—প্রতীকী ছবি।
চাঙ্গা রয়েছে কলকাতার রিয়েল এস্টেট বাজার। রাজ্যের রাজধানী এবং তার আশপাশের নতুন নতুন এলাকায় গড়ে উঠছে চোখধাঁধানো আবাসন। ফলে ফ্ল্যাটে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সামনে একাধিক বিকল্প যে রয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। আবাসনের ‘হটস্পট’ হয়ে উঠেছে কলকাতার কোন কোন এলাকা? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল তার হদিস।
আবাসনের ‘হটস্পট’-এর তালিকায় প্রথমেই আসবে নিউটাউনের নাম। কলকাতা লাগোয়া এই এলাকাটি উপশহর হিসাবে গড়ে উঠেছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্য সুযোগ-সুবিধার জেরে খুব দ্রুত অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করছে নিউটাউন। বাজার নজরদারি সংস্থাগুলির দাবি, গত পাঁচ বছরে সেখানকার সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে অন্তত ৪০ শতাংশ।
গৃহক্রেতাদের জন্য নিউটাউন সেরা ঠিকানা হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ। প্রথমত, সেখানকার আবাসনগুলিতে দুই এবং তিন বেডরুম বিশিষ্ট দু’ধরনেরই প্রচুর ফ্ল্যাট রয়েছে। পাশাপাশি সেখান থেকে হাত বাড়ালেই তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিনোদন পার্ক এবং আন্তর্জাতিক মানের স্কুল পাবেন গ্রাহক। বাড়তি আকর্ষণ হিসাবে আছে ইউরোপীয় ধাঁচের সাইক্লিং ট্র্যাকও।
নিউটাউনের পাশাপাশি আবাসনের ‘হটস্পট’ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে রাজারহাট। কলকাতা থেকে এর দূরত্ব একেবারেই বেশি নয়। রাজারহাটের গা ঘেঁষে রয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। আর তাই সেখানকার ফ্ল্যাটে থাকার আলাদা গুরুত্ব আছে। উল্লেখ্য, গত পাঁচ বছরে রাজারহাটের আবাসনগুলিতে প্রবাসী বাঙালি তথা ভারতীয়দের লগ্নির অঙ্ক ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বেশির ভাগ গ্রাহকের অবশ্য ধারণা, রাজারহাটে ফ্ল্যাটের দাম খুব বেশি। কিন্তু, বাস্তব তেমনটা নয়। বর্তমানে সেখানে প্রচুর সংখ্যায় বাজেট-বান্ধব আবাসন গড়ে উঠছে। তবে মধ্যবিত্তেরা দক্ষিণ-পশ্চিম কলকাতার জোকাকেও বেছে নিতে পারেন। ওই এলাকাকেও রিয়েল এস্টেটের সম্ভাবনাময় জায়গা হিসাবে চিহ্নিত করেছে একাধিক নজরদার সংস্থা।
জোকায় আছে ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজ়মেন্ট’-এর মতো উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র। বর্তমানে ওই এলাকা থেকে বিবাদি বাগ পর্যন্ত মেট্রো করিডরের নির্মাণকাজ চলছে। এই প্রকল্প শেষ হলে আরও উন্নত হবে সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। এর ফলে জোকা এলাকার ফ্ল্যাটের দাম ইতিমধ্যেই চড়তে শুরু করেছে।
এ ছাড়া দক্ষিণ কলকাতার ইএম বাইপাস, গড়িয়া এবং টালিগঞ্জকে আবাসনের ‘হটস্পট’ বলা যেতে পারে। এই তিন এলাকায় নতুন নতুন রিয়েল এস্টেট প্রকল্প তৈরি দিচ্ছে। নজরদার সংস্থাগুলির দাবি, নিউটাউন ও রাজারহাটের তুলনায় এখানকার ফ্ল্যাটের দাম তুলনামূলক কম। তা ছাড়া মেট্রো রেলের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে।