Delhi Diary

দিল্লি ডায়েরি: বঙ্গবিজয়ের পর ঝালমুড়ি-উৎসব

দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কে বাঙালি পাড়ায় দীর্ঘ দিনের ঝালমুড়ি বিক্রেতা নদিয়ার অখিলবাবু। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরের দিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে দিল্লির ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টারে তাঁকে আনা হল ঝালমুড়ি বিতরণের জন্য।

প্রেমাংশু চৌধুরী, অগ্নি রায়, অনমিত্র সেনগুপ্ত
শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ০৭:৫৯

প্রধানমন্ত্রী ঝাড়গ্রামে দশ টাকার ঝালমুড়ি কেনার পর তা বিজেপির প্রায় জাতীয় খাদ্য! ফল প্রকাশের পর সরকার এবং বিজেপি মাতল ঝালমুড়ি উৎসবে। দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কে বাঙালি পাড়ায় দীর্ঘ দিনের ঝালমুড়ি বিক্রেতা নদিয়ার অখিলবাবু। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরের দিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে দিল্লির ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টারে তাঁকে আনা হল ঝালমুড়ি বিতরণের জন্য। মন্ত্রিসভার বৈঠকে যে দিন যে রাজ্যের প্রকল্প মঞ্জুর হয়, সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিক, আমলাদের জন্য সে দিন এমনিতেই সেই রাজ্যের জলখাবার থাকে। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলকে পরাজিত করার আনন্দ উদ্‌যাপনে ঝালমুড়ির সঙ্গে মিষ্টিমুখ হল সন্দেশে। কেন্দ্রীয় তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও কাগজের ঠোঙায় মজলেন ঝালমুড়িতে।

আস্বাদন: বাংলায় বিজেপির জয়ের আনন্দে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।

আস্বাদন: বাংলায় বিজেপির জয়ের আনন্দে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।

শুক্তোনিতে ঘি!

বিজেপিকে জেতাতে বাংলায় তিন-চার মাস টানা পড়েছিলেন কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। অমিত শাহ ঘনিষ্ঠ ওই নেতাকেই অনেকেই জয়ের অন্যতম মূল মস্তিষ্ক বলছেন। রাজস্থানের বাসিন্দা ভূপেন্দ্র বৈষ্ণব। পেঁয়াজ-রসুনও ব্রাত্য তাঁর খাবারে। দীর্ঘ সময় ভোট প্রচারে রাজ্যে থাকায় বাংলার নিরামিষ খাবারে ভালবাসা জন্মেছে তাঁর। দিল্লির বাঙালি সাংবাদিকদের জানালেন, শুক্তো সবচেয়ে পছন্দ, প্রথম পাতে খেয়ে অভিভূত। জয়ের আনন্দে বাঙালি সাংবাদিকদের তাঁর রাজ্যের জনপ্রিয় খাবার ডাল-বাটি-চুরমা খাওয়াবেন— জানিয়েছেন।

বাজল ছুটির ঘণ্টা

রাজ্যের ভোট বা লোকসভা নির্বাচন— কংগ্রেসের ‘সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলিতেছে’! দুপুরের মধ্যে ভোটগণনার গতিমুখ অনুযায়ী নয়াদিল্লির সদর দফতরে ভিড়ের হার বাড়ে, কমে। যদি মুখ থুবড়ে পড়ে দল, কয়েকটি কাক আর চিল ছাড়া খাঁ-খাঁ করে কার্যালয়। নেতা কেন, কর্মীরও টিকির দেখা নেই। জিতলে উল্টো। মেলা বসে যায়। কেরল, তামিলনাড়ু, অসম, বাংলার ভোটের পর ছবিটা অন্য রকম। কেরলে দীর্ঘ দিন পর কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জিতছে। বিকেল পাঁচটায় প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ ও জনসংযোগ দফতরের প্রধান পবন খেরার সাংবাদিক বৈঠক ঘোষণা হল। ভিড়ভাট্টাও শুরু। কিন্তু দেখা গেল অন্য রাজ্যের ফলাফল আশানুরূপ নয়। বিশেষত অসমে। যে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মাকে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে অসম পুলিশের অভিযান থেকে বাঁচতে কার্যত গা ঢাকা দিতে হয়েছিল খেরাকে। সুপ্রিম কোর্টে আগাম জামিন পেয়ে ফের প্রকাশ্যে আসেন। শেষ পর্যন্ত বাতিল হল সাংবাদিক সম্মেলন। শোনা গেল, ভোটগণনার দিন রাহুল গান্ধী না কি দেশেই ছিলেন না। মাসকটে ছুটি কাটাচ্ছিলেন। প্রশ্ন উঠবে ভেবেই না কি সাংবাদিক সম্মেলন বাতিল!

আইন জগতের গল্প

কেন্দ্রীয় সরকারের প্রথম সলিসিটর জেনারেল প্রবাদপ্রতিম আইনজীবী সি কে দফতরি। ১৯৫০ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত টানা ১৩ বছর, সবচেয়ে দীর্ঘ সময় সলিসিটর জেনারেল থাকার রেকর্ড এখনও তাঁর দখলে। এর পর তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল হয়েছিলেন। কেন্দ্রের বর্তমান সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা গত আট বছর ওই পদে থেকেও রেকর্ড করেছেন। গুজরাতের এই আইনজীবী অমিত শাহের একান্ত আস্থাভাজন। সুপ্রিম কোর্ট, দিল্লি হাই কোর্ট, প্রয়োজনে রাউস অ্যাভিনিউ কোর্ট বা পাটিয়ালা হাউস কোর্টে কেন্দ্রীয় সরকার বা ইডি, সিবিআই-এর হয়ে মামলা লড়াইয়ের ব্যস্ততার মধ্যেই তিনি দু’টি বই লিখেছেন। আইন জগতের বিচিত্র চরিত্র ও মজার গল্প নিয়ে। আজ জোড়া বইয়ের প্রকাশ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, অ্যাটর্নি জেনারেল আর বেঙ্কটরমনি থাকবেন। অবশ্যই থাকবেন অমিত শাহ। সব রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলরাও আমন্ত্রিত।

আস্থাভাজন: তুষার মেহতা।

আস্থাভাজন: তুষার মেহতা।

এক চুল ভুলে

বাংলায় ভোটের ফলাফলের সঙ্গে অনুপম খের ও তাঁর মাথার চুল বা চুলবিহীন মাথার সম্পর্ক বেরোল! বিজেপির জয়ের পরে শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য, আকাশ মাটি ছুঁতে পারে, সমুদ্র আকাশ ছুঁতে পারে, অনুপম খেরের মাথায় ফের চুল গজাতে পারে, কিন্তু তৃণমূলের ক্ষমতায় ফেরা স্বপ্নের অতীত ছিল। অনুপম খের শমীককে মজা করে বলেছেন, “আপনি কি চান আমার মাথায় চুল গজাক! এই পরিস্থিতিতে আমি কোন দিনও চাইব না!”


আরও পড়ুন