Offbeat Hill Station

উচ্চ মাধ্যমিক শেষে পাহাড়ে যাওয়ার ভাবনা? ছবির মতো সুন্দর উত্তরবঙ্গের ৩ গ্রাম থাক তালিকায়

নিউ জলপাইগুড়ির টিকিট কাটা কিন্তু গন্তব্য স্থির হয়নি? নিরালা স্থান, পাহাড়ি খাবারের স্বাদ পেতে চলুন চেনা ছকের বাইরে। অপেক্ষা করছে পাহাড়ি গ্রাম।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ১২:০৬
উত্তরবঙ্গ বেড়াতে যাবেন? সাকিন হোক নির্জন গ্রাম।

উত্তরবঙ্গ বেড়াতে যাবেন? সাকিন হোক নির্জন গ্রাম। ছবি: সংগৃহীত।

উচ্চ মাধ্যমিক শেষ হচ্ছে এই মাসের শেষে। তার পরেই বেড়ানোর পরিকল্পনা? হিমাচল প্রদেশ, কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড— যে কোনও জায়গাই মার্চ-এপ্রিলে ঘোরার জন্য আদর্শ। তবে হাতে যদি সময় অল্প হয়, তা হলে পাহাড় দেখতে চলুন উত্তরবঙ্গে। প্রকৃতি সদয় হলে দেখা মিলবে কাঞ্চনজঙ্ঘার।

Advertisement
কাঞ্চনজঙ্ঘা, চা-বাগান, টয় ট্রেনের টানে চলুন পাহাড়ে।

কাঞ্চনজঙ্ঘা, চা-বাগান, টয় ট্রেনের টানে চলুন পাহাড়ে। ছবি: সংগৃহীত।

উত্তরবঙ্গ মানেই দার্জিলিং, পাহাড়ের রানি। তবে এই শহর যদি ঘোরা হয়ে গিয়ে থাকে, তা হলে বেছে নিতে পারেন নির্জন কোনও পাহাড়ি গ্রাম। ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ধকল, বড়দের কাজের ক্লান্তি নিমেষেই মুছে যাবে প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য পেলে।

রঙ্গারুন

চা-বাগিচার চাদরে মোড়া পাহাড়ি ঢাল বাড়িয়েছে রঙ্গারুনের শোভা।

চা-বাগিচার চাদরে মোড়া পাহাড়ি ঢাল বাড়িয়েছে রঙ্গারুনের শোভা। ছবি:সংগৃহীত।

ক্ষণিকের নির্জনতা, পাহাড়ি খাবারের স্বাদ পেতে গন্তব্য হতে পারে দার্জিলিঙের অদূরে চা-বাগিচা ঘেরা গ্রাম রঙ্গারুন। দার্জিলিং থেকে দূরত্ব ১৬ কিলোমিটারের মতো। এই গ্রামের পাহাড়ি ঢালে যেন সবুজ গালিচা পাতা। চায়ের বাগান ঘিরে রয়েছে গ্রামটিকে। ছোট ছোট কাঠের বাড়ি, ফুলের গাছ, পাহাড়, চাষের ক্ষেত— সব মিলিয়ে আর পাঁচটা পাহাড়ি গ্রামের থেকে বিশেষ কিছু তফাৎ নেই। তবু এই স্থানে আসা যায় প্রকৃতির সান্নিধ্যের জন্যই। দুটো দিন নিশ্চিন্তে অবসর যাপনের জন্যই যেন গ্রামটি। রোদঝলমলে দিনে কুয়াশার চাদর সরে গেলে রঙ্গারুন থেকে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। নরম রোদে গা এলিয়ে দিব্যি বসে থাকা যায়।রঙ্গারুনের চা-বাগান যেন গালিচার মতো। হাঁটা পথে ধাপে ধাপে যাওয়া যায় অনেক দূরে। রঙ্গারুন থেকে ট্রেক করা যায় বেশ কয়েকটি পথে। পৌঁছোনো যায় রুংদাং খোলায়। আর কোথাও যেতে ইচ্ছা না হলে চা-বাগানেও হেঁটে নিতে পারেন। এখানে থাকার জন্য একাধিক হোম-স্টে আছে। গ্রামের রাস্তার ধারে রয়েছে ছোটখাটো ক্যাফেও।

