US Dollar-Currency

টাকায় ধস, ডলারের দাম উঠল ৬৪ পয়সা

এ দিন সকালেই টাকাকে আরও নীচের স্তরে ঠেলে দিয়ে প্রথম বার ডলার উঠে যায় ৯৩ টাকার উপরে। মুদ্রা বাজার মহলের দাবি, দিনভর যে ভাবে টাকা পড়েছে, তাতে কার্যত ডলারের ৯৩ টাকা ছোঁয়া এবং আরও এক ধাপ এগিয়ে ৯৪ টাকার দিয়ে ছুটে যাওয়ার উদ্বেগ একসঙ্গে কাজ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন
শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২৬ ০৭:৩৮

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

টাকা নিয়ে আশঙ্কা এক ধাক্কায় বেড়ে গেল অনেকটা। শুক্রবার ভারতীয় মুদ্রাকে নজিরবিহীন তলানিতে নামিয়ে এক ডলারের দাম একলপ্তে ৬৪ পয়সা বেড়ে এই প্রথম পৌঁছে গেল ৯৩.৫৩ টাকায়। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বহু দিন ধরেই দেশের মুদ্রা দুর্বল। কিন্তু যে গতিতে ডলার ছুটছে, তাতে অচিরেই তা পৌঁছে যাবে ৯৪ টাকায়। ফলে চিন্তা বাড়ছে দেশের অর্থনীতি নিয়ে।

বস্তুত, এ দিন সকালেই টাকাকে আরও নীচের স্তরে ঠেলে দিয়ে প্রথম বার ডলার উঠে যায় ৯৩ টাকার উপরে। মুদ্রা বাজার মহলের দাবি, দিনভর যে ভাবে টাকা পড়েছে, তাতে কার্যত ডলারের ৯৩ টাকা ছোঁয়া এবং আরও এক ধাপ এগিয়ে ৯৪ টাকার দিয়ে ছুটে যাওয়ার উদ্বেগ একসঙ্গে কাজ করেছে। বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন, যুদ্ধের আবহে তেলের চড়া দামের কারণে ডলারের চাহিদা বাড়ছে। তার উপর ভারতের বাজারে নাগাড়ে শেয়ার বিক্রি করছে বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলি। তাতেও ডলারের চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে উঠছে ডলার, দুর্বল হয়ে পড়ছে টাকা।

পটনা আইআইটি-র অর্থনীতির অধ্যাপক রাজেন্দ্র পরামানিক বলেন, ‘‘যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অশোধিত তেলের দাম বাড়ছে। বিদেশি লগ্নি বেরিয়ে যাচ্ছে দেশ থেকে। এ সবের জেরেই ভারতীয় টাকা চাপে পড়েছে। তার অবমূল্যায়ন রোখা যাচ্ছে না। তার উপর বহু লগ্নিকারী বর্তমান অস্থির সময় ডলারকে সুরক্ষিত মনে করে লগ্নির জন্য আঁকড়ে ধরছেন। আমার মনে হয় আরও পড়বে ভারতের মুদ্রা। সংঘাত কমে এলে ডলার ৯৫ টাকায় থিতু হতে পারে।’’

আইসিইএআই-এর পূর্বাঞ্চলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনির্বাণ দত্তও টাকার পতনের জন্য দায়ী করেছেন অশোধিত তেলের ১০০ ডলার পেরনো দামকে এবং তা দেখে আতঙ্কে বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলির ভারতে শেয়ার বিক্রিকে। তাঁর কথায়, ‘‘সরকারও অশোধিত তেল কিনে রাখতে প্রচুর ডলার খরচ করছে। যা টাকার পতনের অন্যতম কারণ। আমার ধারণা, ভারতের বিনিয়োগ নিয়ে বিদেশি লগ্নিকারীদের আতঙ্ক পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে।’’

আরও পড়ুন