নতুন সংসদ ভবন তৈরির আগেই লাগোয়া সংসদের অ্যানেক্সি ভবন সাজানো হয়েছিল। এখানেই সংসদীয় কমিটিগুলির বৈঠক বসে। লোকসভার স্পিকারের সাংবাদিক সম্মেলন হয়। কিন্তু সেখানে বাঁদরের উৎপাত। জানলা, দরজা, বারান্দা ঘেরা থাকলেও বাঁদর বাহিনী ছাদ থেকে ফাঁক গলে সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসে। ফলে বাঁদর তাড়ানোর লোক ভাড়া করা হয়েছে। দু’জন বাঁদর তাড়ানোর বিশেষজ্ঞ পালা করে কাজ করছেন। ভবনের প্রতিটি তলে, বিশেষত সিঁড়ির কাছে তাঁদের নাম ও ফোন নম্বর দেওয়ালে সাঁটা। বাঁদর দেখলেই জরুরি তলব। সুপ্রিম কোর্টও বাঁদরে জেরবার। ভিতরে তো বটেই, বিচারপতিদের সরকারি বাসভবনেও বাঁদর বাহিনী হানা দিচ্ছে। প্রথমে হনুমানের মূর্তি বসিয়ে, কাটআউট লাগিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হয়েছিল। সাময়িক কাজ হলেও দু’দিন পরে বাঁদরদের প্রত্যাবর্তন হয়েছে। তাই সুপ্রিম কোর্ট রীতিমতো টেন্ডার ডেকে দু’বছরের জন্য বাঁদর তাড়ানোর সংস্থা নিয়োগ করতে চলেছে। রসিক আইনজীবীরা বলছেন, উপায় কী? বাঁদররা তো আর আদালতের রায়কে ভয় পায় না।
উৎপাত: রাইসিনা হিলের সাউথ ব্লকে বাঁদরের জটলা।
পথের কাঁটা
অনেক রাজনৈতিক দলের দফতর এখনও পুরনো সংসদে। রয়েছে সেন্ট্রাল হলও। তাই নতুন সংসদের মকর দ্বার দিয়ে পুরনো সংসদে হামেশাই যান সাংসদেরা। আর এই গোটা এলাকাটি রাজত্ব করে মার্জার শাবক। হুটহাট বেরিয়ে পড়ে। সাংসদদের পায়ে লুটিয়ে পড়ে, রাস্তা কেটে যায়। সে দিন মকর দ্বারের সিঁড়িতে রোদ্দুরের মধ্যে ঠায় দাঁড়িয়ে তিন সাংসদ। এগোচ্ছেন না। মুখ চাওয়াচাওয়ি করছেন। কারণ, সামনে দিয়ে হেঁটে গিয়েছে ওই বিড়ালটি। তিন জনেরই বিড়ালের পথ কাটায় খুব বিশ্বাস। দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও কেউ না আসায়, শেষ এক নিরাপত্তারক্ষীই এগিয়ে এসে সামনে এগিয়ে যেতেই, সিঁড়ি থেকে নামলেন সাংসদেরা।
বিস্মৃতি
সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে মোদী সরকারের মহিলা সংরক্ষণ আইনে সংশোধনী বিল পাশের পরিকল্পনা নিয়ে প্রবল আপত্তি কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরমের। নালিশ— এর ফলে তামিলনাড়ুর ৩৯ জন বিজেপি বিরোধী সাংসদ ও পশ্চিমবঙ্গের ২৮ জন বিজেপি-বিরোধী সাংসদ লোকসভায় থেকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। রাজ্যের বিধানসভা ভোটের জন্য ব্যস্ত থাকবেন। গত লোকসভা ভোটে তৃণমূল ২৯টি আসন পেয়েছিল। এক জন প্রয়াত। তাই তৃণমূলের এখন ২৮ জন সাংসদ। চিদম্বরম হয়তো তাই পশ্চিমবঙ্গের ২৮ জন বিজেপি-বিরোধী সাংসদের কথা বলেছেন। কংগ্রেস শিবিরে প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে কংগ্রেসেরও এক সাংসদ আছেন। ইশা খান চৌধুরী। অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-বিরোধী লোকসভার সাংসদের সংখ্যা ২৯। চিদম্বরম নিজের দলের বাঙালি সাংসদের কথাই ভুলে গিয়েছেন?
সূচনা: সপরিবার কোয়েল মল্লিক।
‘ছন্দে যে তোর স্পন্দিত’
ইতিহাস কথা বলে পুরনো সংসদের সেন্ট্রাল হলে। রাজ্যসভার কক্ষে তৃণমূলের নতুন চার সাংসদ শপথ নেওয়ার পরই এলেন সেন্ট্রাল হলে, কফি-টোস্ট খেতে। পথপ্রদর্শক দলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী মুগ্ধ তৈলচিত্রগুলিতে। বললেন, গোটা জীবন সংবিধান রক্ষার লড়াই করে আজ সেই সংবিধানেরই গর্ভগৃহে দাঁড়িয়ে আবেগতাড়িত। নতুন সাংসদ কোয়েল মল্লিকের গর্বিত পিতাও এলেন সেন্ট্রাল হলে, সস্ত্রীক, পরিজনদের নিয়ে। অমায়িক হাসি নিয়েই ছবি তোলার আবদার মেটাচ্ছিলেন। রঞ্জিত মল্লিকের স্ত্রী ও তাঁদের এক সঙ্গী দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে রবি ঠাকুরের গান খুঁজছিলেন, রিল-এর জন্য। রঞ্জিত সদ্যপরিচিত সাংবাদিকের মত চাইলেন। ‘নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়’ গানটির পরামর্শে খুবই খুশি দম্পতি।
গুজিয়ায় জবাব
এসপি প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিংহ যাদবের চলতি নামই ছিল ‘মৌলা মুলায়ম’। বিরোধীদের অভিযোগ, অখিলেশও পিতৃ-ঐতিহ্য মেনে শুধুমাত্র ইদ আর ইফতারের নিমন্ত্রণে হাজির থাকেন! জবাবে লখনউতে দলীয় সদর দফতরে অখিলেশের আয়োজন ‘গুজিয়া সেবা’। সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা ও পেটপুজোর জোড়া উদ্দেশ্যে। লোকগান, কাওয়ালি ছিল। সঙ্গে পর্দায় ভিডিয়ো। উপস্থিত শিল্পীদের প্রার্থনা, তিনি ’২৭-এ মুখ্যমন্ত্রী হন। পরিবেশিত হল গুজিয়া, সিমুই, ছোলে ভাটুরে, বাটি চোখার মতো পদ।