—প্রতীকী চিত্র।
দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন উপলক্ষে উপহার দেওয়া-নেওয়া চলে। সম্পত্তি হাতে আসতে পারে উত্তরাধিকারী হিসাবে কিংবা কারও উইলে লেখা থাকলে। সেটা হতে পারে নগদ টাকা বা বস্তু। যা কিছু ক্ষেত্রে বেশ মূল্যবান। ফলে প্রশ্ন জাগে সেগুলি কি করযোগ্য? যদি হয়, তা হলে হার কত। এই আয়কে রিটার্নের কোথায় দেখাতে হবে?
অতীতে উপহারের উপর কর নিয়ে আইন ছিল। ১৯৫৮-এ প্রণয়ন করা হয় সেই ‘গিফ্ট ট্যাক্স অ্যাক্ট, ১৯৫৮’। তার ৪০ বছর পরে ১৯৯৮-এর ১ অক্টোবর তা রদ করা হয়। অর্থাৎ উপহারের কর নিয়ে এখন আলাদা আইন নেই। তা বলা আছে আয়কর আইনের ৫৬ (২)(১০) ধারায়। সেখানে ঠিক কী বলা হয়েছে, দেখে নেওয়া যাক—
বছরে নির্দিষ্ট কিছু আত্মীয় ছাড়া অন্যদের থেকে প্রাপ্ত মোট ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যের উপহার পুরোপুরি করমুক্ত। কিন্তু সেই সীমা ছাড়ালেই পুরো মূল্যের উপরে কর গুনতে হবে। যেমন, প্রাপ্ত উপহারের মোট মূল্য যদি ৬০ হাজার টাকা হয়, কর দিতে হবে ৬০ হাজারেই। ১০ হাজারে নয়। এই আয়কে অন্যান্য সূত্র থেকে আয় হিসাবে ধরা হবে। তার উপর ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হারে কর দিতে হবে। রিটার্নে ‘ইনকাম ফ্রম আদার সোর্সেস’ এর অধীনে দেখাতে হবে এই আয়কে।
কিছু সূত্রে দান, উপহার এবং উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তি পেলে, তাতে কর বসে না। ক্ষেত্রগুলি দেখে নেওয়া যাক— বিয়ের উপহার হিসাবে পাওয়া সোনা, গয়না, নগদ ইত্যাদি। তবে নগদে একটি লেনদেন ২ লক্ষ টাকা ছাড়ালে সমস্যা হতে পারে। উত্তরাধিকারী হিসাবে সম্পত্তি পেলেও কর নেই। করমুক্ত উইলের শর্ত অনুযায়ী পাওয়া সম্পত্তিও। তবে দু’ক্ষেত্রেই সম্পত্তি খাটিয়ে বা বিক্রি করে আয় বা লাভ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হারে কর বসবে।
নথিবদ্ধ ট্রাস্ট এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদানে কর বসবে না।
প্রাপ্ত দানের মূল্য যাই হোক, কর দিতে হবে না আয়কর আইনে বলা নিকট আত্মীয়ের থেকে পেলে। যার সংজ্ঞা রয়েছে ৫৬ (২) ধারায়। এর মধ্যে আছে— স্বামী/স্ত্রী, ভাই-তাঁর স্ত্রী, বোন-তাঁর স্বামী, স্ত্রীর ভাই-তাঁর স্ত্রী, স্ত্রীর বোন-তাঁর স্বামী, কাকা-কাকী, পিসি-পিসা, মামা-মামী, মাসি-মেসো, বাবা-মা, দাদু-ঠাকুমা, ছেলে-তাঁর স্ত্রী, মেয়ে-তাঁর স্বামী, শ্বশুর- শাশুড়ি এবং দাদা শ্বশুর-দাদা শাশুড়ি। কোনও সম্পত্তি যদি ন্যায্য বাজার দরের কম দামে কেনা হয়, তবে পার্থক্যকে দান হিসেবে গণ্য করতে হবে।
অর্থাৎ বহু ক্ষেত্রেই প্রাপ্ত দান-উপহার করমুক্ত হতে পারে। সেগুলির সব নথি গুছিয়ে রাখতে হবে। যে দান করমুক্ত নয়, তা রিটার্নে দেখাতে হবে। প্রযোজ্য হারে কর দিতে হবে।
কিছু প্রাপ্ত দানে যেমন কর বসে, তেমন দান মারফত কর বাঁচেও। উঁচু হারে করদাতার আমানত বা লগ্নির একাংশ যদি বাবা, মা, প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে বা মেয়ে, যাঁদের করযোগ্য আয় নেই, তাঁদের নামে হস্তান্তর করা হয়, তবে সুদ এবং ডিভিডেন্ড বাবদ নিজের আয় এবং কর কিছুটা কমতে পারে। যাঁকে অর্থ সম্পদ দেওয়া হল তাঁর করযোগ্য আয় না থাকায় তাঁকে কর দিতে হবে না। নতুন কর কাঠামোয় ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় পুরো করমুক্ত থাকে।
(মতামত ব্যক্তিগত)