— প্রতীকী চিত্র।
আরও একটি এলপিজি-ভর্তি জাহাজ হরমুজ় প্রণালী পেরিয়ে এল। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরুর পরে ইরান হরমুজ় বন্ধ করে দেওয়ায় ২৪টি ভারতীয় জাহাজ পশ্চিম পারস্য উপসাগরে আটকে পড়েছিল। এর আগে ইরানের সঙ্গে দৌত্য করে ৭টিকে ওই প্রণালী পার করিয়ে আনা হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, রবিবার দুপুরে পার হল ‘গ্রিন আশা’। ফলে এই নিয়ে মোট আটটি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ় পেরোল। শুক্রবার পেরিয়েছিল ‘গ্রিন সানভি’।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে ভারতে তেল-গ্যাস আমদানি সমস্যার মুখে পড়েছে। বিশেষত রান্নার গ্যাস বা এলপিজি। কারণ দেশে প্রয়োজনের ৬০% এলপিজি আমদানি করতে হয়। যার ৯০% আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে। তাই আগে এলপিজি ভর্তি জাহাজগুলিকেই বার করে আনার চেষ্টা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, গ্রিন আশা মাঝারি মাপের গ্যাস বহনকারী জাহাজ। জাপানের আন্তর্জাতিক জাহাজ সংস্থা মিটুসি ওএসকে লাইন্স-এর ভারতীয় সংস্থা এমওএল ইন্ডিয়া-র এই জাহাজে প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি রয়েছে। গ্রিন আশা-র পরে পশ্চিম পারস্য উপসাগরে আরও ১৬টি ভারতীয় জাহাজ থেকে যাবে। এর মধ্যে ‘জাগ বিক্রম’ নামে আরও একটি এলপিজি ভর্তি জাহাজ খুব শীঘ্রই হরমুজ় প্রণালী পেরিয়ে ভারতের দিকে রওনা হতে পারে বলে আশা জাহাজ মন্ত্রকের কর্তাদের। বাকিগুলির মধ্যে একটিতে এলপিজি, চারটিতে অশোধিত তেল, একটিতে এলএনজি রয়েছে।
রবিবার কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। চাহিদা মেটাতে বাড়ানো হয়েছে ৫ কেজি ওজনের ছোট সিলিন্ডার জোগানও। যা সচিত্র পরিচপত্র দেখিয়ে কেনা যাচ্ছে এলপিজি বণ্টনকারীদের থেকে। তবে এই সিলিন্ডারে ভর্তুকি মেলে না। শনিবার দেশ জুড়ে ৯০ হাজার ৫ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে। ২৩ মার্চের পর থেকে বিকিয়েছে ৬.৬ লক্ষ। শনিবার ১৪.২ কেজির বাড়িতে রান্নার সিলিন্ডার বিলি হয়েছে ৫১ লক্ষ। মন্ত্রকের দাবি, পরিবহণের জন্য এলএনজি সরবরাহে কোনও সমস্যা নেই। জাহাজে করে তা আনা হচ্ছে। তার ভিত্তিতে সার কারখানাগুলিতে গড়ে যে পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস প্রয়োজন হয়, তার ৯০% এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে।