শমীক ভট্টাচার্য। —ফাইল চিত্র।
গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন শীঘ্রই রাজ্যে নতুন জমি নীতি আনার কথা। সোমবার বণিকসভা ভারত চেম্বারের এক অনুষ্ঠানে সেই কথা রাখার জন্য সময় বেঁধে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। জানালেন, আগামী ১০০ দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার একটি সর্বাত্মক জমি নীতি তো আনবেই। সেই সঙ্গে রাজ্য পাবে নতুন ডেটা নীতি। ফিরিয়ে আনা হবে শিল্পের জন্য উৎসাহ প্রকল্পও (ইনসেনটিভ পলিসি) যার আওতায় সাধারণত কর ছাড়-সহ একাধিক পদক্ষেপ করা হয়ে থাকে সংস্থাকে সুবিধা দিয়ে লগ্নি টানার জন্য। এ নিয়ে এখন প্রশাসন আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছে। ১০০ দিনের মধ্যে তা প্রকাশ্যে আসবে। শিল্প মহল থেকে সাধারণ মানুষ, সকলেই তা স্পষ্ট দেখতে পাবেন।
রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই শিল্পে একাধিক সংস্কারের কাজ শুরু করেছে, দাবি শমীকের। তিনি জানান, আপাতত লগ্নিবান্ধব জমি নীতি আনার কাজ চলছে। যার আওতায় শহরাঞ্চলে জমি অধিগ্রহণের ঊর্ধ্বসীমা তুলে দেওয়া হচ্ছে। যাতে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বড় শিল্পের বিনিয়োগ টানা যায়। শমীকের বার্তা, ডেটা নীতির পাশাপাশি, সেমিকনডাক্টর নীতি আনার কথাও ভাবা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই চ্যাটার্জি গোষ্ঠীর কর্ণধার পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় সঙ্গে দু’দফায় বৈঠক করেছেন শমীক। তাঁর দাবি, পূর্ণেন্দু এ রাজ্যে ২০ লক্ষের বেশি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। ন্যাপথা এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ৫০০০ কোটি টাকার বেশি লগ্নি করার আশ্বাস দিয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকনডাক্টরের মতো প্রযুক্তিতে পুঁজি ঢালার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। সূত্রের খবর, এর মধ্যে পূর্ণেন্দুমুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও বৈঠকে বসেছেন।
এ দিনের সভায় শিল্প-প্রতিনিধিদের ফের তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট-রাজ বন্ধ করার বার্তা দেন শমীক। বলেন, ‘‘বিজেপির কোনও শ্রমিক সংগঠন নেই। দল সিন্ডিকেট-রাজকে প্রশ্রয় দেয় না। কেউ আপনাদের থেকে টাকা চাইলে থানায় জানান। একটা টাকাও দেবেন না। এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ আছে। টাকা দাবি করা ব্যক্তিরা বিজেপির কেউ না। তাঁদের স্থান থানায়।’’ এই ধরনেরদুষ্কর্ম আটকাতে শীঘ্রই দলের তরফে একটি হেল্পলাইন খোলা হবে বলেও জানান শমীক।
তবে এ দিন নজিরবিহীন ভাবে সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেছেন শিল্প মহলের একাংশ। যেমন, বণিকসভাটির বর্তমান সভাপতি নরেশ পাচিসিয়া বলেন, ‘‘স্বাধীনতার পর থেকে রাজ্যের একাধিক মুখ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা পেয়েছি। কিন্তু ব্যতিক্রম সদ্য প্রাক্তন। বহু বার তাঁর কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম, কিন্তু কখনও অনুরোধ রাখেননি। আমরা রাজ্যের উন্নয়নে অংশ নিলেও কোনও সাহায্য করেননি।’’ বণিকসভার প্রাক্তন সভাপতি এনজি খেতানের তোপ, ‘‘আগের সরকার আমাদের বিজেপি তকমা দিয়ে মুখ ফিরিয়েছিল। সেই অপশাসনের অবসান ইতিবাচক।’’ শিল্পপতি সঞ্জয় বুধিয়ার দাবি, ‘‘এই সরকারের শাসনে বাংলা শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে অগ্রগতির পথে এগোবে বলেই দিশা দেখালেন শমীক।’’