রাজনীতির ময়দানে লড়াই না করার সিদ্ধান্ত কি সঠিক ছিল কাঞ্চনের? ছবি: সংগৃহীত।
বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, ২০২৬-এ আর রাজনীতির ময়দানে লড়বেন না তিনি। উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক। ৪ মে ফলপ্রকাশের পরে পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে কী বললেন? বন্ধু রুদ্রনীল ঘোষকে কি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন? অন্য দিকে, আর এক বন্ধু রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে ঘটা কাদা ছোড়ার ঘটনার পরে কি তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে কাঞ্চনের? রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত কি এখন সঠিক বলে মনে হচ্ছে তাঁর?
কথার শুরুতেই কাঞ্চন বললেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানেই রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলাম। অনেক বেশি মার্জিনে জিতেছিলাম ভোটে। কিন্তু তার পরেও আমার কোনও অফিস ছিল না। উত্তরপাড়ার মাখলায় একটি ক্লাবে বসতাম। অফিসও পাইনি। সেখান থেকেই সব কাজ করতাম। যা যা কাজ করেছি সেই কার্যতালিকা সবাইকে দিয়েওছি। কার্যকাল শেষের আগে ওখানকার শীর্ষনেতাদের মিষ্টি ব্যবহার, খারাপ ব্যবহার, অসহযোগিতা— সবই তো পেয়েছি। কিন্তু মুখ বন্ধ করে রেখেছিলাম। যাতে দলীয় কোন্দল সামনে না আসে, তাই চুপ ছিলাম। শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ চেয়ে।” তবে পাঁচ বছর বিধায়ক পদে থাকার পরে কাঞ্চনের মনে হয়েছে, রাজনীতির ময়দান তাঁর জন্য নয়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজনীতির মঞ্চে কাঞ্চন। ছবি: সংগৃহীত।
কাঞ্চন এ বার যোগ করেন, “আমার পেশা অভিনয় করা। সেখান থেকে আমার মনে হয়েছিল, হয়তো আমি বিধায়কপদের যোগ্য নই। ৩০ বছর ধরে অভিনয় করছি। অভিনয় পেশায় আমি হয়তো কিঞ্চিৎ দক্ষ। তাই অবশ্যই এই (রাজনীতি ছাড়ার) সিদ্ধান্ত সঠিক বলেই আমার মনে হয়েছে। আর আমি রাজনীতির ময়দানে যখন কাজ করতে গিয়েছিলাম তখন এত গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং এত ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হব সেটা ভাবতে পারিনি। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব না থাকলে এই পরাজয়টা হয়তো হত না। তাও মনে হয়েছে, সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলাম। তবে এখানে নেই মানে যে ওখানে যাব সেটাও নয়। আমি কোথাও নেই। পাঁচ বছরের কার্যকালে একটা কথা বলতে পারি, মাথা উঁচু করে শিরদাঁড়া সোজা করে বেরিয়ে এসেছি। কার্যকাল সম্পন্ন করেছি। উত্তরপাড়ার সবাইকে ধন্যবাদ।” মঞ্চে এবং পর্দায় অভিনয় মিলিয়ে তাঁর প্রায় ৩৪ বছর হল স্টুডিয়োপাড়ায়। তাই আপাতত এটা নিয়েই থাকতে চান কাঞ্চন।
উন্নয়নের পাঁচালি হাতে কাঞ্চন। ছবি: ফেসবুক।
নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরে রুদ্রনীল ঘোষের জয়ে খুশি কাঞ্চন। অভিনয় ক্ষেত্রে তাঁদের একসঙ্গে বেড়ে ওঠা। এই প্রেক্ষিতে কাঞ্চন বললেন, “রুদ্রও রাজনীতির শিকার। প্রায় বয়কট করা হয়েছে ওকে। কাজের ক্ষেত্রে বাধা পেয়েছে। এত কিছুর পরেও ও নিজের জায়গা ছাড়েনি।” অন্য দিকে, রাজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনারও তীব্র প্রতিবাদ জানান কাঞ্চন। তিনি যোগ করেন, “একটা মানুষ সবসময় কি প্রথম হবে? সম্ভব? আপনার আনন্দ যেন কারও নিরানন্দের কারণ না হয়, এটা ঠিক নয়।”
প্রাক্তন বিধায়ক তথা অভিনেতা কাঞ্চন অবশ্য এখন রাজনীতি নয়, অভিনয়েই বেশি মন দিতে চান। আর মেয়ে কৃষভির সঙ্গে কাটানো সময়গুলো চুটিয়ে উপভোগ করতে চান। ৬ মে অভিনেতার জন্মদিনে তাই নেই কোনও রাজনৈতিক হারজিতের চিন্তা। রয়েছে শুধুই উদ্যাপন। স্ত্রী শ্রীময়ী বেশ কিছু পরিকল্পনা করেছেন। কাঞ্চনের প্রিয় খাবার রান্না করবেন। সাজিয়ে দেবেন জন্মদিনের থালা। কথোপকথনের সময়ে কাঞ্চনের পাশেই ছিলেন স্ত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজ। তিনি বললেন, “মেয়ে অসুস্থ ছিল। তাই খুব বেশি কিছু পরিকল্পনা করিনি। বাড়িতে ওর প্রিয় পদ রান্না করব।”
স্ত্রী শ্রীময়ী এবং মেয়ে কৃষভির সঙ্গে কাঞ্চন ছবি: ফেসবুক।
শ্রীময়ীরই অভিনয় জীবনের বেশ কিছু কাজের মধ্যে অন্যতম আলোচিত শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কাজ। ‘কৃষ্ণকলি’ ধারাবাহিকে শর্বরীর মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শ্রীময়ী। যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হিসাবে জয়ী হয়েছেন শর্বরী। কথা প্রসঙ্গে শর্বরীর কথা উঠতেই শ্রীময়ী বললেন, “শর্বরীদির সঙ্গে যোগাযোগ আছে। ২০২১ সালে যে বার কাঞ্চন জিতেছিল তখন শর্বরীদিকে বলেছিলাম তুমি কেন এখনও ওই দলে আছ। কিন্তু শর্বরীদি ঘোষিত বিজেপি ছিল বরাবরই। দাঁতে দাঁত চেপে পড়েছিল। দলের হয়ে পরিশ্রম করেছিল। অবশ্যই শুভেচ্ছা জানাব।” রাজনৈতিক পালাবদলের ছায়া নয়, আপাতত কাঞ্চনের জন্মদিন নিয়েই ব্যস্ত শ্রীময়ী। পাশাপাশি, ধারাবাহিকের শুটিংয়েই কেটে যাচ্ছে সময়।