কী ভাবে যাবেন

ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছে সেখান থেকে জোড়বাংলো হয়ে রঙ্গারুন। দূরত্ব মোটামুটি ৭৫ কিলোমিটার। শিলিগুড়ি থেকে জোড়বাংলো যাওয়ার শেয়ার গাড়ি মিলবে। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে বাকি পথটা যেতে পারেন।

রামধুরা

মেঘমুক্ত দিনে রামধুরা থেকে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা।

মেঘমুক্ত দিনে রামধুরা থেকে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। ছবি:সংগৃহীত।

দার্জিলিঙের বদলে যদি কালিম্পংয়ের দিকে যেতে চান, তা হলে চলুন রামধুরা। দার্জিলিঙের মতো কালিম্পং এখন ঘিঞ্জি হয়ে উঠেছে। তাই পাহাড়, সিঙ্কোনা, পাইনবন, পাখি-কাঞ্চনজঙ্ঘার সঙ্গ পেতে চলুন কালিম্পং থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে রামধুরায়। এখান এলে যতদূর চোখ যাবে দেখতে পাবেন সবুজ। উপত্যকায় জমাট বাঁধা মেঘ-কুয়াশা। আকাশ পরিষ্কার থাকলে এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পাবেন। সূর্যোদয় মন ভরিয়ে দেবে। দু’টি দিন নিরালা যাপনের জন্য এ স্থান মনোরম। তবে গা়ড়ি নিয়ে ঘুরে নিতে পারেন ডেলো পার্ক, লাভা। চলে যেতে পারেন কোলাখাম, চারখোলের দিকেও। কালিম্পঙেও সাইট সিইং করতে পারেন। একাধিক হোম স্টে রয়েছে এখানে।

কী ভাবে যাবেন

ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন পৌঁছে সেখান থেকে কালিম্পং হয়ে রামধুরা। সরাসরি গাড়ি ভাড়া করেন। শিলিগুড়ির পানিট্যাংকি মোড় থেকে কালিম্পং যাওয়ার শেয়ার গাড়ি মিলবে। বাকি রাস্তার জন্য ট্যাক্সি করে নিতে পারেন।

চিমনি গ্রাম

কার্শিয়াংয়ের কাছে চিমনি গাঁওতে ঘুরতে পারেন।

কার্শিয়াংয়ের কাছে চিমনি গাঁওতে ঘুরতে পারেন। ছবি:সংগৃহীত।

গন্তব্য কার্শিয়াং হলে থাকার জন্য বেছে নিন চিমনি। কার্শিয়াং থেকে দূরত্ব ৭ কিলোমিটার। পাহাড় ঘেরা চিমনি গ্রামের সৌন্দর্য মনে করাবে শিল্পীর আঁকা ছবির কথা। নির্জনতা এবং নিজস্বতা তাকে আলাদা করেছে। ব্রিটিশ আমলের ডাকবাংলোর সুবিশাল চিমনি এখানে দর্শনীয়। পাহাড়ের ধাপে ধাপে উদ্যান। সেখানেই সংরক্ষিত চিমনিটি। স্ট্রবেরি বাগান, কুয়াশা মাখা গা-ছমছমে পাইন বন ঘুরে নিতে পারেন এখানে থেকে। এ ছাড়া, বাগোড়া, চটকপুর অথবা ডাউ হিল কিংবা মংপু ঘুরে আসতে পারবেন। এখানে থাকার জন্য হোম স্টে রয়েছে।

কী ভাবে যাবেন?

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে গাড়ি ভাড়া করে গন্তব্যে পৌঁছোনো সবচেয়ে সুবিধাজনক।

Advertisement
আরও পড়ুন