Artificial Intelligence

সম্পাদক সমীপেষু: নতুন এক দিগন্ত

এই প্রযুক্তির দৃশ্যমান চেহারার আড়ালে যে মৌলিক শক্তি কাজ করে, তা হল গণিত। প্রশ্নটা স্বাভাবিক— ভবিষ্যতে কি এআই গণিতকে অপ্রয়োজনীয় করে দেবে? বাস্তবে ডিপ লার্নিং, গ্রাফ নিউরাল নেটওয়ার্ক কিংবা কোয়ান্টাম মেশিন লার্নিং— সব ক্ষেত্রেই নতুন গাণিতিক তত্ত্ব তৈরি হচ্ছে।

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:২৬

বিশ্বদীপ সেনশর্মার ‘এআই আর কল্পনার ভবিষ্যৎ’ (২০-২) প্রবন্ধ প্রসঙ্গে কয়েকটি কথার সংযোজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের জীবনে ঝড়ের মতো নয়, বরং বাতাসের এক সূক্ষ্ম পরিবর্তনের মতো প্রবেশ করেছে। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবন, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ইত্যাদির সচেতনতা ও পরিষেবার বাইরেও বহু কার্যপদ্ধতি পরিচালনা করে। এর সব কিছুর পিছনেই কাজ করে মেশিন লার্নিং।

এই প্রযুক্তির দৃশ্যমান চেহারার আড়ালে যে মৌলিক শক্তি কাজ করে, তা হল গণিত। প্রশ্নটা স্বাভাবিক— ভবিষ্যতে কি এআই গণিতকে অপ্রয়োজনীয় করে দেবে? বাস্তবে ডিপ লার্নিং, গ্রাফ নিউরাল নেটওয়ার্ক কিংবা কোয়ান্টাম মেশিন লার্নিং— সব ক্ষেত্রেই নতুন গাণিতিক তত্ত্ব তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ, এআই গণিতকে প্রতিস্থাপন করছে না, বরং গণিতের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। গণিত ও এআই-এর সম্পর্ক একমুখী নয়, পারস্পরিক। তবুও, এই নীরব বিপ্লবের আড়ালে লুকিয়ে আছে এমন একটি প্রশ্ন— এআই কি মস্তিষ্ক ও মানবতাকে পরাভূত করবে, না কি মস্তিষ্ক ও মানবতা প্রজ্ঞা দিয়ে এআই-কে পরিচালনা করতে শিখবে? মানুষের চেয়ে দ্রুত গতিতে যে সমস্যা সমাধান করে, সে কি মানুষের চিন্তাকেও অপ্রয়োজনীয় করে দেবে?

ধরুন, নেমেছেন এক অজানা স্টেশনে। বসেছেন রিকশায়। দিয়েছেন ঠিকানা। রিকশাওয়ালা কিন্তু গুগল ম্যাপের মতো বিশাল ডেটা ব্যবহার করেন না। তাঁর মস্তিষ্কে সংরক্ষিত মানচিত্র ব্যবহার করেন। কিন্তু ক্যাবের এআই সার্ভারকে প্রতি বার যাত্রাপথ বার করতে হয় বিশাল তথ্যভান্ডার থেকে হিসাব কষে।

আবার ধরুন, বাংলা ব্যাকরণ শিখে আপনি যে কোনও বিষয়েই বাংলা প্রবন্ধ লিখতে পারবেন। এমনকি ইংরেজি প্রবন্ধও লিখতে পারবেন— শুধু ইংরেজি ব্যাকরণ শিখে নিয়ে এবং কিছু শব্দভান্ডার আয়ত্ত করলেই। এআই মানুষের চেয়ে দ্রুত গতিতে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে, নিখুঁত ভাবে বিশাল ডেটা মনে রাখতে পারে, একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ‘জেনারেটর’। কিন্তু সমস্যা শুরু হয়, যখন তাকে একের পর এক নতুন কাজ শেখাতে হয়; তখন পুরনো কাজের জন্য ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক বদলে যায় অথবা নষ্ট হয়ে যায়।

মস্তিষ্ক এবং বর্তমান এআই— বুদ্ধিমত্তার দুই আলাদা প্রজাতি। একটি অন্যটির উন্নততর সংস্করণ নয়; বরং একে অন্যের পরিপূরক। এআই মানুষের ভূমিকাকে হ্রাস করে না, বরং তাকে আরও তীক্ষ্ণ করে তোলে।

সুপ্রিয় দেবরায়, বরোদা, গুজরাত

এবং আশঙ্কা

স্বাগতম দাসের ‘অদৃশ্য সহকর্মীর যুগে’ (২৫-২) শীর্ষক প্রবন্ধটি যথোপযুক্ত ও সময়োপযোগী। প্রযুক্তি-বিবর্তনের ইতিহাসে ‘এআই’, অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা— মানুষের সহায়ক না কি প্রভু— তা নিয়ে প্রবন্ধে বিস্তর আলোচনা মনোগ্রাহী।

মানুষের সহায়তার কালক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রথমে ‘এজেন্ট’, পরে ‘সফটওয়্যার এজেন্ট’ এবং সর্বশেষে ‘এআই এজেন্ট’ নামে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে হুবহু মানুষের মতো পরিকল্পনা, পরামর্শ, তথ্য প্রদান প্রভৃতি ক্ষেত্রে এআই এজেন্টের ভূমিকা এক দিকে যেমন গ্রহণযোগ্য, অন্য দিকে তেমনই আশঙ্কাজনক। প্রশ্ন ওঠে, ভবিষ্যতের এআই প্রযুক্তি মানুষের প্রভু হয়ে উঠবে না তো?

