—প্রতীকী চিত্র।
চিন-সহ ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত রয়েছে এমন দেশগুলি থেকে আসা প্রত্যক্ষ বিদেশি লগ্নির (এফডিআই) নিয়ম শিথিলে সায় দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। বাকি দেশগুলি হল ভুটান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, মায়ানমার ও নেপাল। মঙ্গলবার এ
জন্য ২০২০ সালে করোনার সময়ে জারি করা নির্দেশ সংশোধন করেছে কেন্দ্র। ফলে কোনও বিদেশি সংস্থায় এই সব দেশের সংস্থাগুলির ১০% পর্যন্ত শেয়ার থাকলে তারা কেন্দ্রের সায় ছাড়াই ভারতে লগ্নি করতে পারবে। এখন শেয়ার থাকলেও তাদের অনুমোদন নিতে হয়। তবে শিল্প ক্ষেত্র বিশেষে লগ্নির সীমা, লগ্নির মাধ্যম-সহ নিয়ম থাকছে আগের মতোই। যদিও সে ক্ষেত্রে অনুমোদন দেওয়ায় গতি আনতে নির্দিষ্ট মেয়াদ বেঁধে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তকে একহাত নিয়ে এক্স-এ কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়রাম রমেশের দাবি, ‘‘চিনের বিদেশি লগ্নিতে ছাড়ের সিদ্ধান্ত আশ্চর্যের নয়। এটা কেন্দ্রের আত্মসমর্পনের অঙ্গ। পূর্ব লাদাখে চিনের সঙ্গে সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যুর পরে ২০২০-এর ১৯ জুন প্রধানমন্ত্রী (নরেন্দ্র) মোদী দেশটিকে ক্লিনচিট দেন। চিনের শর্তে দু’দেশের সম্পর্ক স্থির হচ্ছে, অথচ ২০২৫ সালে তাদের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ১১,৫০০ কোটি ডলার। লাদাখের দেপসাং, ডেমচক ও চুমারে টহলদারির ক্ষমতা হারিয়েছে ভারত।’’
উল্লেখ্য, করোনার মধ্যে অস্থিরতার আবহে বিদেশি সংস্থা যাতে দেশীয় সংস্থার রাশ হাতে নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে বিদেশি লগ্নির নিয়মে কড়াকড়ি করা হয়। এখন অবশ্য চিনের সংস্থাকে এখানে লগ্নিতে সায় দেওয়ার দাবি উঠছে নানা মহল থেকে। বিদ্যুৎ-সহ নানা প্রকল্পে গতি আনতে সেই আর্জি জানাচ্ছিল বিভিন্ন মন্ত্রক ও দফতরও। ভারতে এফডিআই ক্ষেত্রে চিনের স্থান ২৩তম। ২০২০-এর এপ্রিল থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত তার অঙ্ক ২৫১ কোটি ডলার। মোট এফডিআই-এর মাত্র ০.৩২%।
এ দিনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে অর্থনীতিবিদ অজিতাভ রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘ক’মাস ধরে ভারত থেকে এফডিআই চলে যাওয়ার পাশাপাশি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। এতে দেশের অর্থনীতির ভাল হবে বলেই মনে হয়। আগামী দিনে চিনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতিও হতে পারে।’’