—প্রতীকী চিত্র।
কখনও ফোন করে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া। কখনও আবার স্মার্টফোনে লিঙ্ক পাঠিয়ে অ্যাকাউন্ট হ্যাক। ডিজিটাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতিতে নাজেহাল গ্রাহক। পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেও মিলছে না সুরাহা। কারণ, অপরাধীকে গ্রেফতার করলেও বহু ক্ষেত্রে টাকা উদ্ধার ব্যর্থ হন তদন্তকারীরা। এ-হেন পরিস্থিতিতে গ্রাহক সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ করল রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই)।
সম্প্রতি, ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে ‘রেসপনসিবল বিজ়নেস কন্ডাক্ট ডিরেকশনস’ আইনের ধারা সংশোধন করেছে দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক। সেখানে বলা হয়েছে, হ্যাকার হানার ঘটনা ঘটলে প্রথমেই গ্রাহকের ঘাড়ে দোষ চাপাতে পারবে না সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক। উল্টে তদন্ত করে গোটা বিষয়টি দেখতে হবে তাঁদের।
আরবিআই জানিয়েছে, বহু ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের অবহেলার কারণে অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হচ্ছে গ্রাহকের। অবিলম্বে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে সেদিকে নজর দিতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের দাবি, আমজনতার অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার রক্ষণাবেক্ষণ, লেনদেন সংক্রান্ত সতর্কতামূলক বার্তা পাঠানো, ২৪x৭ অভিযোগের ব্যবস্থা, এমনকি অভিযোগ পাওয়ার পরও গা ছাড়া মনোভাবের ভূরি ভূরি অভিযোগ রয়েছে।
রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের সংশোধিত আইন অনুযায়ী, ব্যাঙ্কের অবহেলার কারণে গ্রাহক সাইবার অপরাধের শিকার হলে, তার দায় পুরোপুরি ভাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে স্বল্পমূল্যের জালিয়াতির ক্ষেত্রে এই প্রথম ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা চালু করছে আরবিআই। ফলে আগামী দিনে হ্যাকাররা অ্যাকাউন্ট সাফ করলেও কিছু টাকা ফেরত পাবেন গ্রাহক।
কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একক মালিকানাধীন ব্যবসা এবং ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল জালিয়াতি হলে, ৮৫ শতাংশ ক্ষতিপূরণ পাবেন গ্রাহক। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা ফেরত দেওয়া হবে তাঁকে। তবে সেখানেও মানতে হবে কিছু শর্ত।
ডিজিটাল লেনদেনের সময় বহু ক্ষেত্রে অসাবধানতার কারণে প্রতারণার মুখে পড়েন গ্রাহক। ওই ধরনের ঘটনা ঘটলে তবেই এই সুবিধা পাবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। আর্থিক ক্ষতিপূরণের বড় অংশই বহণ করবে আরবিআই। কিছু ক্ষেত্রে সেখানে অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেই ব্যাঙ্ক ফেরত দেবে ৬৫ শতাংশ টাকা।
এর পাশাপাশি, ডিজিটাল জালিয়াতির পাঁচ দিনের মধ্যে গ্রাহককে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক এবং জাতীয় সাইবার ক্রাইম পোর্টালে অভিযোগ দায়ের করতে হবে। তার পরই সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে তদন্তে নামবে ওই আর্থিক প্রতিষ্ঠান। সেখানে অসাবধানতার বিষয়টি প্রমাণ হলে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ২৫,০০০ টাকা।
রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী বছরের প্রথম দিন থেকে (পড়ুন ১ জানুয়ারি, ২০২৭) চালু হবে নতুন নিয়ম। ইন্টারনেট ব্যাঙ্ক, মোবাইল ব্যাঙ্কিং, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ব্যাঙ্কিংকে এর অন্তর্ভুক্ত করেছে আরবিআই।