Late for School

সম্পাদক সমীপেষু: শিক্ষার্থীর স্বার্থে

অনেক সময় দেখা যায় যে দেরির জন্য ছাত্রদের যখন স্কুলের গেট থেকে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তখন কোনও শিক্ষক অনায়াসেই স্কুলে ঢুকছেন।

শেষ আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ ০৮:১৭

রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে প্রবেশ সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশের একটি ছোট্ট পরিবর্তনের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করতে চাই। বর্তমান নিয়মে ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিদ্যালয়ে প্রবেশের শেষ সময় সকাল দশটা বেজে চল্লিশ মিনিট। এর পরে তাদের বিদ্যালয়ে ঢোকার অনুমতি নেই। প্ৰথম ক্লাস শুরু দশটা পঞ্চাশে। অথচ শিক্ষকরা চাইলে এগারোটা পনেরো পর্যন্ত স্কুলে ঢুকতে পারেন। যদিও এর জন্য লেট মার্কিং-এর ব্যবস্থা থাকে, কিন্তু এর উপযুক্ত শাস্তি না থাকায়, অনেকেই তা গ্রাহ্য করেন না।

অনেক সময় দেখা যায় যে দেরির জন্য ছাত্রদের যখন স্কুলের গেট থেকে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তখন কোনও শিক্ষক অনায়াসেই স্কুলে ঢুকছেন। এতে জনমানসে ভুল বার্তা যায়, অভিভাবক ও ছাত্ররা না বুঝে স্কুলের প্রশাসনকে দোষারোপ করে। দীর্ঘ সময় ধরে এই নিয়ম চলে আসছে, যা অযৌক্তিক এবং ছাত্রস্বার্থের পরিপন্থী। ছাত্র-শিক্ষক উভয়কে নিয়েই যে-হেতু বিদ্যালয়ের কাজকর্ম শুরু হয়, তাই অবিলম্বে এই নিয়ম পাল্টে ছাত্র-শিক্ষক সকলের জন্য একই সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়ে ঢোকা বাধ্যতামূলক করা হোক। বিদ্যালয়ে শিক্ষকরাই ছাত্রদের আদর্শ। তাঁরাই যদি নিয়ম না মানেন, তবে ছাত্ররা কী শিখবে?

আনন্দ বক্সি, কলকাতা-৩১

পথ সংস্কার

কয়েক দিন আগে আমরা আন্দামান ভ্রমণে গিয়েছিলাম। ভ্রমণের কয়েকটি জায়গার মধ্যে অন্যতম ছিল রস ও স্মিথ আইল্যান্ড, যেটি পোর্ট ব্লেয়ার থেকে প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। জাতীয় সড়ক-৪ দিয়ে যেতে হয়। সড়কটির অবস্থা ভাল নয়। যাত্রাপথে বার্জে করে গাড়ি ও যাত্রী পারাপার বিশেষ সময়সাপেক্ষ ও কষ্টদায়ক। এই জলপথ পার হওয়ার জন্য একটা ব্রিজ হচ্ছে বটে, তবে তার কাজের গতি এত শ্লথ, কবে যে শেষ হবে বলা মুশকিল। একটা পর্যটন কেন্দ্র যেটা থেকে সরকারের প্রচুর দেশি ও বিদেশি মুদ্রা আয় হয়, তার পরিকাঠামো এত দুর্বল কেন? প্রতি বছর আমাদের মতো যে অসংখ্য পর্যটক এই দ্বীপভূমিতে আসেন, তাঁদের স্বার্থে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান জরুরি। প্রয়োজন, বেহাল এন এইচ-৪’এর সংস্কারও।

অলোক ভট্টাচার্য, কলকাতা-৫৬

পাঠাগার

সাম্প্রতিক কালে আমাদের রাজ্যের সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত লাইব্রেরিগুলিতে পাঠক-পাঠিকার উপস্থিতি অস্বাভাবিক ভাবে কমে গেছে। অন্য দিকে, সরকারের তরফে অনুদানও মিলছে নামমাত্র। ইন্টারনেট এসে এমনিতেই বই পড়ার অভ্যাসে প্রভাব ফেলেছে। তবে তা প্রতিহত করতে বিকল্প কোনও ব্যবস্থাও করা যায়নি।

যাঁরা সদস্য আছেন, তাঁদের বেশির ভাগ কেন লাইব্রেরিতে আসতে চাইছেন না, সেটা কি কোনও ভাবে জানার চেষ্টা হয়েছে? রিডিং রুমে পত্রিকা বা সংবাদপত্র পড়তে কেন কেউ থাকছেন না? স্কুল-কলেজের রেফারেন্স বই পড়ার ছাত্রছাত্রী কোথায়? শুধুমাত্র সদস্য বা পাঠক-পাঠিকার অনীহার যুক্তি না দেখিয়ে লাইব্রেরি পরিচালনার ক্ষেত্রেও কোনও খামতি আছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার।

কিশোর বয়স থেকে লাইব্রেরির পাঠক হিসেবে বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত যে সমস্ত গ্রন্থাগারিককে সামনে থেকে দেখেছি, তাঁদের আন্তরিকতা, সহযোগিতা, আর লাইব্রেরির বইগুলির প্রতি অসীম ভালবাসা মুগ্ধ করেছে। লাইব্রেরির সদস্যদের সঙ্গেও তাঁদের ছিল নিবিড় যোগাযোগ। পাঠক-পাঠিকাদের সঙ্গে এই নিয়মিত যোগাযোগটা খুব দরকার। লাইব্রেরি বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য শোনা, সুবিধা-অসুবিধা জেনে নেওয়াটাও দরকার। কেননা, এই পেশায় দায়সারা ভাব চলে না, শিক্ষিত সমাজ গড়ে তোলার পিছনে লাইব্রেরির ভূমিকা অনেকখানি।