তবে আশ্বাসের বিষয় এটাই যে, এআই এজেন্ট অদৃশ্য সহকর্মী হলেও, আদতে তা বিজ্ঞান-প্রযুক্তিরই এক উন্নত প্রয়োগকৌশল। মানুষের লক্ষ্য বুঝে এই প্রযুক্তি নিমেষে অসংখ্য সফটওয়্যারের তথ্যভান্ডার উজাড় করে মানুষের প্রয়োজন মেটায়।

বিজ্ঞানীদের অনুমান, আগামী দিনে ‘মাল্টি-এজেন্ট সিস্টেম’ মানুষের জীবনযাত্রা বদলে দিতে পারে। প্রশ্ন হল, মানুষের লিখিত অভিজ্ঞতার বিশাল তথ্যভান্ডার থেকে যদি এআই এজেন্ট ভুল বা মিথ্যা প্যাটার্ন শিখে নিয়ে তা সত্য বলে চালায়, তা হলে কী হবে?

অবশ্য একটি বিষয়ে বিজ্ঞান আজও নিশ্চিত নয়— মানুষের চেতনা বা ‘কনশাসনেস’ কী। প্রশ্ন থাকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিত্তিতে এআই এজেন্ট কি ‘কনশাসনেস’ অর্জন করে মানুষের উপর প্রভুত্ব কায়েম করবে?

অমরেশ পাল, ব্যান্ডেল, হুগলি

শিক্ষার সঙ্কট

রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির বর্তমান অবস্থা সন্তোষজনক নয়। বহু ক্ষেত্রে শিক্ষক-স্বল্পতার কারণে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি বহু বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই, যার ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই পর্যাপ্ত শিক্ষক ও প্রয়োজন অনুযায়ী স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা উচিত। পরিকাঠামোগত দিক থেকেও অনেক স্কুল পিছিয়ে। ডিজিটাল ক্লাসরুম, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও আধুনিক শিক্ষাসামগ্রীর ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতির পদে এমন দায়িত্বশীল ও সময় দিতে সক্ষম ব্যক্তিকে নির্বাচন করা উচিত, যিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা নেবেন।

পরিচালন সমিতির অন্য সদস্যদেরও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচন করা উচিত। বিদ্যালয়-পরিদর্শকেরা যাতে আরও বেশি করে বিদ্যালয়গুলিতে এসে নানা বিষয়ে খোঁজখবর নিতে পারেন, সে ব্যবস্থা প্রশাসনকে করতে হবে। বিদ্যালয়গুলিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা ও সমর্থন বৃদ্ধি করাও দরকার, যাতে স্কুলকে ঘিরে একটি ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশ তৈরি হয়।

অসীম কুমার মিত্র, আমতা, হাওড়া

শ্রীবৃদ্ধির জন্য

আমি রবীন্দ্র সরোবর-এর সৌন্দর্যায়ন নিয়ে কয়েকটি কথা জানাতে চাই। দক্ষিণ কলকাতার এই লেক আমাদের শহুরে জীবনে সবুজ প্রকৃতির ছোঁয়া। সকালে ও সন্ধ্যায় হাজার হাজার মানুষ এখানে হাঁটতে আসেন এবং বিনামূল্যে শুদ্ধ অক্সিজেন পান। চার পাশে দেশীয় গাছপালা, পাখি এবং লেকে বড় বড় মাছ মুগ্ধ করে। গত কয়েক বছরে এখানে সৌন্দর্যায়নের কাজ দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত।

তবে ইউরোপের মতো উন্নত দেশের পার্কগুলির সঙ্গে তুলনা করলে আমরা অনেকটাই পিছিয়ে আছি। এই সুন্দর লেক এলাকায় যদি আরও কিছু সৌন্দর্যায়নের ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো যোগ করা যায়, তবে এটি পর্যটকদের জন্যও আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, এখানে মা দুর্গা-কেন্দ্রিক বিশেষ সংগ্রহশালা আছে, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বা পর্যটক এ বিষয়ে জানেন না। এটি সমাজমাধ্যমে প্রচার করা উচিত। বর্তমানে দুর্গামূর্তির সংখ্যা খুবই কম, অথচ পার্কটি বিশাল। আরও অনেক দুর্গামূর্তি স্থাপন করা যেতে পারে। প্রতিটি মূর্তির সঙ্গে শিল্পী, পূজার বৈশিষ্ট্য ও ধারণা সম্পর্কে বর্ণনা থাকা উচিত। একটি ছোট গ্যালারিতে দুর্গাপূজা নিয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা যেতে পারে। এ ছাড়া একটি সুভেনির শপ খোলা যেতে পারে। প্রশিক্ষিত গাইডও দরকার।

উন্নত মানের শৌচাগারের ব্যবস্থা জরুরি। বিদেশিদের আকর্ষণ করতে আন্তর্জাতিক মানের শৌচাগার থাকা উচিত। লেকের ফোয়ারা, লিলি পুকুরগুলির সংস্কার করা উচিত। এই উদ্যোগগুলি সফল হলে রবীন্দ্র সরোবর আরও আকর্ষণীয় হবে।

শতাব্দী মণ্ডল, কলকাতা-৩৩

ফের দুর্ভোগ

আজ বিশাল সংখ্যক ভোটারের এই অনিশ্চয়তা-জনিত দুরবস্থার সঙ্গে কিছুটা তুলনা করা যায় সেই সব শিক্ষকের, যাঁরা দীর্ঘদিন চাকরিতে নিয়োজিত থাকার পর জানতে পারলেন, অর্থের বিনিময়ে যাঁরা চাকরি জোগাড় করেছেন, সেই সন্দেহভাজন শিক্ষকদের তালিকায় তাঁদের নামও ঠাঁই পেয়েছে।

গৌরীশঙ্কর দাস, খড়্গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর

আরও পড়ুন