— প্রতীকী চিত্র।
স্কুলেই অসুস্থ হয়ে এক তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত ওই ছাত্রের নাম আয়ুষকুমার নাথ (৮)। তার বাবা আশিসকুমার নাথের অভিযোগ, স্কুল চলাকালীন তাঁর ছেলেকে শাস্তি দেওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিল সে। পরে ছুটির সময়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রায় ১০ দিন কোমায় থাকার পরে রবিবার সকালে মৃত্যু হয় আয়ুষের। নেতাজিনগর থানা এলাকার বাঁশদ্রোণী দমকল কেন্দ্রের কাছে একটি সিআইএসসিই বোর্ড অনুমোদিত বেসরকারি স্কুলের ঘটনা।
আশিসের আরও অভিযোগ, স্কুলের গাফিলতিতেই তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়েছে। আশিস নেতাজিনগর থানায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
আশিসের দাবি, ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ মে। তিনি বলেন, “স্কুলে গিয়ে প্রথম পিরিয়ডেই আমার ছেলে অসুস্থ বোধ করছিল। সেই অসুস্থতার কথা সে শ্রেণি শিক্ষককে বলে এবং বাড়ি চলে যেতে চায়। কিন্তু ওই শিক্ষক ছেলেকে বাড়ি যেতে দেননি। বরং, শাস্তি দিয়ে তাকে মাথা নিচু করে বসে থাকতে বলেন। এর ফলে আমার ছেলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে।” আশিসের অভিযোগ, আয়ুষকে যেখানে মাথা নিচু করে বসে থাকতে বলা হয়েছিল, সেখানে পাখা ছিল না। ফলে, সে তীব্র গরমে অসুস্থ বোধ করতে থাকে। স্কুল ছুটি হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ, বেলা ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত তাকে ওই ভাবে বসে থাকতে হয় বলে অভিযোগ। আশিসের দাবি, স্কুলে প্রাথমিক চিকিৎসাও আয়ুষের হয়নি। উল্টে সিঁড়ি দিয়ে নেমে তাকে বাড়ি চলে যেতে বলা হয়। অসুস্থ অবস্থায় কাঁধে ব্যাগ নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে আয়ুষ পড়ে মাথায় আঘাত পায়।
আশিস বলেন, “আমার দুই ছেলেই ওই স্কুলে পড়ে। আয়ুষ বড়। ছোট ছেলের সঙ্গে বড় ছেলের স্কুল ছুটির সময়ের পার্থক্য দশ মিনিটের। ছোট ছেলের ছুটির পরে বড় ছেলেকে স্কুল থেকে নেওয়ার জন্য গেটে দাঁড়িয়ে আছি যখন, তখন স্কুল কর্তৃপক্ষ খবর দেন, আয়ুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তড়িঘড়ি গিয়ে দেখি, ছেলেটা আচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে। পড়ে মাথায় আঘাত পাওয়ায় জায়গাটা ফুলে গিয়েছে। ওকে বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে এসএসকেএমে নিয়ে যাই। এসএসকেএমেই রবিবার সকালে ছেলেটা মারা যায়।’’ আশিসের অভিযোগ, ছেলেকে প্রাথমিক শুশ্রূষাও স্কুল দেয়নি।
স্কুল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্কুলের পরিচালন সমিতির সদস্য তথা অ্যাকাউন্টস অফিসার শক্তিপদ জানা বলেন, “আয়ুষের বাবার অভিযোগ ভিত্তিহীন। ওই ছাত্রকে কোনও রকম শাস্তি দেওয়া হয়নি। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। অসুস্থ বোধ করায় তার প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয় ও ছেলেটির বাবাকে খবর দেওয়া হয়।”
লালবাজার জানিয়েছে, মৃত ছাত্রের পরিবার স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নেতাজিনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। যার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। সব দিক দেখা হচ্ছে। রবিবার ওই ছাত্রের দেহের ময়না তদন্ত করা হয়েছে।