—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ বেশি দিন ধরে চললে ভারত তথা বিশ্ব অর্থনীতি যে ধাক্কা খাবে, তা জানাচ্ছে প্রায় সব মহল। এ বার সেই আশঙ্কার কথা উঠে এল এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের (এডিবি) সমীক্ষাতেও। বৃহস্পতিবার তা জানাল, এর ফলে ২০২৬-২৭ সালে এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আর্থিক বৃদ্ধির হার কমতে পারে ১.৩ শতাংশ বিন্দু। মূল্যবৃদ্ধি মাথা তুলতে পারে ৩.২ শতাংশ বিন্দু। এই অঞ্চলের দেশগুলির মাথাব্যথার কারণ হবে জ্বালানির চড়া দাম, সরবরাহ ব্যবস্থায় ধাক্কা, বাণিজ্যের গতি কমা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে না পারা। সংঘর্ষ যত বেশি দিন ধরে চলবে, পরিস্থিতিও ততই খারাপ দিকে মোড় নেবে। ফলে সব দেশের সরকারকেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৈরি থাকতে হবে। বাজারে দোলাচল রুখতে মাঠে নামতে হবে শীর্ষ ব্যাঙ্কগুলিকেও।
বর্তমান সঙ্কটে ভারতের মতো জ্বালানিতে আমদানি নির্ভর দেশের সমস্যা বেশি বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তার মধ্যেও অবশ্য ২০৩১-এর ৩১ মার্চ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির লক্ষ্য ৪ শতাংশে (+/-২%) বেঁধে রেখেছে কেন্দ্র। ফলে দেশে সুদ কমার সম্ভাবনা তো থাকছেই না। উল্টে বর্তমান অবস্থায় তা বাড়ানো হবে কি না, সেই আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
এই অবস্থায় পরের অর্থবর্ষে এ দেশের আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.১ শতাংশে থামিয়ে রাখল ওইসিডি। আজ তারা বলেছে, এ বছর তা হতে পারে ৭.৬%। সংগঠনের বার্তা, শুধু যুদ্ধে জড়ানো দেশগুলিই নয়, সার্বিক ভাবেই বিশ্ব অর্থনীতির পরীক্ষা নেবে এই সময়টা। ভারতীয় পণ্যে আমেরিকার চাপানো শুল্ক কমায় কিছুটা সুবিধা হলেও, যুদ্ধের জেরে মূল্যবৃদ্ধি মাথাচাড়া দেওয়ার আশঙ্কা থাকছে। যে কারণে এ বছর সুদ বাড়াতে পারে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক।