Car Insurance

দুর্ঘটনায় ভাঙল সাধের বাহন, বা জল ঢুকে হাঁপাচ্ছে ইঞ্জিন! বিমার আবেদন খারিজ হলে কী উপায়ে পাবেন টাকা?

সাধের বাহনের সুরক্ষার কথা ভেবে বিমা করিয়ে রাখেন সমস্ত গাড়িমালিক। কিন্তু, তার পরেও আপৎকালীন পরিস্থিতিতে আবেদন করে টাকা না পাওয়ার অভিযোগ ভুরি ভুরি। কোথায় হচ্ছে ভুল? গাড়ির বিমায় কী কী করবেন? কোনটা করবেন না?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:২৫
Representative Picture

—প্রতীকী চিত্র।

দুর্ঘটনায় ‘হাত-পা ভেঙে’ পড়ে আছে সাধের বাহন! কিংবা প্রবল বৃষ্টিতে রাস্তার জমা জল ঢুকে বিগড়ে গিয়েছে ইঞ্জিন। মেরামতির জন্য বিমার টাকা চাইতেই গ্রাহকের মাথায় হাত। কারণ, পত্রপাঠ সেই দাবি খারিজ করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। এই ধরনের পরিস্থিতিতে কী করবেন গাড়ির মালিক? কোথায় জানাবেন অভিযোগ? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল তার হদিস।

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের কথায়, দুই হোক বা চারচাকা, বাহন কিনলেই তার বিমা করানো উচিত। এটা থাকলে গাড়ির যে কোনও রকম ক্ষতিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার থেকে মেরামতির খরচ পেয়ে যান গ্রাহক। তবে তার জন্য ব্যবহারকারীকে মানতে হয় বেশ কিছু শর্ত। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় নিয়মভঙ্গের কারণে গাড়িমালিকের দাবি বাতিল করেছে সংস্থা। তা ছাড়া বিমা করার সময়েও বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে গ্রাহককে।

জীবন বিমার মতো গাড়ি বিমাতেও নির্ধারিত সময় অন্তর টাকা দিয়ে যেতে হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই খাতে লগ্নি করতে ভুলে যান গাড়ির মালিক। তা ছাড়া বিমার আবেদনের সময় মেয়াদ উত্তীর্ণ ড্রাইভিং লাইসেন্স জমা দেওয়ার ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের ক্ষেত্রে বাতিল হয়ে থাকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের আর্জি।

এ ছাড়া দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বিমার আবেদনে অহরহ বেশ কয়েকটি ভুল করতে দেখা যায় গ্রাহককে। যেমন ধাক্কা লাগার পর গাড়ি এবং ঘটনাস্থলের ছবি না তোলা। পাশাপাশি, গাড়ির মালিকদের মধ্যে পুলিশে এফআইআর দায়ের না করার প্রবণতা রয়েছে। কেউ কেউ আবার বিমা সংস্থার সমীক্ষার আগেই গাড়ির মেরামতি করিয়ে ফেলেন। এই ধরনের ক্ষেত্রে গাড়িমালিকের আবেদন খারিজ করে থাকে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।

কলকাতা, মুম্বই বা বেঙ্গালুরুতে বর্ষায় জলের তলায় চলে যায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। ফলে ওই সময় গাড়ি চালালে ইঞ্জিন জল ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কা ষোলো আনা। শুধু তা-ই নয়, জমা জলের পরিমাণ বেড়ে গেলে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেও ডুবে যেতে পারে সাধের বাহন। এই ধরনের পরিস্থিতিতে বিমার টাকা পাওয়া একেবারেই সহজ নয়। কারণ, শর্ত অনুযায়ী ইঞ্জিনের সুরক্ষার দায়িত্ব সাধারণ ভাবে নেয় না বিমা সংস্থা।

বিশেষজ্ঞদের কথায়, গাড়ির বিমা করানোর সময় যাবতীয় শর্ত দেখে নেওয়া উচিত। সাধারণ ভাবে ইঞ্জিনের সুরক্ষা চাইলে বাড়তি অর্থ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিমার নথিতে লেখা ‘কম্প্রিহেনসিভ’ শব্দটি নিয়ে ভুল ধারণা রয়েছে। এর অর্থ কিন্তু সম্পূর্ণ সুরক্ষা নয়।

তবে গাড়ির বিমার আবেদন বাতিল হলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সে ক্ষেত্রে ‘ইনসিয়োর‌্যান্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ বা আইআরডিএআইর কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন বাহনের মালিক। তা ছাড়া বিমা ন্যায়পালের কাছে যাওয়ার অধিকার রয়েছে তাঁর। সেখানে বিনামূল্যে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিরোধের নিষ্পত্তি হয়ে থাকে।

Advertisement
আরও পড়ুন