(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ভারত-আমেরিকার সামগ্রিক বাণিজ্য সম্পর্ককেই খতিয়ে দেখুক মোদী সরকার— আজ বাণিজ্য মন্ত্রকের সংসদীয় কমিটি এই মর্মে রিপোর্ট পেশ করল সংসদের দুই কক্ষে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনের নেতৃত্বাধীন এই কমিটির অধিকাংশ সদস্যই বিজেপি-র। পেশ করেছেন দুই বিজেপি সাংসদ (লোকসভায় অতুল গর্গ, রাজ্যসভায় ভাগবত কারাট)। তবু আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আমেরিকার শুল্ক, নেপালের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি, সরকারের পাট নীতি, রফতানি নীতি নিয়ে সমালোচনা রিপোর্টের ছত্রে-ছত্রে। বাজেটের ব্যয় বরাদ্দ সংক্রান্ত এই সংসদীয় রিপোর্টের বক্তব্যকে কেন্দ্রে রেখে কমিটির চেয়ারপার্সন দোলা চিঠি দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল, বস্ত্রমন্ত্রী গিরিরাজ সিংহ, সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গডকড়ি, কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানকে।
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ভারতের বাণিজ্যে চড়া ডলারের মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, ভারতীয় পণ্যে আমেরিকার শুল্ক ৫০% থেকে কমিয়ে ১৮% করার অর্থ আসলে আগের ৩% থেকে বাড়িয়ে ১৫% বাড়তি বোঝা চাপানো। বিশ্ব বাজারে তেল-গ্যাসের দাম ২০১৪-র জানুয়ারির তুলনায় কমেছে। তবু ভারতে পেট্রল থেকে সিএনজি-র দাম কেন বাড়ছে, কেন্দ্রের কাছে তার ব্যাখ্যাও চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। দাবি, অন্য দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে যাতে সমতা থাকে, তা পর্যালোচনা করুক মন্ত্রক। সাম্প্রতিক পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেও রিপোর্টে বলা হয়েছে, এলপিজির দুষ্প্রাপ্যতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, সে দিকে নজর দিক কেন্দ্র।
দোলার কথায়, “অর্থনৈতিক ও নীতি নির্ধারণের কারণে যাতে দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের উপরে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, কৃষিপ্রধান দেশের ঐতিহ্য, পরিবেশবান্ধব শিল্পের উপর জোর দেওয়া হয়, শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে যাতে সাংবিধানিক অধিকার ও ন্যায় পালন করা সে বিষয়ে কমিটি তার চিন্তা ও মতামত প্রকাশ করেছে।”