— প্রতীকী চিত্র।
ঠিক সময়ে স্কুলে পৌঁছে গিয়েছিল ওরা। পরীক্ষার প্রস্তুতিও ছিল যথেষ্ট। কিন্তু সে পরীক্ষা আর দেওয়া হল না। পড়ুয়াদের ফিরে যেত হল বাড়ি।
কারণ, স্কুলে ঢুকে পড়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। শিক্ষকেরা বহু চেষ্টা করেও প্রশাসনকে বোঝাতে পারলেন না। শেষ পর্যন্ত নেওয়া গেল না পরীক্ষা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোটালপুর মধুসূদন হাই স্কুলের ঘটনা। প্রধানশিক্ষক অবনী পাত্র জানান, তাঁর ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনে এমন অভিজ্ঞতা এই প্রথম।
গত কয়েক মাস ধরে এমনই আশঙ্কা করছিল শিক্ষামহল। কেন্দ্রীয় বাহিনী স্কুলের দখল নেওয়ায় মাঝপথে বন্ধ করে দিতে হল স্কুলের সামেটিভ পরীক্ষা। কোনও স্কুলে আবার পরীক্ষা শুরু করাই গেল না। ১ এপ্রিল থেকে রাজ্যের সব স্কুলে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির সামেটিভ পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে স্কুলে স্কুলে থাকতে শুরু করেছে আধাসেনা।
শিক্ষকেরা বহু বার দাবি করেছিলেন, প্রশাসন সতর্ক হোক। গত নভেম্বর থেকেই রাজ্যের স্কুলশিক্ষার অবস্থা শোচনীয়। বহু শিক্ষককে চার মাস এসআইআর-এর কাজ করতে হয়েছে। এমনকি মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেও যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগ, প্রশাসনকে বার বার বলা সত্ত্বেও কোনও ফল হয়নি।
সব থেকে খারাপ পরিস্থিতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার। ওই জেলার ঘটিহারানিয়া হাই স্কুলের প্রধানশিক্ষক ব্রহ্মপদ মণ্ডল বলেন, “১ এপ্রিল থেকে পরীক্ষার কথা ঘোষণা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন থেকে জানানো হয় যে ওই দিন থেকেই স্কুলে বাহিনী থাকবে। বহু অনুরোধ করেও লাভ হয়নি।” তিনি জানান, পরীক্ষা নেওয়া যাবে না বুঝতে পেরে তাঁরা ৩১ মার্চ পড়ুয়া-অভিভাবকদের ফোনে মেসেজ করে জানিয়ে দেন, পরীক্ষা হচ্ছে না। এমন ঘটনা এর আগে কোনও দিন ঘটেনি বলে দাবি।
কোটালপুর মধুসূদন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অবনী পাত্র জানান, ১ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত তিনটি পরীক্ষা নিয়েছিলেন তাঁরা। তার পরই বাহিনী স্কুলের দখল নেয়। এ ভাবে ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে আসতে বলা যায় না। তাই বাকি চারটি লিখিত পরীক্ষা আর নেওয়া যায়নি।
শুধু স্কুল নয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক স্তরের পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা করেছে। মাত্র তিনটি পরীক্ষা নেওয়া গিয়েছিল। বাকি পরীক্ষা ভোটের ফলপ্রকাশের পরে নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক অনিমেষ হালদার বলেন, “স্কুলশিক্ষা এবং পরীক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত ছিল। নির্বাচন কমিশন অর্থের বিনিময়ে কোনও হোটেল বা অন্যত্র কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রাখার বন্দোবস্ত করতে পারত। তাতে পরীক্ষা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হত না।” শিক্ষকেরা কার্যত হতাশ।