—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
দু’দিন ধরে বৈঠক হল। ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কোনও সমাধান সূত্র বের হল না। কবে চুক্তি হবে, তা স্পষ্ট হল না।
দিল্লিতে মোদী সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিরের দু’দিনের বৈঠক বুধবার শেষ হয়েছে। বৈঠকের পরে দু’দেশই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রতি দায়বদ্ধতার কথা বলেছে। দর কষাকষিতে ‘যথেষ্ট অগ্রগতি’ হয়েছে বলে দাবি করেছে। কিন্তু কবে অন্তত প্রথম ধাপের অন্তর্বর্তী চুক্তি হবে, তার উত্তর মেলেনি।
বাণিজ্য মন্ত্রকের সূত্রের খবর, সমাধান সূত্রের পথে বাধা হয়ে উঠেছে দু’টি বিষয়ে অনিশ্চয়তা। এক, ট্রাম্প প্রশাসন আমেরিকার বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারায় ভারত-সহ বেশ কিছু দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। তাদের ধারণা, এই দেশগুলিতে শ্রমিকদের জোর করে খাটিয়ে সস্তায় পণ্য তৈরি হয়। সে জন্য ১২.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর প্রস্তাবও রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের। এই তদন্তের শেষে কী হবে, তা স্পষ্ট নয়। দুই, আমেরিকা এত দিন চড়া শুল্কের ভয় দেখিয়ে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দর কষাকষি করছিল। কিন্তু আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টই বলেছে, চড়া শুল্ক বসানোর ক্ষমতা ট্রাম্প সরকারের নেই। আমেরিকা এখন একতরফা ভারতের বাজারে নিজেদের কৃষিপণ্য বেচতে চাইছে। দিল্লির গবেষণা সংস্থা জিটিআরআই-এর মতে, আমেরিকার শুল্ক ব্যবস্থা বদলে যাওয়ায় বাণিজ্য চুক্তির মূল কাঠামোটাইবদলে গিয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রক বলেছে, চুক্তি চূড়ান্তের পথ নিয়ে কথা হয়েছে। বৈঠক শেষের আগে ওয়াশিংটনে সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বেথানি মরিসন বলেন, দু’দেশ চুক্তি চূড়ান্ত করার ‘খুব, খুব কাছে’। কিন্তু বৈঠকের পরে দিল্লিতে জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, ‘‘ট্রাম্প ও মোদী দু’দেশের সম্পর্ক উন্নত করতে সম্মত। যার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে।’’ এর মধ্যে ভারত-ব্রিটেন বাণিজ্য চুক্তি রূপায়ণের লক্ষ্যে পীযূষ গয়াল কাল লন্ডন রওনা হচ্ছেন।