—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার (আইএমএফ), বিশ্ব ব্যাঙ্ক এবং ওয়র্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম গোটা বিশ্বকে খাদ্যপণ্যের চড়া দাম ও খাদ্য সঙ্কট নিয়ে সতর্ক করে দিল। এ জন্য পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং সেই কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের সঙ্কটকেই মূলত দায়ী করেছে তারা। বার্তা, সর্বত্রই বিপাকে পড়বেন মূলত আর্থিক ভাবে দুর্বল, স্বল্প রোজগেরে ও গরিব মানুষেরা। ভুগবে সেই অর্থনীতি, যারা নানা দিক থেকে বড্ড বেশি আমদানি পণ্যের উপর নির্ভরশীল।
আমেরিকা ও ইরান দু’সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার পরের দিনই তিন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানেরা এক বৈঠকের পরে এ সংক্রান্ত যৌথ বিবৃতি জারি করেছেন। সেখানে দাবি, এই যুদ্ধে জ্বালানি বাজার যে সঙ্কটের মুখে পড়েছে, তা ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ। এমন পরিস্থিতিতে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং সারা বিশ্বে খাদ্যসঙ্কট তৈরি হওয়া কার্যত অবশ্যম্ভাবী। কারণ তেল-গ্যাস, সারের দাম বেড়ে গিয়েছে। সেই সঙ্গে পরিবহণও ধাক্কা খেয়েছে। মুখ থুবড়ে পড়েছে সরবরাহ। যা অবধারিত ভাবে খাবারের দামকে ঠেলে তুলবে। তৈরি হবে খাদ্যসঙ্কট। তাদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট অঞ্চল, এমনকি তার বাইরেও বহু জায়গায় মানুষের জীবন এবং জীবিকাকে ওলটপালট করে দিয়েছে। বিশেষত যে সব দেশে সরকারের ঘাড়ে ঋণের বোঝা বেশি এবং আর্থিক ক্ষমতা সীমিত, তারা স্বল্প আয়ের বা দরিদ্র গৃহস্থ পরিবারিগুলিকে তেমন সাহায্য করার মতো অবস্থাতেও নেই। তাতে সমস্যা আরও বাড়বে।
আইএমএফ, বিশ্ব ব্যাঙ্ক এবং ওয়র্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের বার্তা, তারা পরিস্থিতির উপর প্রতিনিয়ত নজর রাখছে। সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যায় পড়া সকলকে সব রকম ভাবে সাহায্য করার চেষ্টা চলছে। লক্ষ্য, স্থিতিশীলতা, বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করা।