Mutual Funds

বাজার অস্থির হলেই একের পর এক তহবিলে লগ্নির অভ্যাস? মিউচুয়াল ফান্ডে অতিরিক্ত বৈচিত্র ডেকে আনতে পারে বিপদ!

মিউচুয়াল ফান্ডে অতিরিক্ত মুনাফার আশায় বিভিন্ন ধরনের তহবিলে লাগাতার লগ্নি করতে থাকেন বিনিয়োগকারীদের একাংশ। এই ধরনের অতিরিক্ত বৈচিত্র্যকরণে কতটা লাভ, কতটা লোকসান হবে তাঁদের?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ ১৪:২২
Representative Picture

—প্রতীকী চিত্র।

ব্যাঙ্ক-ডাকঘরের প্রথাগত লগ্নিতে কমেছে রিটার্ন। আর তাই ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অনেকে বিনিয়োগ করছেন মিউচুয়াল ফান্ডে। শুধু তা-ই নয়, বেশি মুনাফার আশায় একসঙ্গে একাধিক তহবিলে টাকা রাখতেও দেখা যাচ্ছে তাঁদের। উদ্দেশ্য, লগ্নিতে বৈচিত্র্য আনা। তবে সেটা মাত্রাতিরিক্ত বেশি হলে কমতে পারে লাভের অঙ্ক, বলছেন আর্থিক বিশ্লেষকেরা।

Advertisement

দেশের তাবড় ব্রোকারেজ ফার্মগুলির দাবি, লগ্নিতে বৈচিত্র্য আনতে গিয়ে বেপরোয়া ভাবে একের পর এক মিউচুয়াল ফান্ডে টাকা রাখা মোটেই স্বস্তিজনক নয়। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পেশাদারি চিন্তাভাবনার বাইরে গিয়ে এই ধরনের বিনিয়োগ করে থাকেন গ্রাহক। কিছু ক্ষেত্রে এর নেপথ্যে কাজ করে তাঁদের আবেগ।

বিশেষজ্ঞদের কথায়, মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নিকারীদের বড় অংশেরই শেয়ারবাজারের সূচকে থাকে কড়া নজর। যদিও তাঁদের অনেকেরই সেনসেক্স-নিফটি সম্পর্কে ধারণা থাকে খুবই সীমিত। আর তাই বাজার অস্থির হলেই নিজেদের পোর্টফোলিওয় নতুন নতুন তহবিল, স্টক বা বিভিন্ন ধরনের সম্পদ যোগ করতে থাকেন তাঁরা। অর্থনীতির পরিভাষায় একে বলে লগ্নির অতিরিক্ত বৈচিত্র্যকরণ।

বিনিয়োগকারীরা মনে করেন, এই ধরনের লগ্নিতে একাধিক প্রকল্পের মালিক হচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু, বাস্তবে দেখা যায় পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত ক্ষেত্রগুলিতে ঢালা হয়েছে টাকা। এতে অযথা ভারী হয়ে যায় পোর্টফোলিও। তখন তার বিশ্লেষণও অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

উদাহরণ হিসাবে, কোনও ব্যক্তির পোর্টফোলিয়োয় ১২-১৫টি খুব ভাল স্টক থাকতে পারে। কিন্তু, কখনওই সেটা ৫০ থেকে ৭০-এ পৌঁছে যাওয়া ভাল নয়। একই ভাবে তিন থেকে চারটে ভাল মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নি যুক্তিসঙ্গত। সংখ্যাটা ১২-১৫ হয়ে গেলে অতিরিক্ত বৈচিত্র্যকরণ হিসাবে গণ্য হতে পারে।

আর্থিক বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, লগ্নিতে বৈচিত্র্য আনতে হলে প্রথমে বিনিয়োগের পরিমাণ ঠিক করতে হবে। তার পর ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা বিচার করা উচিত। সেই মতো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মিউচুয়াল ফান্ড, স্টক, সোনা-রুপোর মতো ধাতু, ঋণ তহবিল বা কোনও আন্তর্জাতিক সম্পদে টাকা রাখবেন। তবেই বৈচিত্র্যের পাশাপাশি ভারসাম্য থাকবে তাঁর পোর্টফোলিয়োয়।

এখানে উল্লেখ্য, মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নির ক্ষেত্রে আরও কিছু বিচক্ষণতার প্রয়োজন রয়েছে। একই ধরনের তহবিলে টাকা রাখা একেবারেই উচিত নয়। স্টক, ঋণ এবং হাইব্রিডের মতো ফান্ডগুলিতে কিছু কিছু করে বিনিয়োগ কমাবে ঝুঁকি। পাশাপাশি দেবে বেশি মুনাফা, বলছেন বিশ্লেষকেরা।

আর তাই মিউচুয়াল ফান্ডের সংখ্যা বৃদ্ধির চেয়ে গুণগত মানের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে দেশের তাবড় ব্রোকারেজ ফার্ম। মূলধন বৃদ্ধির পাশাপাশি সন্তানের শিক্ষার খরচ, স্থিতিশীলতা, করে সাশ্রয় এবং স্বাস্থ্য খাতে খরচের দিকটাও মাথার রাখতে বলছে তারা।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকি সাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই এই তহবিলে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)

Advertisement
আরও পড়ুন