—প্রতীকী ছবি।
কর্মী স্বাচ্ছন্দ্যে অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি সংস্থায় রয়েছে স্বাস্থ্য বিমা। তা সত্ত্বেও অতিরিক্ত আর্থিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আলাদা করে কেউ কেউ এই খাতে বিনিয়োগ করে থাকেন। এখন প্রশ্ন হল, একই চিকিৎসায় আদৌ কি দু’টি স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা পেতে পারেন গ্রাহক? কী বলছে দেশের আইন? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল তার হদিস।
ভারতীয় আইন অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি একসঙ্গে দু’টি স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা পেতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে তাঁকে মানতে হবে বেশ কয়েকটি শর্ত। প্রথমত, গ্রাহকের একাধিক স্বাস্থ্য বিমা থাকলে উভয় সংস্থাকেই সংশ্লিষ্ট বিমার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। নইলে প্রয়োজনের সময় আর্থিক দাবি প্রত্যাহার হতে পারে। সেটা আপৎকালীন পরিস্থিতিতে বাড়াতে পারে গ্রাহকের জটিলতা।
কী ভাবে একসঙ্গে দু’টি স্বাস্থ্য বিমা ব্যবহার করা হবে, একটা উদাহরণের সাহায্যে সেটা বুঝে নেওয়া যাক। ধরুন, কোনও ব্যক্তির পাঁচ লক্ষ টাকার দু’টি স্বাস্থ্য বিমা রয়েছে। অর্থাৎ তাঁর বিমাকৃত মোট অর্থের পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকা। এ বার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর কাছে বিল বাবদ চাইল আট লক্ষ টাকা। এ ক্ষেত্রে একটি বিমার থেকে পুরো টাকা দিয়ে বাকি অর্থের জন্য দ্বিতীয় বিমায় আবেদন করতে পারবেন ওই ব্যক্তি।
এই নিয়মে সমস্যার জায়গা একটাই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিমা করার সময় কর্পোরেট বিমার বিষয়টি গোপন করে যান সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীরা। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সমান্তরাল ভাবে চলতে থাকে দু’টি স্বাস্থ্য বিমা। এর জেরে হঠাৎ করে দু’টি বিমায় আবেদন করলে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান হওয়ার আশঙ্কা থাকে ষোলো আনা।
দু’টি বিমার সুবিধা নেওয়ার আরও কিছু নিয়ম রয়েছে। সে ক্ষেত্রে গ্রাহককে অবশ্যই হাসপাতালের মূল বিল ও অন্যান্য নথি প্রথম বিমা সংস্থার কাছে জমা করতে হবে। এর পর দ্বিতীয় সংস্থার কাছে দাবি করার সময় প্রথমবারে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ জানাতে হবে। এর উপর ভিত্তি করে বাকি টাকা দিয়ে দেবে ওই সংস্থা।
চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে দু’টি বিমার সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ একটি পরামর্শ দিয়েছেন আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের কথায়, প্রথমে ওই ব্যক্তিদের কর্পোরেট বিমার আবেদন করা উচিত। কারণ, প্রতিষ্ঠান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে ওই বিমার অস্তিত্ব থাকে না। দ্বিতীয় ধাপে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বিমার টাকা ব্যবহার করতে পারেন তাঁরা।