Unstable Share market

ছ'দিনে তিনটি বড় ঘটনায় অস্থির শেয়ার বাজার, সূচক এখন ভালমন্দের দোলাচলে

বাজেটের জন্য রবিবার বাজার খোলা ছিল। তবে বাজেট বক্তৃতার প্রতিক্রিয়া ভাল হয়নি। সেনসেক্স হারায় ১৮৪৩ পয়েন্ট। পরের দিন কিছুটা শুধরে ওঠে ৯৪৪।

অমিতাভ গুহ সরকার
শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৬
বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ।

বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ। ফাইল চিত্র।

মাত্র ছ’দিনে ভারতীয় অর্থনীতি তথা শেয়ার বাজারের জন্য তিন তিনটি বড় ঘটনা। গত রবিবার ছিল বাজেট। কোনও রবিবারে এই প্রথম এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের নবম। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা। শুক্রবার রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের সুদ অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত, সঙ্গে অর্থনীতির পর্যালোচনা। চলছে বিভিন্ন সংস্থার আর্থিক ফল প্রকাশও। এক সঙ্গে এত কিছুতে শেয়ার বাজার কিছুটা বিভ্রান্ত। ফলে গত সপ্তাহে ক্রমাগত উত্থান-পতন দেখা গিয়েছে। সূচক এখন ভাল-মন্দের দোলাচলে।

বাজেটের জন্য রবিবার বাজার খোলা ছিল। তবে বাজেট বক্তৃতার প্রতিক্রিয়া ভাল হয়নি। সেনসেক্স হারায় ১৮৪৩ পয়েন্ট। পরের দিন কিছুটা শুধরে ওঠে ৯৪৪। এর পরেই ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া নিয়ে আসে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের একতরফা ঘোষণা। এতে চরম উল্লসিত হয়ে সেনসেক্স ওঠে ২০৭৩। কিন্তু উল্লাস স্থায়ী হয়নি। চুক্তির শর্তগুলি স্পষ্ট না হাওয়ায় এবং তা নিয়ে কেন্দ্র চুপ থাকায় লগ্নিকারীরা সন্দিহান হয়ে পড়েন। বুধবার সামান্য উঠলেও, পরের দিন সূচক নামে ৫০৪ পয়েন্ট। সপ্তাহ শেষে আরবিআই জানায় রেপো রেট (যে সুদে তারা ব্যাঙ্কগুলিকে ধার দেয়) অপরিবর্তিত। তবে ছোট শিল্পের জন্য পুঁজির ব্যবস্থা-সহ কিছু সিদ্ধান্ত এবং অর্থনীতি নিয়ে সদর্থক বার্তা বাজারের মনে ধরে। সেনসেক্স ২৬৬ উঠে হয় ৮৩,৫৮০।

আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে এবং ভারতীয় পণ্যে শুল্ক ১৮ শতাংশে নামছে, এই খবরে লাফিয়ে বাড়ে শেয়ার বাজার। যদিও তা স্থায়ী হয়নি। চুক্তির শর্তের পাতাগুলি এ বার খুলছে। দেখা যাচ্ছে, কয়েকটি ভারতকে অসুবিধায় ফেলতে পারে। বিশেষত কিছু কৃষিপণ্য আমদানি। আমেরিকাকে কম অথবা বিনা শুল্কে বেশ কিছু পণ্য এ দেশে পাঠাতে দিলে ভারতীয় শিল্প মার খাবে। বেরিয়ে যাবে মোটা বিদেশি মুদ্রা। চুক্তি ভারতের পক্ষে কতটা সহায়ক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আজ বোঝা যাবে বাজারের প্রতিক্রিয়া।

ভারতের উপর ট্রাম্প রুষ্ট হয়েছিলেন মূলত রাশিয়ার তেল কেনার কারণে। তবে ভারতের নাগাড়ে সস্তায় তেল পাওয়ার সুফল দেশবাসীর কাছে পৌঁছোয়নি। বিশ্ব বাজারে বহু দিন ধরে তেল ৬০-৬৫ ডলার থাকলেও দেশে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম কমেনি। বরং ফায়দা তুলেছে তেল শোধন এবং বিপণন সংস্থাগুলি। তৃতীয় ত্রৈমাসিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ইন্ডিয়ান অয়েলের লাভ ৩২২% বেড়ে পৌঁছেছে ১২,১২৬ কোটি টাকায়। ৬২% বেড়ে ভারত পেট্রোলিমের নিট মুনাফা হয়েছে ৭৫৪৫ কোটি।

এ বার সংস্থাগুলির অক্টোবর-ডিসেম্বরের আর্থিক ফল হয়েছে ভাল-মন্দ মিশ্রিত। সংস্থার লাভ-ক্ষতির ছাপ পড়েছে শেয়ারে। স্টেট ব্যাঙ্কের নিট লাভ ২১,০২৮ কোটি টাকা ছুঁয়ে রেকর্ড গড়েছে। ১১.৫% বেড়ে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক লাভ করেছে ১৮,৬৫৪ কোটি টাকা। ২০% আয় বাড়লেও ভারতী এয়ারটেলের লাভ ৫৫% কমেছে। এলআইসি-র ১১.৪৬% বেড়ে হয়েছে ১২,৯৩০ কোটি টাকা। টাটা স্টিলের হয়েছে ২৬৯০ কোটি (বৃদ্ধি ৭২৩%)।

(মতামত ব্যক্তিগত)

আরও পড়ুন