—প্রতীকী চিত্র।
দেশের মোট আর্থিক উৎপাদন বা জিডিপি-র হিসাব বদলে যাচ্ছে। নতুন হিসাবে ২০২২-২৩ অর্থ বছরকে ভিত্তিবর্ষ ধরে জিডিপি-র হিসাব হবে। সেই হিসেবে নতুন জিডিপি প্রকাশিত হবে ২৭ ফেব্রুয়ারি। রবিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বাজেট পেশের ২৬ দিন পরে।
জিডিপি-র সঙ্গে খুচরো বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সূচক হিসাবেরও পদ্ধতি বদলে যাচ্ছে। এখন থেকে ২০২৪-কে ভিত্তিবর্ষ ধরে হিসাব করা হবে। এখন যে সব জিনিসপত্রের দামের ভিত্তিতে মূল্যবৃদ্ধির সূচক বের করা হয়, তাতে খাদ্যপণ্যের ভাগ ৪৬ শতাংশ। তা কমে হবে ৩৭ শতাংশ। নতুন হিসাবে খুচরো বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সূচক প্রকাশিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। বাজেট পেশের ১১ দিন পরে।
রবিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বাজেট পেশের আগে শনিবার কংগ্রেস প্রশ্ন তুলল, নতুন জিডিপি, নতুন মূল্যবৃদ্ধির সূচক প্রকাশের পরে বাজেটের অঙ্ক কি সমস্ত বদলে যাবে? কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশের প্রশ্ন, ‘‘গোটা বিষয়টি নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে খুব খারাপ সমন্বয়ের প্রতিফলন। জিডিপি-র তুলনাতেই রাজকোষ ঘাটতির হার, রাজস্ব ঘাটতির হার ঠিক হয়। আগামী অর্থ বছরে মূল্যবৃদ্ধি-সহ আর্থিক বৃদ্ধি অনুমান করে নিয়েই বাজেটের সমস্ত হিসাব কষবেন অর্থমন্ত্রী।’’
দেশের বর্তমান জিডিপি তথা আর্থিক বৃদ্ধি এবং মূল্যবৃদ্ধির হার কত খানি ঠিক, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, প্রকৃত আর্থিক বৃদ্ধির হার এবং মূল্যবৃদ্ধি-সহ আর্থিক বৃদ্ধির হারের মধ্যে খুব সামান্য ফারাক। পরিসংখ্যান দফতর পূর্বাভাস করেছে, চলতি অর্থ বছর বা ২০২৫-২৬-এ আর্থিক বৃদ্ধির হার ৭.৪% ছোঁবে। কিন্তু বর্তমান বাজার দরের ভিত্তিতে বা মূল্যবৃদ্ধি-সহ আর্থিক বৃদ্ধির হার চলতি বছরে মাত্র ৮% ছোঁবে। যা গত অর্থ বছরের ৯.৮%-এর তুলনায় বেশ কম। সর্বোপরি, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন গত ফেব্রুয়ারিতে বাজেট পেশের সময় এই বৃদ্ধির হার ১০.১% হবে ধরে নিয়ে বাজেটের অঙ্ক কষেছিলেন। মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরণ অবশ্য দাবি করেছেন, নতুন হিসাবেও মূল্যবৃদ্ধির হার বর্তমানের হারের থেকে খুব বেশি আলাদা হবে না।
এ বারের বাজেটে কেন্দ্রীয় করের কতটা ভাগ রাজ্যগুলিকে দেওয়া হবে, তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে। এত দিন পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের সুপারিশ মেনে কেন্দ্রীয় সরকার তার কর বাবদ আয়ের ৪১ শতাংশ রাজ্যগুলির মধ্যে ভাগ করে দিচ্ছিল। ষোড়শ অর্থ কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে আগামী অর্থ বছর থেকে সেই হিসাব বদলে যাবে। ২০৩০-৩১ পর্যন্ত এই অনুযায়ীই কেন্দ্রীয় করের ভাগ রাজ্যগুলির মধ্যে বিলি হবে। কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই অর্থ কমিশনের সুপারিশ গ্রহণ করেছে। কিন্তু তা প্রকাশ করেনি। রাজ্যগুলি এ জন্য বাজেটের দিকে তাকিয়ে থাকবে। অর্থ মন্ত্রক সূত্রের খবর, অর্থ কমিশনের সুপারিশ বাজেটের পরে সংসদে পেশ করা হবে। তবে অর্থ কমিশনের সুপারিশ মেনেই বাজেটে কেন্দ্রীয় করের ভাগ রাজ্যগুলির জন্য বরাদ্দ হবে।