ভারত চাইছে, চামড়া, বস্ত্রের মতো শ্রমনিবিড় ক্ষেত্র থেকে রফতানি করা পণ্যে আমেরিকা শুল্ক কমাক। —প্রতীকী চিত্র।
আগামী দু’একদিনের মধ্যেই ভারত ও আমেরিকার মধ্যে ‘অন্তর্বর্তী’ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি হতে পারে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক সূত্রের খবর, ওয়াশিংটনে মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ আগরওয়ালের নেতৃত্বে ভারতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দর কষাকষি শেষ পর্যায়ে। তা চূড়ান্ত করতেই ওই প্রতিনিধি দল আমেরিকা সফরের মেয়াদ বাড়িয়ে ওয়াশিংটনে থেকে গিয়েছিল। যাতে ৯ জুলাইয়ের আগে অন্তত ছোট মাপের বা প্রথম পর্যায়ের চুক্তি সেরে ফেলা যায়। কারণ, ট্রাম্প ভারতের বিরুদ্ধে আমেরিকার পণ্যে উঁচু হারে শুল্ক চাপানোর অভিযোগ তুলে যে পাল্টা চড়া শুল্ক বসিয়েছিলেন, তা ৯ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে। তার আগে অন্তত প্রথম দফার বাণিজ্য চুক্তি সই করে ফেলতে না পারলে, ভারতীয় পণ্যে আমেরিকা ফের চড়া হারে শুল্ক চাপাতে পারে।
আমেরিকা ভারতের কৃষি এবং দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে আরও বেশি করে ঢুকতে চাইছে। কিন্তু মোদী সরকার গ্রামীণ অর্থনীতি, চাষিদের রুটিরুজির বিপদের আশঙ্কায় সেই দাবি পুরোপুরি মানতে নারাজ। অন্য দিকে ভারত চাইছে, চামড়া, বস্ত্রের মতো শ্রমনিবিড় ক্ষেত্র থেকে রফতানি করা পণ্যে আমেরিকা শুল্ক কমাক। নয়াদিল্লির যুক্তি, দু’পক্ষই শুল্ক না কমালে ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০,০০০ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য পূরণহবে না।
সূত্রের খবর, দু’পক্ষের এই অনড় অবস্থানের মধ্যবর্তী রাস্তার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। যদিও কোনও পক্ষই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে এ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ। বণিকসভা সিআইআইয়ের সভাপতি রাজীব মেমানির মতে, প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তিতে রাজনৈতিক স্পর্শকাতর ক্ষেত্রগুলি বাদ থাকবে বলে মনে হচ্ছে। শিল্পমহলের আশঙ্কার কথা সরকারকে জানানো হয়েছে।
আর্থিক উপদেষ্টা সংস্থা মুডি’জ়ের বক্তব্য, এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার অনেক দেশের তুলনায় ভারতের উপরে আমেরিকার দিক থেকে কম হারে শুল্ক চাপতে পারে। যার সুবাদে দেশে লগ্নি আসার রাস্তা প্রশস্ত হবে।