ছবি: সংগৃহীত।
৫১ বছরের ইতিহাসে প্রথম বার। কর্মীদের স্বেচ্ছাবসরে (ভলান্টারি বাইআউট) যাওয়ার প্রস্তাব দিল মার্কিন টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফ্ট। সংশ্লিষ্ট সংস্থার একটি সূত্র উদ্ধৃত করে এই খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি। একে কর্মী পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ বলে জানিয়েছে উইন্ডোজ় নির্মাতা সংস্থা। মূলত মার্কিন কর্মীদেরই এই স্বেচ্ছাবসরের প্রস্তাব দেবে মাইক্রোসফ্ট। মার্কিন কর্মীসংখ্যার প্রায় ৭ শতাংশ এই পরিকল্পনার আওতায় পড়তে চলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একটি অভ্যন্তরীণ মেমোর উদ্ধৃতি দিয়ে সিএনবিসি জানিয়েছে, এককালীন এই অবসর কর্মসূচিটি সিনিয়র ডিরেক্টর ও তার নীচের স্তরের মার্কিন কর্মীদের জন্য পরিকল্পিত। তবে এর পিছনে একটি শর্ত আরোপ করেছে প্রযুক্তি সংস্থা। যে সব কর্মী স্বেচ্ছাবসরে যাবেন তাঁদের বয়স এবং চাকরির মেয়াদের যোগফল ন্যূনতম ৭০ বছর হতে হবে। সূত্র অনুসারে, সংস্থার মার্কিন কর্মীদের মধ্যে ৮,৭৫০ জনকে স্বেচ্ছাবসরের যোগ্য বলে মনে করছে মাইক্রোসফ্ট। ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছরের (২০২৫ সাল) জুন পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংস্থার ১ লক্ষ ২৫ হাজার কর্মী ছিলেন।
সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার মার্কিন কর্মীদের কাছে এই প্রস্তাবটি রাখে সংস্থাটি। এ ব্যাপারে মেমোতে মাইক্রোসফ্টের এগ্জ়িকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ পিপল অফিসার অ্যামি কোলম্যান লিখেছেন, ‘‘আমরা আশা করি, এই পরিকল্পনাটি যোগ্য ব্যক্তিদের নিজেদের শর্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করার সুযোগ দেবে।’’ এ ছাড়াও সংস্থাটি কর্মীদের বার্ষিক পুরস্কার দেওয়ার নিয়মে পরিবর্তন আনতে চলেছে। এর ফলে ম্যানেজারদের নগদ বোনাসের সঙ্গে সংস্থার স্টক উপহার দেওয়া বন্ধ করে দিতে চলেছে মাইক্রোসফ্ট।
বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি যে দিন থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিষেবার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নির্মাণে কোটি কোটি ডলার ঢালছে তবে থেকেই মানবসম্পদ খাতে খরচ কমানোর উপায়ও খুঁজছে। বিশ্ব জুড়ে মাইক্রোসফ্টের তথ্যভান্ডার নির্মাণের কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। অর্থ সাশ্রয়ের জন্য কর্মীছাঁটাই একটি প্রচলিত পন্থা হয়ে উঠেছে। মাইক্রোসফ্ট ২০২৩ সালের শুরু থেকে পর্যায়ক্রমিক ভাবে ব্যাপক হারে কর্মীছাঁটাই করেছে। যদিও ওপেন এআই-এর উপর অত্যধিক নির্ভরতা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা দোলাচলে রয়েছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্লাউড ইউনিটের মন্থর বৃদ্ধি। সেই কারণে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে মাইক্রোসফ্টের শেয়ারের দাম প্রায় ২৪ শতাংশ পড়ে গিয়েছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম। এই বছরের সবচেয়ে খারাপ ‘বিগ টেক’ স্টকের তালিকায় নাম যুক্ত হয়েছে মাইক্রোসফ্টের।