Inflation rate

তেলের দাম বাড়ায় আশঙ্কা মূল্যবৃদ্ধির, ভারত কি এ বার 'স্ট্যাগফ্লেশন' এর পথে?

গত মাসে ভারতের পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হার ৪২ বছরে সব থেকে উঁচুতে উঠে ৮% পেরনোর পরে খুচরো মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ০৯:১৩
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ভারতকে ক্রমশ ‘স্ট্যাগফ্লেশনের’ দিকে ঠেলে দিচ্ছে, আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। তাঁদের মতে, শুক্রবার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বাড়ানোর পরে এ নিয়ে চিন্তা আরও বেড়েছে। বিশেষত আগামী দিনে যেহেতু জ্বালানির দাম আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত রয়েছে। তাঁদের দাবি, স্ট্যাগফ্লেশনে মূল্যবদ্ধি চড়তে থাকে। কিন্তু আর্থিক বৃদ্ধি থমকে যায় বা কমে। ফলে রুজি-রোজগার বিপন্ন হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের। শুধু ভারত নয়, বিশ্বের বহু দেশই এখন এই ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে। যা আখেরে সব থেকে বিপাকে ফেলবে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের।

গত মাসে ভারতের পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হার ৪২ বছরে সব থেকে উঁচুতে উঠে ৮% পেরনোর পরে খুচরো মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছিল। তেলের দাম বাড়ায় যাতায়াত থেকে কেনাকাটার খরচ যে চড়তে চলেছে, তা প্রায় নিশ্চিত বলেই বার্তা সংশ্লিষ্ট মহলের। বিশেষজ্ঞদের দাবি, সে ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধিকে লাগাম পড়াতে আবার সুদ বাড়াতে হতে পারে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ককে। তাতে টান পড়বে চাহিদায়। শিল্প উৎপাদন কমাতে বাধ্য হলে কাজ কমবে। নামবে আর্থিক বৃদ্ধির হার।

হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক রাজেন্দ্র পরামানিক বলেন, “দেশের অর্থনীতি ক্রমশ অশুভ আবর্তের মধ্যে জড়িয়ে পড়ছে। যাকে স্ট্যাগফ্লেশন বলা হয়। আগামী দিনে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ককে ২৫-৫০ বেসিস পয়েন্ট সুদ বাড়াতে হতে পারে। ফলে কেনাকাটা কমবে।’’ অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারেরও মতে, “তেলের দর বৃদ্ধির আগেই বাড়ছিল পণ্যের দাম। এ বার আনাজ থেকে শুরু করে জুতো, পোশাক, অত্যাবশ্যক পণ্য-সহ সবকিছুই আরও দামি হবে। অথচ বেতন তেমন বাড়বে না। উল্টে শ্লথ চাহিদাশিল্পোৎপাদনে ধাক্কা দিলে কর্মী ছাঁটাই হতে পারে।” অর্থনীতিবিদ অজিতাভ রায়চোধুরীর আশঙ্কা, তেল সংস্থার ক্ষতি পূরণে জ্বালানির দাম আরও বাড়লে পরিবহণ খরচ মাত্রা ছাড়াতে পারে। আইসিএআইয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রাক্তন কর্তা অনির্বাণ দত্তের বার্তা, ‘‘কৃষিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে চড়া ডিজ়েলের। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে সারের দাম বেড়েছে। এ বার দামি ডিজ়েলে চাষের খরচ বাড়বে। ফের চড়তে পারে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি।’’

আরও পড়ুন