বিরাট কোহলি। ছবি: পিটিআই।
৩৭ বছর বয়সেও ব্যাট কথা বলছে বিরাট কোহলির। আইপিএলের প্রথম ম্যাচেই কোহলি বুঝিয়ে দিয়েছেন ছন্দে রয়েছেন তিনি। শেষ বার তিনি টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন গত বছর জুন মাসে। গত বারের আইপিএল ফাইনালে। ন’মাস পরে আবার ছোট ফরম্যাট খেলতে নেমেছেন। কিন্তু শনিবার সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে তাঁর ব্যাটিং দেখে মনে হয়নি, এত দিন কুড়ি-বিশের ক্রিকেট খেলেননি। এই বয়সেও কোহলির ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
চিন্নাস্বামীতে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ২০২ রান তাড়া করতে নেমে ৩৮ বলে অপরাজিত ৬৯ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। চার মেরে শেষ করেছেন খেলা। জিয়োহটস্টারের একটি অনুষ্ঠানে অশ্বিন বলেন, “বিরাট আবার দেখিয়ে দিল, টি-টোয়েন্টি ঠিক কী ভাবে খেলতে হয়। শুরু থেকে আক্রমণ করতে হবে। বিরাট যা খেলেছে, তাতে ওর প্রতি আমার সম্মান অনেক বেড়ে গিয়েছে।”
কোহলির ব্যাটিংয়ের একটি বিশেষ দিকের কথা তুলে ধরেছেন অশ্বিন। তা হল তাঁর দৌড়ে রান নেওয়ার ক্ষমতা। এই বয়সেও একই রকমের ক্ষিপ্রতা। অশ্বিন বলেন, “আমার অদ্ভুত লাগে। ও তখন ৪০ রানে ব্যাট করছে। ও একটা সিঙ্গল নেওয়ার জন্য দৌড়াল। যত ক্ষণ নন স্ট্রাইকারের এক রান পূর্ণ হয়েছে তত ক্ষণে বিরাট এক রান পূর্ণ করে দ্বিতীয় রানের জন্য দৌড় শুরু করে দিয়েছে। ৫৭ মিটারের বাউন্ডারিতেও বিরাট দু’রান নিচ্ছে। ভাবা যায় না।”
টি-টোয়েন্টি না খেললেও আইপিএলে নামার আগে ছন্দে ছিলেন কোহলি। জানুয়ারি মাসে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন এক দিনের ম্যাচে ৯৩, ২৩ ও ১২৪ রান করেছিলেন তিনি। তার আগে ডিসেম্বর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচে জোড়া শতরান করেছিলেন তিনি। সিরিজ়ে সবচেয়ে বেশি ৩০২ রান করেছিলেন কোহলি। ফলে দীর্ঘ দিন পর টি-টোয়েন্টিতে নামলেও সাদা বলের ফর্ম ধরে রেখেছেন কোহলি।
শনিবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে জিতিয়ে কোহলি জানিয়েছেন, তিনি তৈরি হয়েই নেমেছেন। কোহলি বলেন, “আবার ক্রিকেট মাঠে ফিরতে পেরে খুব ভাল লাগছে। এক বছর আগে এই মাঠেই শেষ বার টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলাম। তবে সাম্প্রতিক কালে এক দিনের সিরিজ়ে যে ভাবে খেলেছি সেটা আমাকে ছন্দ ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। যে ধরনের শর্ট খেলি না, সেই শট খেলার চেষ্টা করিনি। আমি জানি যতক্ষণ আমার ছন্দ রয়েছে এবং যত ক্ষণ নিজের ফিটনেস নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতে পারছি, তত ক্ষণ সব ঠিকঠাকই হবে। আজ আরও এক বার মাঠে নেমে সেটা দেখাতে পেরেছি।”
ভারতের হয়ে এখন একটি ফরম্যাটেই খেলেন কোহলি। তাতে কি অসুবিধা হয় না? ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কের জবাব, “গত ১৫ বছর ধরে যে ধরনের সূচির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে এবং যতগুলো ম্যাচ আমরা খেলেছি, তাতে সব সময় বিধ্বস্ত হয়ে পড়ার একটা ঝুঁকি থাকতই। তাই এখন এই বিরতিগুলো আমাকে প্রচন্ড সাহায্য করে। আমি তরতাজা থাকি, উত্তেজিত থাকি। মাঠে ফিরলে সব সময় ১২০% দেওয়ার চেষ্টা করি। কম প্রস্তুতি নিয়ে কখনও খেলতে নামি না। আসলে এই বিরতিগুলো আমাকে মানসিকভাবে তরতাজা রাখে। যত ক্ষণ আপনি শারীরিকভাবে ফিট থাকছেন এবং মানসিক ভাবে তরতাজা থাকছেন, তত ক্ষণ সবকিছুই ঠিকঠাক হবে এবং দলের জন্য আপনি অবদানও রাখতে পারবেন। ক্রিকেটার হিসেবে সেটাই তো আমার কাজ। আমি কখনও জায়গা ধরে রাখতে চাই না। সব সময় ভাল খেলতে চাই এবং দলের হয়ে অবদান রাখতে চাই।”