ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ অম্বানীর সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ আমেরিকার ধনকুবের প্রযুক্তিবিদ মার্ক জ়ুকেরবার্গের সংস্থার। গুজরাতের জামনগরে ১৬৮ মেগাওয়াটের কৃত্রিম মেধা বা এআই ডেটা সেন্টার লিজ় বা ইজারা নিতে রিলায়্যান্সের সঙ্গে চুক্তি করল মেটা। ‘রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ় লিমিটেড’ গুজরাতের জামনগরে ওই এআই ডেটা সেন্টার প্রকল্পের জন্য মেটার সঙ্গে এই যৌথ উদ্যোগের কথা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে।
রিলায়্যান্স জানিয়েছে, ১৬৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি এআই ডেটা সেন্টার তৈরি করবে তারা, যা আগামী দু’বছরের মধ্যে চালু করা হবে। ভবিষ্যতে এই ডেটা সেন্টারটির ক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগও থাকবে। এটি ভারতে মেটার জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি (বিল্ট-টু-সুট) প্রথম ডেটা সেন্টার হবে। মেটা এই কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় ‘ক্যাপাসিটি’ লিজ় বা ইজারা নেবে। এআই পরিকাঠামোর বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসাবে ভারতের উত্থানের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এই ডেটা সেন্টারটি।
এই উদ্যোগ জ়ুকেরবার্গের মেটার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বিশ্বব্যাপী পরিকাঠামো সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে আমেরিকার প্রযুক্তি সংস্থাটির এটি একটি বড় পদক্ষেপ। অম্বানীদের রিলায়্যান্সের সঙ্গে তাদের দীর্ঘ দিনের কৌশলগত অংশীদারিকেও আরও সুদৃঢ় করবে এই উদ্যোগ। বিশ্বের অন্যতম গতিশীল ডিজিটাল বাজারে সংযোগ, বাণিজ্য এবং এআই উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বিস্তৃত এই অংশীদারি। ডেটা সেন্টারটি মেটার বৈশ্বিক পরিকাঠামোকে মজবুত করবে এবং তাদের মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং এআই কম্পিউটেশনের চাহিদা পূরণ করবে, যা বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল ও এআই ইকোসিস্টেমে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকে তুলে ধরবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, বিশ্বের দু’টি তাবড় সংস্থার চুক্তির আওতায়, ‘রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ় লিমিটেড’ ডেটা সেন্টারের সম্পূর্ণ জীবনচক্র জুড়ে সামগ্রিক বা ‘এন্ড-টু-এন্ড’ পরিষেবাও প্রদান করবে, যার মধ্যে রয়েছে নকশা এবং নির্মাণ থেকে শুরু করে ইউটিলিটি ব্যবস্থাপনা, পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ, নেটওয়ার্ক সংযোগ এবং নিখুঁত অপারেশনাল পরিষেবা। এর ফলে ভারত জুড়ে হাইপারস্কেল এআই পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে রিলায়্যান্স একটি একক-উৎস সমাধান প্রদানকারী হিসাবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে।
জানা গিয়েছে, কৌশলগত অবস্থান এবং উল্লেখযোগ্য সুবিধার জন্যই বৃহৎ পরিসরের ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য গুজরাতকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিষেবা প্রদানের ক্ষমতা, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ও জলের সহজলভ্যতা এবং ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন ও জিয়োর বিস্তৃত ফাইবার নেটওয়ার্কের কাছাকাছি অবস্থান। ডেটা সেন্টারটি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি দ্বারা চালিত হবে এবং সমুদ্রের জল লবণমুক্ত করে শীতল রাখা হবে, যা স্থায়িত্ব বা পরিবেশ-বান্ধব কার্যক্রমের প্রতি রিলায়্যান্স এবং মেটা উভয়েরই দায়িত্ব এবং প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করবে।
রিলায়্যান্স এবং মেটার এই যৌথ উদ্যোগ ভারত সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকার ওই ডেটা সেন্টারগুলিকে কৌশলগত জাতীয় পরিকাঠামো হিসাবে চিহ্নিত করেছে এবং ভারতে বৈশ্বিক এআই পরিকাঠামো বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি নীতি প্রবর্তন করেছে।
এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ় লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর মুকেশ অম্বানী বলেছেন, “মেটার সঙ্গে এই অংশীদারি ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। মেটার মতো বিশাল মাপের এক প্রযুক্তি সংস্থার জন্য ভারতে বিশেষ ভাবে পরিকল্পিত (বিল্ট-টু-সুট) ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা প্রমাণ করে যে, বিশ্ব জুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিপ্লবের প্রথম সারিতে থাকার জন্য ভারত প্রস্তুত। রিলায়্যান্স এমন বিশ্বমানের ডিজিটাল পরিকাঠামো গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা কেবল ভারতের জন্যই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের জন্য পরবর্তী প্রজন্মের এআই উদ্ভাবনের চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে। হাইপারস্কেল এআই কম্পিউটিংয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে জামনগর। এই লক্ষ্যকে বাস্তব রূপ দিতে মেটার অংশীদার হতে পেরে আমরা গর্বিত।”
অন্য দিকে মেটার প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও জ়ুকেরবার্গ বলেছেন, ‘‘ভারতে আমাদের প্রথম এআই-চালিত ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার লক্ষ্যে রিলায়্যান্সের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমরা গর্বিত। জামনগরে অবস্থিত এই বিশ্বমানের কেন্দ্রটি আমাদের এআই পরিকাঠামোকে বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারিত করতে এবং একই সঙ্গে ভারতের অর্থনীতিতে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকে আরও জোরদার করতে সহায়তা করবে।’’