Asit Majumdar Attacks Rachna Banerjee

‘দিদির কান ভারি করেছে দিদি নম্বর ওয়ান, কাটমানিও খাচ্ছে’! টিকিট না পেয়ে বেলাগাম অসিত, হাসতে হাসতে পাল্টা তোপ রচনার

ভোটের মুখে বিদায়ী বিধায়ক এবং সাংসদের বাগ্‌যুদ্ধে অস্বস্তিতে হুগলি জেলা তৃণমূল। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নানা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন অসিত মজুমদার। বিধায়ককে উদ্দেশ্য করে পাল্টা খোঁচা দেন সাংসদও।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ ১৯:২৯
Asit Majumdar Attacks Rachna Banerjee

(বাঁ দিকে) তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার। তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —নিজস্ব ছবি।

টিকিট না-পেয়ে রাজনীতি ছাড়বেন বলেছিলেন। কিন্তু গোসা ভাঙে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোনে। দিন কয়েক আগে এক হয়ে চলার বার্তাও দিয়েছিলেন চুঁচুড়ার বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদার। কিন্তু রবিবার সকালে একেবারে কামান দাগলেন তিনি। নিশানায় সেই হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগ, দলের সাংসদের জন্যই এ বার প্রার্থী হতে পারলেন তিনি। এমনকি, তারকা সাংসদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অসিত বলেছেন, চুঁচুড়ার তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য যদি ভোটে হারেন, তার একমাত্র কারণ রচনা!

Advertisement

ওই সব শুনে কড়া জবাব দিয়েছেন রচনাও। তিনি প্রথমেই বিরক্তির সুরে বলেন, ‘‘ওঁর মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে!’’ তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে বিধায়ক হিসাবে নিজের কর্তব্য পালন করেননি অসিত। এখন হাস্যকর সমস্ত অভিযোগ করছেন। তবে ভোটের মুখে সাংসদ বনাম বিধায়কের বাগ্‌যুদ্ধে অস্বস্তিতে জেলা তৃণমূল।

রবিবার চুঁচুড়ার তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশুকে সঙ্গে নিয়ে ‘মহামিছিল’ করেন সাংসদ রচনা। চুঁচুড়া এইচআইটি কলেজের সামনে থেকে শুরু হয় মিছিল। পিপুলপাতি, হাসপাতাল রোড হয়ে মিছিল শেষ হয় ঘড়ির মোড়ে। অসিতের অনুযোগ, তাঁকে ওই মিছিলে ডাকাই হয়নি। তার পর সকালবেলা সাংবাদিক বৈঠক করে রচনাকে বেলাগাম আক্রমণ শুরু করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘রচনা গ্রুপবাজি করে দলকে শেষ করছে। স্কুলে স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরি করে কাটমানি খেয়েছে।’’ উল্লেখ্য, ওই স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরি নিয়েই রচনা-অসিতের দ্বন্দ্বের শুরু। এখন অসিতের অভিযোগ, রচনা তাঁর এমপি ল্যাডের কাজ ফেলে রেখেছেন। কোনও কাজই সরকারি নিয়ম মেনে করছেন না। রচনাকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’, ‘মিথ্যাবাদী’, ‘বিজেপির এজেন্ট’ ইত্যাদি বলে তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগ, ‘‘ও চায় না দেবাংশু জিতুক। সবাইকে নিয়ে চলার মানসিকতা নেই ওর। আমি স্নো-পাউডার মেখে দল করিনি। আমরা গুলি খেয়ে দল করেছি।’’

দিন কয়েক আগে অসিতের নাম-না করে রচনা বলেছিলেন, তিনি যতটুকু বুঝেছেন, কোনও বিদায়ী বিধায়ককে আবার টিকিট দিতে গেলে তৃণমূল বেশ কিছু বিষয় দেখে। তার অন্যতম হল এলাকায় সেই বিধায়কের ‘গুডউইল’ (সুনাম)। রবিবার অসিতের কটাক্ষ, ‘‘ওর কি গুডউইল? চুঁচুড়ায় আট হাজার ভোটে ও হারে (লোকসভা ভোটে চুঁচুড়া বিধানসভা এলাকায় রচনা ৮ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিলেন)। আমি তো হারি না। এখানে কাউন্সিলরেরা (তৃণমূলের) জেতে। পঞ্চায়েত সদস্যেরা জেতে। আর ও হারে (চুঁচুড়া বিধানসভায়)। কার গুডউইল?’’ চুঁচুড়ার বিধায়কের সংযোজন, ‘‘এই শহরে যেখানেই রচনা যাবে, সেখানেই হারবে। এদের মতো লোক দলে থাকলে দল শেষ হয়ে যাবে।’’ তার পরেই আরও বড় অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘‘আমার টিকিট না পাওয়ার পিছনে রচনার হাত আছে। ও দিদির কান ভারি করেছে। যারা মুখ ধুয়ে দিদির কাছে যায়, তাদের দিদি বিশ্বাস করেন।’’

দেবাংশুর প্রচার করতে করতে অসিতের অভিযোগ শুনেই ভ্রু কুঁচকে গিয়েছে রচনার। পরক্ষণেই তিনি হাসতে থাকেন। হাসিমুখে বলেন, ‘‘পনেরো বছরে কিছু করেনি। চুঁচুড়ার মানুষ গত ১৫ বছর ধরে যে অভিযোগ করেছেন, যে কষ্টের মধ্যে তাঁরা বলে গিয়েছেন যে ‘আমরা বঞ্চিত। আমাদের পাশে কেউ থাকে না’, ওঁদের আমি বলে দিয়ে গেলাম, চুঁচুড়াবাসীর জন্য দেবাংশু আছে। আমি রচনা আছি। আমরা পাঁচ বছরে দেখিয়ে দিয়ে যাব, যেটা ১৫ বছরে দেখাতে পারেনি (অসিত)।’’

তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ রচনা জানান, তিনি এই সব কথা কানেই নিচ্ছেন না। আগামী এক মাস হুগলির তৃণমূল প্রার্থীদের জন্য পরিশ্রম করবেন তিনি।

অসিত চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন, তিনি এবং রচনা যদি তৃণমূলের ছাতা ছেড়ে নির্দল হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, রচনাকে তিনি বলে বলে হারাবেন। না হলে ন্যাড়া হয়ে ঘুরবেন। রচনার জবাব, ‘‘বোকা বোকা কথা বলতে বারণ করুন তো। উনি অভিজ্ঞ মানুষ। ন্যাড়া হয়ে ঘুরবেন বলছেন? আমি শুধুই হাসছি।’’

বিধায়ক বনাম সাংসদের বাগ্‌যুদ্ধ সামলানোর চেষ্টা করেছেন তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু। তিনি বলেন, ‘‘যদি বিধায়ক সাহেব কিছু বলে থাকেন, সেটা আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করব। রাজনৈতিক লড়াইটা এখানে বিজেপির বিরুদ্ধে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন