—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
গদ্যনাটক, পাঁচ বছর পর নৃত্যনাট্যে রূপান্তর। চণ্ডালিকা নৃত্যনাট্যের তিনটি পাণ্ডুলিপি নজরে পড়েছে সম্পাদকদের, প্রচলিত মুদ্রিত নৃত্যনাট্যের সঙ্গে তাদের কিছু তফাতও। ১৯৩৯-৪০ সময়কালে নানা জায়গায় বেশ ক’বার অভিনয়ের সময় রবীন্দ্রনাথ নিজে মহড়ায় উপস্থিত থাকতেন, নানা পরামর্শ দিতেন, ছোটখাটো পরিবর্তনও করেছেন। ১৯৪০-এ চূড়ান্ত মুদ্রণকালে কিছু গান বাদ যায়, যোগও হয় কিছু। শান্তিদেব ঘোষের ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা চণ্ডালিকা নৃত্যনাট্যের পাণ্ডুলিপি এই বইয়ে মুদ্রিত, রবীন্দ্রসঙ্গীত বিচিত্রা গ্রন্থে তিনি লিখেছেন, চণ্ডালিকা-র সব গান শেখা শেষ করে কবিকে শোনানোর সময় কাগজগুলো পর পর ঠিকমতো সাজানো না থাকায় গাইতে অসুবিধে হচ্ছে দেখে রবীন্দ্রনাথ ‘একটি ভালো খাতায় নিজের হাতে লিখে’ পরদিন তাঁকে দেন। তিনটি পাণ্ডুলিপি ও বিশ্বভারতী প্রকাশিত চূড়ান্ত রূপটির তুলনামূলক আলোচনা, এই নৃত্যনাট্য রচনায় প্রতিমা দেবীর ভূমিকা-সহ নানা বিষয়ে আলোকপাত করেছেন সম্পাদকদ্বয়। শান্তিদেবকে দেওয়া পাণ্ডুলিপির প্রতিলিপি ছাড়াও, তাঁর সংগ্রহে থাকা চণ্ডালিকা-র আরও দু’টি সংস্করণ ও বর্তমান প্রচলিত সংস্করণের নির্বাচিত প্রতিলিপি পাবেন পাঠক।
চণ্ডালিকা, বিশেষ পাণ্ডুলিপি সংস্করণ
সম্পা: অনুত্তমা ঘোষ, শমীক ঘোষ
১০০০.০০
সিগনেট প্রেস
প্রথম প্রকাশ ১৯৯৮-এ, তবু নবরূপে বইটি পুনঃপ্রকাশের গুরুত্ব স্রেফ অন্য প্রকাশনা থেকে বলে নয়, বাংলা ও ভারতীয় থিয়েটারের প্রেক্ষিতে, এবং সমকালের রাজনীতি ও সমাজবাস্তবতার নিরিখে শম্ভু মিত্রের জীবন, কৃতি ও ভাবনার পুনরবলোকন। গ্রন্থভূমিকায় শাঁওলী মিত্র লিখেছিলেন কেন এই বই করা: “শম্ভু মিত্র মহাশয়ের যে-সব লেখা সংকলিত হয়ে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পেয়েছে, অথবা যে-সব লেখা একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো বাদ দিয়ে— যেগুলো আমাদের মনে হয়েছে মূল্যবান অথচ তেমনভাবে মানুষজনের কাছে পৌঁছয়নি— তেমন কিছু লেখা... হয়তো শ্রীমিত্রের মনন এবং চরিত্রের উন্মোচনের ক্ষেত্রে একটা মাত্রা যুক্ত করতে পারে।” কী সেই মাত্রা? শম্ভু মিত্রের ইচ্ছাপত্র মুদ্রিত হয়েছে: “মরবার পরেও আমার দেহটা যেন তেমনি নীরবে, একটু ভদ্রতার সঙ্গে, সামান্য বেশে, বেশ একটু নির্লিপ্তির সঙ্গে গিয়ে পুড়ে যেতে পারে।” থিয়েটার নিয়ে তাঁর কয়েকটি ছোট লেখার পাশাপাশি, পড়া যাবে তাঁর জীবন মনন নিয়ে দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সুচিত্রা মিত্র গৌরীশঙ্কর পাণ্ডা শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখাও।
শম্ভু মিত্র: ধ্যানে ও অন্তর্ধানে
সম্পা: শাঁওলী মিত্র
৪০০.০০
সপর্যা
রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে যৌথ ভাবে গ্রন্থরচনার কৃতিত্বের একমাত্র অধিকারী ছিলেন ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (সুর ও সঙ্গতি, ১৯৩৫)। মরিস কলেজ অব মিউজ়িকে বিষ্ণুনারায়ণ ভাতখণ্ডের আদিকালের শিষ্য ধূর্জটিপ্রসাদ সঙ্গীতজ্ঞ তো বটেই, একই সঙ্গে সমাজতত্ত্ব ও অর্থশাস্ত্রের অধ্যাপক, এবং গল্প-উপন্যাসের লেখকও বটে। রবীন্দ্রনাথ ছাড়াও ঘনিষ্ঠ সঙ্গ করেছেন অতুলপ্রসাদ সেনের; তাঁর বন্ধুতালিকায় ছিলেন জওহরলাল নেহরু। কৃতবিদ্য, প্রবাসী এই বঙ্গসন্তান বর্তমানে গবেষকদের যথেষ্ট মনোযোগ পান না বলে মুখবন্ধে আক্ষেপ করেছেন অভ্র ঘোষ। এই বইটি তাঁর প্রথম জীবনী— ১৯৭০ সালে প্রথম প্রকাশিত। এই সংস্করণে যুক্ত হয়েছে তাঁর জীবনের সংক্ষিপ্ত ঘটনাপঞ্জি, তাঁর গ্রন্থপঞ্জি, ‘রিয়ালিস্ট’ বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের চিঠি, ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী-লিখিত অন্তঃশীলা-র সমালোচনা। তাঁর পুত্র কুমারপ্রসাদের বিভিন্ন বইয়ে ধূর্জটিপ্রসাদ সম্পর্কে যে লেখাগুলি আছে, এখানে তা একত্রিত করা গেলে ভাল হত।
ধূর্জটিপ্রসাদ
অলোক রায়
৩০০.০০
অক্ষর
সুখপাঠ্য এই স্মৃতিচারণে যেমন আছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় শক্তি চট্টোপাধ্যায় হিমানীশ গোস্বামী বিক্রমন নায়ারের মতো মহারথীরা, তেমনই তাতে ঠাঁই পেয়েছেন অখ্যাত জেলার রিপোর্টার— শান্তিনিকেতনের পূর্ণানন্দ চট্টোপাধ্যায় ও শিলিগুড়ির দীনেন চক্রবর্তী; বা ভিন রাজ্যের দুই সংবাদদাতা— রাঁচীর বীরেশ্বরবাবু আর হাজারিবাগের নেপালবাবু। শুধু মানুষ নয়, এই স্মৃতিকথার দু’টি সম্পদ: সংবাদপত্রের ছাপাখানার ক্রমবিবর্তন নিয়ে একটি লেখা, এবং নিউজ় ডেস্কের কাজের ধরনের ভিতরের গল্প। রয়েছে দু’একটি উদ্ভট মজার ঘটনাও— সেগুলো সত্যি হলেও গল্প। সব মিলিয়ে উপভোগ্য সঙ্কলন।
আমার আনন্দ কথা
দীপঙ্কর চক্রবর্তী
৩০০.০০
লা স্ত্রাদা