Share Market

জোড়া সমস্যা মেটানোর চেষ্টা, বিদেশি লগ্নি টানতে নির্মলার অস্ত্র ডেটা সেন্টার এবং অনাবাসীরা

নির্মলার ঘোষণার মধ্যে অন্যতম দেশে ক্লাউড পরিষেবা দেওয়া তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির ডেটা সেন্টার গড়ার ব্যবস্থা তৈরি করা। অর্থমন্ত্রী জানান, যে সব বহুজাতিক সংস্থা ভারতে তথ্য কেন্দ্র তৈরি করে সারা বিশ্বে পরিষেবা দেবে, তারা ২০৪৭ সাল পর্যন্ত করে ছাড় পাবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৫
নির্মলা সীতারামন।

নির্মলা সীতারামন। — ফাইল চিত্র।

প্রত্যক্ষ বিদেশি লগ্নি টানতে মোদী সরকার ব্যর্থ বলে ক্রমাগত তোপ দাগছেন বিরোধীরা। বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলির ভারতের শেয়ার বাজার থেকে পুঁজি তুলে নেওয়া বহাল থাকায় দোলাচলে সূচক। এই পরিস্থিতিতে রবিবার বাজেটে একগুচ্ছ ঘোষণা করে দুই সমস্যা মেটানোরই চেষ্টা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এক দিকে বিদেশি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে করে ‘ছুটি’ দিয়ে ভারতমুখো করার প্রস্তাব দিলেন, অন্য দিকে অনাবাসী ভারতীয়দের এ দেশের শেয়ার বাজারে টেনে আনার পথ প্রশস্ত করলেন।

এ দিন নির্মলার ঘোষণার মধ্যে অন্যতম দেশে ক্লাউড পরিষেবা দেওয়া তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির ডেটা সেন্টার গড়ার ব্যবস্থা তৈরি করা। অর্থমন্ত্রী জানান, যে সব বহুজাতিক সংস্থা ভারতে তথ্য কেন্দ্র তৈরি করে সারা বিশ্বে পরিষেবা দেবে, তারা ২০৪৭ সাল পর্যন্ত করে ছাড় পাবে। এই সিদ্ধান্ত দেশের সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নের অঙ্গ বলে জানিয়ে তাঁর বার্তা, আধুনিক পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য শুধু সরকারি লগ্নিই যথেষ্ট নয়। চাই বেসরকারি লগ্নির পথ খোলা। তবে ভারতে বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি তথ্য পরিষেবা দিতে চাইলে, তা দিতে হবে কোনও দেশীয় সংস্থার মাধ্যমেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বে তথ্য সরবরাহ পরিষেবা ক্ষেত্রে ভারতকে হাব হিসেবে গড়া।

আবার এ দেশের শেয়ার বাজারে লগ্নির ক্ষেত্রে অনাবাসী ভারতীয়দের জন্য বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থাও করা হয়েছে বাজেটে। এত দিন বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থায় নথিভুক্ত হয়ে এখানে শেয়ারে পুঁজি ঢালতে পারতেন তাঁরা। নির্মলা জানিয়েছেন, এ বার থেকে অনাবাসী ভারতীয়েরা বিশেষ লগ্নি প্রকল্পের (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট স্কিম) মাধ্যমে সরাসরি ভারতের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, গত বছর বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলি দেশের বাজার থেকে ১.৬৬ লক্ষ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। জানুয়ারিতেও বহাল তাদের প্রস্থান। এই পরিস্থিতিতেঅনাবাসীদের শেয়ারে আকৃষ্ট করতেই এই পদক্ষেপ তাঁর।

পাশাপাশি, এখন গুজরাতের গিফ্ট সিটিতে সংস্থা গড়ে শেয়ার এবং বন্ডে লগ্নি করার ক্ষেত্রে ১০ বছর পর্যন্ত কর দিতে হয় না। এ বার থেকে ওই সুবিধা পাওয়া যাবে ২০ বছর পর্যন্ত। দেশি এবং বিদেশি উভয় লগ্নি সংস্থার ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য হবে। শেয়ার বাজার বিশেষজ্ঞ আশিস নন্দী বলেন, ‘‘গিফ্ট সিটিতে শুধুমাত্র বিদেশি মুদ্রায় লগ্নি করা যায়। ফলে বাইরের সংস্থা বা লগ্নিকারীরা সেখানে সংস্থা তৈরি করলে তাঁদের হাত ধরে ভারতে বিদেশি মুদ্রাও বেশি করে আসবে।’’

আরও পড়ুন