে নেমেছে। এ বার তা ২৪%। ফলে পরিস্থিতি কিছুটা ভাল হবে। কিন্তু শূন্য শুল্কের লাভ পাবে মূলত সুরাত, মুম্বই, জয়পুর। ওই তিন শহর থেকেই হিরে, দামি পাথর আমেরিকা-সহ সারা বিশ্বে যায়। যদিও পশ্চিমবঙ্গে তৈরি ইমিটেশনের গয়নার ভাল বাজার আমেরিকা। পারেখ জানান, মূলত হুগলির সিঙ্গুরে তা তৈরি হয়। আগে ৩০০ কোটি টাকার ইমিটেশন গয়না রফতানি হত সেখানে। সেই বাজার ফিরতে পারে।

জিজেইপিসি-র ইডি সব্যসাচী রায় জানান, আমেরিকায় ভারত মোট ৯০০ কোটি ডলারের শুধু সোনা, রত্নখচিত সোনার গয়না, কাটা-পালিশ করা হিরে এবং দামি রঙিন পাথর রফতানি করত। এর মধ্যে হিরে এবং রঙিন পাথরই ছিল ৬০০ কোটি ডলারের। তাতে শুল্ক ছিল শূন্য। তাঁর দাবি, ‘‘আশা করছি মাস চারেকের মধ্যেই ৪০০ কোটি ডলারের মতো কাটা ও পালিশ করা হিরে এবং রঙিন পাথর আবার রফতানি করতে পারব আমরা।’’

আরও পড়ুন