—প্রতীকী চিত্র।
রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল শুরু করেছিল আগেই। বুধবার থেকে শহর কলকাতা তথা রাজ্যে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহ শুরু করল ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্থান পেট্রোলিয়াম। জোগানের তালিকায় অগ্রাধিকার হিসেবে রয়েছে হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, মিড-ডে মিল, রেল, কমিউনিটি কিচেন ইত্যাদি। তবে সূত্রের খবর, আপাতত চাহিদার ২০% গ্যাস সিলিন্ডারই দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সামনে ইদ। ফলে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের চাহিদা তুঙ্গে। সেই তুলনায় জোগান অত্যন্ত কম। এর জেরে বিভিন্ন জায়গায় গ্যাসের ডিলার বা বণ্টনকারীদের গ্রাহকের অসন্তোষের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ একাংশের। কেন্দ্রের তরফেও স্বীকার করা হয়েছে, গ্যাস নিয়ে এখনও একটা চিন্তা রয়েছে। সব সমস্যার সমাধান হয়নি।
এ দিন ডিলারদের দাবি, ‘‘এ ভাবে বেশি দিন চললে দোকান বন্ধ করে দিতে হবে। কারণ, আমাদের যা চাহিদা, তা জানানোর পরেও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গ্রাহকদের ক্ষোভের শিকার হচ্ছি আমরা। দিনের পর দিন এটা চলতে পারে না।’’ এইচপি কিংবা ইন্ডেন, দুই রান্নার গ্যাস সংস্থার একাধিক ডিলারের বক্তব্য, এ ভাবে চাহিদার তুলনায় সামান্য সিলিন্ডার হাতে পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।
পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াচ্ছে বুঝতে পারছে কেন্দ্রও। এ দিনই পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা জানান, এখনও দেশের বিভিন্ন জায়গায় গ্যাসের দোকানের বাইরে বড় লাইন দেখা যাচ্ছে। তবে এটা মূলত আতঙ্ক থেকে হচ্ছে। ফলে রান্নার গ্যাস এখনও একটা চিন্তার বিষয়। যদিও বাড়িতে রান্না করার গ্যাস নিয়ে বিরাট আতঙ্কের কিছু নেই বলেও ফের বার্তা দিয়েছেন তিনি।
সুজাতা বলেন, ‘‘গৃহস্থালির সিলিন্ডারের কোনও সমস্যা নেই। বুক করলেই বাড়িতে বসে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।’’ বণ্টনকারীরাও জানাচ্ছেন, এখন বুকিং-এর চাপ অনেকটা কমেছে। তেল সংস্থাগুলির দাবি, ৯৩% বুকিং হচ্ছে অনলাইনে। তা নিয়ে বড় কোনও সমস্যা আর নেই। পাশাপাশি, ৮১% ক্ষেত্রে ‘ডেলিভারি অথেনটিকেশন কোড’ দিচ্ছেন গ্রাহকেরা।
এ দিন রাজ্য সরকারগুলিকে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সচিবের বার্তা, যে রাজ্য পাইপবাহিত প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বাড়াতে উদ্যোগী হবে, তাদের ১-১০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি বাণিজ্যিক সিলিন্ডার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মন্ত্রক ফের স্পষ্ট জানিয়েছে, সাধারণ মানুষ যতটা সম্ভব বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করার দিকে মন দিন। তাতেই আখেরে সকলের মঙ্গল।