— প্রতীকী চিত্র।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ফলে জ্বালানি নিয়ে উৎকণ্ঠা বহাল। তবে সোমবারও তিন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ফের বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, দেশের বাজারে তেল-গ্যাসের জোগান যথেষ্ট। ফলে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। একই আবেদন করেছে কেন্দ্র। সেই সঙ্গে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে তারা। যেমন, বাজারে ইনডাকশন কেনা ওতার ব্যবহার বাড়াতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বাধ্যতামূলক নীতি কিছু দিনের জন্য শিথিল করা হয়েছে। আগুন জ্বালাতে কাঠের মতো বিকল্প জ্বালানির জোগান বাড়াতে তার রফতানিতে বসেছে নিয়ন্ত্রণ। এ দিন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের দাবি, দেশবাসীকে রক্ষা করতে সক্রিয় কেন্দ্র। তাই পেট্রল-ডিজ়েলের উৎপাদন শুল্ক কমানো হয়েছে। বিভিন্ন পেট্রলিয়াম পণ্যে ছাড় দেওয়া হয়েছে আমদানি শুল্কেও।
ইন্ডিয়ান অয়েল জানিয়েছে, গ্রাহকদের দিনে গড়ে ২৮ লক্ষের বেশি সিলিন্ডার দিচ্ছে তারা। এখনও যে পরিমাণ এলপিজি মজুত রয়েছে, তাতে সমস্যা হওয়ার কারণ নেই। গৃহস্থের সিলিন্ডার জোগানে সবচেয়ে বেশিগুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হিন্দুস্তান পেট্রলিয়াম বলেছে, এপ্রিলের প্রথম পাঁচ দিনে তারা প্রায় ৬৩ লক্ষ সিলিন্ডার দিয়েছে। ভারত পেট্রলিয়ামের দাবি, গ্যাস ভরার কেন্দ্র থেকে নিয়মিত সিলিন্ডার ভর্তি করে পাঠানো হচ্ছে।
গ্রাহক মহলের একাংশের অবশ্য অভিযোগ, বাস্তবের ছবিটা ততটা নিশ্চিন্ত হওয়ার মতো নয়। পেট্রল-ডিজ়েলে এখনও সমস্যা হয়নি। তবে এলপিজি নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। সময়ে বুকিং না হওয়া, বুকিং-এর দীর্ঘ দিন বাদে ডেলিভারি কোড আসা কিংবা তিন-চার সপ্তাহ বাদে গ্যাস পাওয়া বহু জায়গায় গ্রাহক হয়রানি বাড়াচ্ছে। যদিও তেল সংস্থাগুলির অনুরোধ, পরিস্থিতি আগের মতো করতে নিরন্তর চেষ্টা চলছে। সোমবার তেল মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মাও জানান, গ্যাস নিয়ে চিন্তা কাটেনি। সমস্যা রয়েছে। তবে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। ১ মার্চ থেকেএ পর্যন্ত ১৮ কোটি বাড়িতে সিলিন্ডার দেওয়া হয়েছে। ১৪ মার্চ থেকে ৮০,০০০ টন বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহহয়েছে। জোর দেওয়া হচ্ছে ৫ ও ২ কেজির ছোট সিলিন্ডার বেশি করেজোগানোয়, এলপিজি-র কালোবাজারিও বেআইনি মজুত রোখায়।