স্কুলগুলিতে যেমন পর্যবেক্ষকদের নিয়মিত স্কুল পরিদর্শন করার নিয়ম আছে, লাইব্রেরিগুলিতেও ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকরা এমন পরিদর্শন করে বাস্তব অবস্থা দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করলে সেগুলির হারানো গৌরব ফেরানো সম্ভব।

অরূপরতন আইচ, কোন্নগর, হুগলি

খাবারে রং

কলকাতার বাজারগুলিতে কয়েক জন অসাধু ব্যবসায়ী মিষ্টি আলুকে আরও উজ্জ্বল এবং লালচে করার জন্য এক ধরনের ক্ষতিকর কৃত্রিম রাসায়নিক ব্যবহার করছেন। এটি স্বাস্থ্যের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ। আলুকে উজ্জ্বল লালচে দেখানোর জন্য যে বিষাক্ত রাসায়নিকটি ব্যবহার করা হচ্ছে তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রোডমিন-বি, যা দ্য ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া দ্বারা অনুমোদিত নয়। ভেজাল আলুর গায়ে হাত দিলে কিংবা টিস্যু পেপার বা ভিজে তুলো দিয়ে ঘষলে লাল আভা উঠে আসে। জলে কিছু ক্ষণ ডুবিয়ে রাখলেও, তা রঙিন জলে পরিণত হয়। প্রাকৃতিক ভাবে লাল বা মিষ্টি আলু কিন্তু খুব বেশি চকচকে উজ্জ্বল হয় না। ক্রেতা আসল মিষ্টি আলু চিনতে পারলে নকল‌ও সহজে ধরা পড়বে। কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, এই বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর পদক্ষেপ করা হোক।

সুব্রত পাল, কলকাতা-৩৮

বিঘ্নিত পড়াশোনা

‘পাঠশালা বন্ধ’ (১১-৩) শীর্ষক সম্পাদকীয়টি পড়লাম। রাজ্যের ‘পাঠশালা’গুলিতে পঠনপাঠনে শোচনীয় পরিস্থিতি নিয়ে সম্পাদকীয়ের উদ্বেগ সঙ্গত। সরকার বিদ্যালয় তৈরি করেছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে বিনামূল্যে পাঠদান করার জন্য। কিন্তু সেই বিদ্যালয়গুলিতে পাঠদানের কাজ ঠিকঠাক হয় কি না, সরকারের সেই দিকে বিশেষ নজর নেই। বহু স্কুল ভবনেরই অবস্থা শোচনীয়, তার উপর নেই প্রয়োজনীয় ‌শিক্ষক-শিক্ষিকাও। এই সব স্কুলে পঠনপাঠন ঠিকমতো হয় না বলেই বর্তমানে এখানে পড়ুয়ার সংখ্যা ক্রমশ কমছে।

এর উপর স্কুলগুলি নানা সময়ে দখল হয়ে যায় বিবিধ সরকারি কাজে। কখনও ভোটার তালিকা তৈরি, কখনও এসআইআর-এর, আবার কখনও বুথ-কেন্দ্র তৈরির কাজে। ভোটের প্রাক্কালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়োগ করা হয় রাজ্যে। ফের কোপ পড়ে স্কুলগুলিতে। জওয়ানদের মাসাধিককাল থাকা, খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পঠনপাঠন শিকেয় তুলে পাঠশালাগুলিকে নির্বাচন কমিশনের হাতে সমর্পণ করতে বাধ্য হয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। ফলে যতটুকু পড়াশোনা হত, তা-ও ব্যাহত হয় সরকারি কার্যকলাপে। তা ছাড়া স্কুল থেকে চলে যাওয়ার সময় ভবন পরিষ্কার করার কথা এই বাহিনীর সদস্যদের মাথায় থাকে না।

পাঠশালাগুলিতে যাতে কোনও সময় পঠনপাঠনে ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয়, তার জন্য সরকারের উচিত প্রতিটি মহকুমায় অতিথিশালা নির্মাণ করা। নানা কাজে এমনকি কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকার সমস্যার সমাধানও হয়ে যাবে এর ফলে।

অতীশচন্দ্র ভাওয়াল, কোন্নগর, হুগলি

নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম

দক্ষিণ-পূর্ব রেলপথে আন্দুল স্টেশন থেকে আপ লাইনে, অর্থাৎ খড়্গপুরের দিকে যেতে হলে, চার অথবা পাঁচ নম্বর (যা একই প্ল্যাটফর্মের দু’দিক) প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেন ধরা যায়। কিন্তু ডাউন লাইনে, অর্থাৎ হাওড়ার দিকের ট্রেন কখনও দুই, কখনও তিন আবার কখনও চার নম্বর প্ল্যাটফর্মে আসে। ফলে, অধিকাংশ সময়ে ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের হুড়মুড়িয়ে প্ল্যাটফর্ম পাল্টাতে হয়। নয়তো ওভারব্রিজে ঘোষণার প্রতীক্ষায় থাকতে হয়। তাড়াহুড়োয় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই রেল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, ডাউনের ট্রেন দুই ও তিন নম্বরের মধ্যে নির্দিষ্ট করা হোক।

স্বপন কুমার ঘোষ, মধ্য ঝোড়হাট, হাওড়া

আরও পড়ুন