WB Elections 2026

চেনা মাঠে আবার লড়াইয়ে দুধকুমার

প্রথম দফায় জেলার কয়েক’টি আসনে বিজেপি প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তাতে ময়ূরেশ্বরে দুধকুমারের পাশাপাশি বোলপুরে দিলীপ ঘোষের মতো পুরনো মুখ আছে।

অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় 
শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ১০:৩৪
দুধকুমার মণ্ডল।

দুধকুমার মণ্ডল। ফাইল চিত্র।

চেনা মাঠ। চেনা লড়াই। তাই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিজেপির ময়ূরেশ্বরের প্রার্থী দুধকুমার মণ্ডল। যদিও রাজ্য সরকারের নানা উন্নয়ন প্রকল্প ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে সাধারণ মানুষের ‘হয়রানি’কে হাতিয়ার করে তাঁকে হারাবেন বলে দাবি বিদায়ী বিধায়ক অভিজিৎ রায়ের।

প্রথম দফায় জেলার কয়েক’টি আসনে বিজেপি প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তাতে ময়ূরেশ্বরে দুধকুমারের পাশাপাশি বোলপুরে দিলীপ ঘোষের মতো পুরনো মুখ আছে। দু’জনকেই বিজেপির জেলা রাজনীতিতে সে ভাবে সক্রিয় ভূমিকায় সম্প্রতি দেখা যেত না। যদিও ১৯৮৮ সাল থেকে বিজেপির হয়ে লড়াইয়ের মাঠে আসে আছেন দুধকুমার। তবে জেলা বিজেপির কার্যত সবাই স্বীকার করেন, চার দশক আগে কাজ শুরু করা দুধকুমার জেলায় গেরুয়া শিবিরের সংগঠন বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০১২ সাল থেকে দুবছর দলের অখণ্ড বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদে থেকে আক্রমণাত্মক এবং রক্ষণাত্মক ভূমিকায় নরমে গরমে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। সেই সময় তিনিই শাসক তৃণমূলের রক্তচক্ষু উপক্ষা করে পাড়ুই থানার চৌমণ্ডলপুরে আন্দোলনে নেমেছিলেন। তবে দুধকুমারের সঙ্গে দলের সম্পর্ক মসৃণ থাকেনি। চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। নেতৃত্বের সমালোচনা শাস্তির খাঁড়া নেমেছে। কিন্তু থামানো যায়নি দুধকুমারকে। ২০২৩ সালের স্বমহিমায় ফিরে পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়ী হন দুধকুমার।

সংগঠনের পাশাপাশি ভোটের ময়দানেও নেমেছেন তিনি। ময়ূরেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েত ও ময়ূরেশ্বর ২ পঞ্চায়েত সমিতিতে সব মিলিয়ে ৬ বার প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন। ৬ বারই জয়ী হয়েছেন। এরই মাঝে ২০১১ সালে ময়ূরেশ্বর বিধানসভা এবং ২০১৬ সালে রামপুরহাট বিধানসভায় প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রেও তাঁকে প্রার্থী করেছিল দল। কিন্তু বিধানসভা ও লোকসভায় সাফল্য পাননি দুধকুমার।

কিন্তু ময়ূরেশ্বরে আবারও দুধকুমারে ভরসা রেখেছে দল। তিনিও আত্মবিশ্বাসী। দুধকুমার বলেন, ‘‘দল আমার প্রতি আস্থা রেখে প্রার্থী করেছে। তৃণমূলের অপশাসন, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্যবাসী পরিবর্তন চাইছেন। সে পরিবর্তন হবেই।’’

আবার টিকিট পাওয়া অভিজিৎ বলেন, ‘‘বিজেপি মানুষের স্বার্থে কোনও কাজ করেনি। এসআইআর-এ হয়রানি তার বড় প্রমাণ। রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের সুবিধা সবাই পেয়েছেন। আমরা ব্যবধান বাড়ানোর লক্ষ্যে নেমেছি।’’

আরও পড়ুন