সঙ্কট: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে টান পড়েছে জ্বালানির জোগানে। এলপিজি ভরার জন্য দীর্ঘ লাইন অটোর। বুধবার, উত্তর হাওড়ায়। ছবি: দীপঙ্কর মজুমদার।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য শুধু রান্নার গ্যাসে নয়, জোগানে ফের টান পড়েছে অটোরিকশার জ্বালানি এলপিজি-তে। যার জেরে পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণের বিভিন্ন রুটে। সেই সঙ্গে শহরতলির বিভিন্ন এলাকা এবং হাওড়া শহরেও দেখা গিয়েছে একই ছবি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এবং বুধবার দিনভর অটোচালকদের বড় অংশকে বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে গ্যাস ভরানোর জন্য। প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড, রুবি, চেতলা, মহামায়াতলা বা গড়িয়া— সর্বত্রই পেট্রল পাম্পের বাইরে কয়েকশো অটোর দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে। প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের পাম্পে অপেক্ষমাণ অটোর লাইন পৌঁছে যাচ্ছে যাদবপুর থানা পর্যন্ত। একই চিত্র উত্তর কলকাতা এবং হাওড়া-সহ শহরতলির বিভিন্ন পাম্পে। মধ্যরাত থেকে লাইন দিয়ে সকাল ১০টা নাগাদ গ্যাস মিলেছে, এমন ঘটনাও ঘটছে।
যুদ্ধ শুরু হতেই অটোর এলপিজি-র জোগানে টান পড়ার খবর কানে এসেছিল। মাঝে জোগান কিছুটা স্বাভাবিক হলেও ফের তাতে টান পড়েছে বলে অভিযোগ। পেট্রল পাম্প মালিকদের সংগঠন সূত্রের খবর, চাহিদা এবং জোগানের মধ্যে মাঝেমধ্যেই ফারাক তৈরি হওয়ায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সরকারি তরফে জোগান স্বাভাবিক আছে বলে দাবি করা হলেও প্রায়ই চাহিদার তুলনায় কম সংখ্যক ট্যাঙ্কার এসে পৌঁছচ্ছে। ফলে, অটোচালকদের অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে বেশি করে গ্যাস কিনছেন। তাতে চাহিদা আরও বেড়ে সঙ্কট বড় আকার নিচ্ছে। এলপিজি-সঙ্কটের কারণে বহু রুটে ভাড়াও ওঠানামা করছে। অভিযোগ, রাতের দিকে গাড়ির সংখ্যা কমে এলে ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছেন চালকদের একাংশ।
এলপিজি-সঙ্কটের জেরে যাদবপুর-রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো, যাদবপুর-তারাতলা, গোলপার্ক-গড়িয়া, রুবি-গড়িয়া, রাসবিহারী-গড়িয়াহাট, রাসবিহারী-অজন্তা সিনেমা, উল্টোডাঙা-শোভাবাজার-সহ বিভিন্ন রুটের পরিষেবায় প্রভাব পড়েছে। ৩০-৪০ শতাংশ অটো রাস্তায় নামছে না। ফলে, রাতে বাড়ি ফেরার পথে বা সকালের ব্যস্ত সময়ে অটো পেতে সমস্যা হচ্ছে।
যে সব অটো রান্নার গ্যাস বা ‘কাটা’ গ্যাসে চলত, এখন সেগুলিও চালানো যাচ্ছে না। রান্নার গ্যাস নিয়ে কড়াকড়ির জেরে অটোচালকেরা বেআইনি পথে কাটা গ্যাস কিনতে না পারায় সেই ভিড়ও পেট্রল পাম্পমুখী হয়েছে। আইএনটিটিইউসি-র অটোচালক সংগঠনের নেতা দেবরাজ ঘোষও জানালেন, কাটা গ্যাস না পাওয়ায় পাম্পে ভিড় বাড়ছে। তাতে রুটে অটো কমছে। অটোচালক সংগঠনের প্রাক্তন নেতা এবং অটোর মালিক গোপাল সুতার বললেন, ‘‘গ্যাসের সরবরাহ ওঠানামা করছে। সাপ্লাই চেন ঠিক থাকছে না। সরকারি স্তরে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। না-হলে সমস্যা ভয়াবহ আকার নেবে।’’
রাজ্যের পেট্রোলিয়াম ডিলারদের সংগঠনের নেতা কল্যাণ মান্নার কথায়, ‘‘জোগানের ধারাবাহিকতায় সমস্যা রয়েছে। সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা সমান ভাবে সব কিছুর জোগান দিতে পারছে না। বাজারে আশঙ্কা থাকলে অস্থিরতা তৈরি হয়। তাতে সমস্যা বাড়ে। এ ক্ষেত্রে সেটাই ঘটছে।’’