গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
রাশিয়া থেকে তেল কেনা হচ্ছে। সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরান থেকেও জ্বালানি কিনতে ভারত তৈরি বলে দাবি সরকারি সূত্রের। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ফলে অশোধিত তেল ও রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) জোগান নিয়ে সঙ্কট তৈরি হয়েছে। সেখান থেকে ভারতে আসার পথে জ্বালানি বহনকারী একাধিক জাহাজ হরমুজ় প্রণালীতে আটকে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে পণ্যগুলির বিকল্প উৎসের সন্ধানে নেমেছে ভারত। সূত্রের খবর, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ও শোধনাগারগুলি রাশিয়া থেকে ৬ কোটি ব্যারেল অশোধিত তেল কিনেছে। তা এপ্রিলে ভারতে পৌঁছবে। মার্চেও আসবে রাশিয়ার প্রায় একই পরিমাণ তেল, যা ফেব্রুয়ারিতে কেনা তেলের দ্বিগুণ।
একই সঙ্গে এক সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ইরান থেকে এক জাহাজ এলপিজি কিনেছে নয়াদিল্লি। অরোরা নামের জাহাজটি শীঘ্রই ভারতে পৌঁছতে পারে। জাহাজ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিন্হার অবশ্য দাবি, এমন কথা তাঁর জানা নেই। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের খবর, ইরানের ৫০ লক্ষ ব্যারেল অশোধিত তেল কিনছে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ়। সরকারি ভাবে যদিও সেই তথ্য জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৯ থেকে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরান থেকে অশোধিত তেল কেনা বন্ধ করে ভারত। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া জ্বালানি সঙ্কট যুঝতে অস্থায়ী ভাবে ইরানের তেল-গ্যাসে নিষেধাজ্ঞা তুলেছে ওয়াশিংটন। তবে তা প্রযোজ্য শুধু সমুদ্রে ভাসমান জ্বালানির ক্ষেত্রে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা এর আগে রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ভারতের উপরে শুল্ক চাপিয়েছিল। এখন তারাই সেই তেল কিনতে বলছে নয়াদিল্লিকে। ধারণা, ভারতের শোধনাগারে ওই তেল থেকে পেট্রল-ডিজ়েল তৈরি হয়ে বিশ্ব বাজারে সরবরাহ হলে জোগানের সমস্যা অনেকটাই মিটবে। কারণ, ভারত অশোধিত তেলের জন্য আমদানি নির্ভর হলেও, দেশের শোধনাগারগুলির উৎপাদনক্ষমতা বিপুল।
আজ তেল মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মার দাবি, সংস্থাগুলি কোথা থেকে তেল কিনবে, তা পুরোপুরি নীতিগত ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত। ইরানের থেকে জ্বালানি কেনা হলে কী ভাবে দাম মেটানো হবে, তার উত্তর দিতে চাননি তিনি।